প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মদিনে বাংলাদেশ প্রেস পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২০ |

নাছির ধ্রুবতারা ■ বাংলাদেশ প্রেস

' তুমি চিরদিন রবে আমাদের অন্তরে,জয় বাংলা মিছিলের শ্লোগানে-শ্লোগানে, বজ্রমুষ্টিবদ্ধ উদ্বেলিত শত সহস্র কোটি হাতে আমাদের ধমনী শিরায়, নির্বোধ ঘাতক জানেনা মরনে থামেনা জীবন, বেহেস্তে ফুটুক ফুল- ছড়াক সৌরভ  তোমার  জন্য প্রতিটি ক্ষনে ক্ষনে, আমরা আছি তোমার লাল রক্তে সিক্ত রাজপথে, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমানের সংগ্রামে, তোমরাই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, বঙ্গমাতা তুমি ঘুমাও নিশ্চিন্তে ওপারে।'

' শেখ মুজিবুর রহমান' হতে 'বঙ্গবন্ধু' আর 'বঙ্গবন্ধু' হতে 'জাতির পিতা' হয়ে উঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যাঁর তিনি হলেন তাঁরই সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রেনু। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও সারা জীবন বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস ও মনোবল যুগিয়েছেন। বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রেনু ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা ও পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। চাচাতো ভাই শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বেগম ফজিলাতুন্নেছার বিয়ে হয়। বঙ্গমাতা হলেন সেই মহীয়সী নারী যিনি বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের সব কষ্টকে জয় করেছেন। পাদপ্রদীপের আড়ালে থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ‘রেণু’ (বেগম মুজিবের ডাক নাম)। ছিলেন জাতির পিতার প্রধান সহযোদ্ধা, পরামর্শদাতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষী। বঙ্গবন্ধু যখন ছাত্র রাজনীতিতে ব্যস্ত তখনও তাঁর জীবন সঙ্গিনী প্রিয় রেনু হাত খরচের টাকা জমিয়ে স্বামীকে দিতেন, বাঙালীর মুক্তির আন্দোলনের জন্য। স্বামীর জন্য কষ্ট করলেও কখনও কোন অনুযোগ ছিল না। পারিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে সন্তানদের লালন পালন করেছেন আর সাহস এবং উৎসাহ যুগিয়েছেন স্বামীকে। তাঁর দায়িত্বশীলতার জন্য পরিবার বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। বঙ্গমাতা এমন একজন নারী, যিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন- স্বামীর রাজনৈতিক আদর্শের জন্য; দেশের মুক্তির জন্য। অভাব-অনটন, কষ্ট, বিড়ম্বনা নীরবে সহ্য করেছেন। কারো কাছে কোন অনুযোগ করেননি, কখনো রাগ করেননি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে যখন প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয় তখন ঘৃণাভরে বেগম মুজিব তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই সিদ্ধান্ত বাঙালীর মুক্তির সংগ্রামে বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বার বার পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি জীবন-যাপন করছিলেন, তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তার কাছেই ছুটে আসতেন। এসময় তিনি তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা ছিলেন একাত্মা। একইসঙ্গে ছিলেন সুখ-দুঃখে-উৎসবে-সংগ্রামে। জীবনের কঠিনতম সময়ে তাঁরা পার করেছেন পারস্পরিক বিশ্বাস আর শ্রদ্ধায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাকেও ঘাতক-খুনিচক্র হত্যা করে। স্বামী, তিনপুত্র এবং দুই পুত্রবধূর সাথে তিনিও শাহাদাত বরণ করেন।  বঙ্গমাতা হলেন সেই নারী, যিনি বাঙালীর মুক্তির জন্য স্বামীকে উৎসর্গ করেছেন। অবিচল আস্থা রেখেছেন স্বামীর আদর্শের প্রতি। মহিয়সী গরবিনী বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মদিনে বাংলাদেশ প্রেস পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী।