স্বস্থি অস্বস্থির শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে অনেকেই

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২০ |

সৈয়েদা কোরেশা খাতুন

কারোবা কাজ নাই,অথবা বেতন পাচ্ছননা বা অর্ধবেতন। কি করে চলবে সংসারের চাকা। বাড়ী ভাড়ার যোগান নাই আবার বাড়ীওয়ালা তারওতো চলতে হবে। করুণ হতাশ চোখে ছেলে মেয়েরা মন খারাপের দেশে যেন যাচ্ছে! অথচ একসময় এই গ্রামের বাড়ীতে বিভিন্ন ছুটি বা উৎসবে  যাওয়ার কত আকুলতা।যানবাহনে সংকুলান ছিলোনা তবু যেন মোটামুটি  যুদ্ধ করেও ক্লান্তিবীহিন মানুষ শহর ছেড়েছে আবার ফিরেছে নুতুন উন্মাদনায়, নতুন আনন্দে যার যার ব্যবসা,চাকুরী,স্কুল,

কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরেছে। ছাত্ররা লেখাপড়া কোচিং-এ  ব্যাস্ত।ছাত্ররা শিক্ষক অনেকেই টিউশনে।

মায়েরা ছেলেমেয়ের হাতধরে ভীষন ব্যস্ত তাদের শিক্ষাজীবনের সহায়তায়। ক্লান্তিহীন যেন সে সপ্ন সন্তানদের নিয়ে! অথচ আজ এই চিরচেনা দৃশ্য উধাও।  পথে পথে ছেলেমেয়েদের চটপটি,ফুচকা, ঝালমুড়ি, বাদাম খাজয়ার সেই চকমকে ছবি কিছুই আর নেই। আর কবে জীবন আবার এমন হবে তাও জানা নাই। সেখানেই জীবনের সবচেয়ে নিরাপত্তা হীনতা।আর সর্বোপরি  সবার মনে সেই ভয় কে কবে কখন সংক্রামিত হবে অথবা প্রিয়জন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে।

আমরা বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবী দেখিনি।এমনকি দেশভাগও নয়।তবে বাবামার কাছ থেকে মন্বন্তর  ও দেশভাগে মানুষের  দূর্ভোগ আর দুঃসময়ের কথা জেনেছি। আর আমাদের  প্রজন্মে দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের  সেই ভয়াবহ দিন। শোক, দুঃখ,অভাব, প্রিয়বিয়োগ,হারিয়ে যাওয়া, নাফেরা অথবা পঙ্গুত্ব নিয়ে  বা ধর্ষিত হয়ে মরে যাওয়া বা ফেরা,প্রতি মুহূর্তের  ভয় সংকটের পরও অসীম আশায় মানুষ দিন গুনেছিলো একটি পতাকার,জাতীয়সংগীত,একটি সংবিধান, মানচিত্র আর ভুখন্ডের প্রত্যাশা।

আরর যখন তা পূর্ণ হয়েছে আবার নতুন উদ্যমে মানুষ চেষ্টা করেছে বাঁচার।নানা ভুলত্রুটি,দক্ষতা অদক্ষতা দিয়ে আমরা প্রায় অর্ধশতাব্দী  পার হয়ে এসেছিলাম।

কিন্তু  আজ এক মহামারী মহাপ্রলয়ের চেয়েও আমাদের  অসহায় করে দিয়েছে। আজকের বিজ্ঞাননিষ্ঠ পৃথিবীও এর কূল কিনারা কিছুই খুঁজে পাচ্ছেনা। আমরা জানিনা এই অজানা পৃথিবীর  সাথে আমাদের আরও কতদিন কাটাতে হবে!

লেখক-  অবসর প্রাপ্ত সরকারি কলেজ শিক্ষক