ঘরে বসে স্টিম থেরাপিতে হোক রূপচর্চা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২০ |

লাইফস্টাইল ডেস্ক, বাংলাদেশ প্রেস

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দি মানুষ। রূপচর্চার জন্য পার্লারে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমন অবস্থায় ঘরে বসেই ত্বকের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পারেন আপনি। এছাড়া বর্ষা শুরু হয়েছে। এই সময়ে ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। ঘরে বসে রূপচর্চার ক্ষেত্রে নিতে পারেন স্টিম থেরাপি বা গরম পানির ভাব। ত্বকে স্টিমের সুফলের পাশাপাশি ঠান্ডা লাগার সমস্যাও দূর হবে।


স্টিমের উপকারিতা



স্টিমের প্রধান কাজ ত্বকের ভিতরের স্তরে ঢুকে ময়লা বার করে আনা। গরম বাষ্পের স্পর্শে ত্বকের উপরের অংশ ঘেমে ওঠে। রোমকূপের মুখ খুলে যায়, সেখানে আটকে পড়া জমাট বাঁধা তেলময়লা গলে বাইরে বেরিয়ে আসে। মৃত কোষের পরতও তুলে দেয়। স্টিম রক্ত চলাচল বাড়ায়, তাই মুখ উজ্জ্বল হয়। এই রক্ত চলাচলের সুবাদে ত্বকে কোলাজেন আর ইলাস্টিন তৈরির মাত্রা বাড়ে। চামড়া টানটান নিটোল থাকে, বয়স কম দেখায়। বাষ্পে তৈলগ্রন্থিগুলি উদ্দীপিত হয়, প্রাকৃতিকভাবেই ত্বক ময়শ্চারাইজড থাকে। ব্যাকটিরিয়া ধ্বংস করায় ব্রণ, অ্যাকনের সমস্যা দূর হয়। নিয়মিত স্টিম নিলে ত্বকের শোষণ ক্ষমতা বাড়ে, প্রসাধনী ও মেকআপ বেশি ভালো কাজ করে।


শুধুই পানি নয়, মেশান বিশেষ উপকরণ


পরিস্রুত পানি ও চা পাতা ছেঁকে নেওয়া লিকারকে স্টিমের জন্য ব্যবহার করা যায়। ত্বকের ধরন বুঝে সেই তরলে বিশেষ উপকরণ মিশিয়ে নিলে আরও ভালো। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কয়েকটা তাজা তুলসি পাতা পানিতে ফেলে দিন। ভাপ নেওয়ার ঠিক আগে দু-তিন ফোঁটা টি ট্রি অয়েল দিতে পারেন। শুষ্ক ত্বক হলে, শুকনো গোলাপের পাপড়ি আর কুঁড়ি মিশিয়ে তরল ফোটান। ক্যামোমিল, ল্যাভেন্ডারের নির্যাস মেশাতে পারেন। মিশ্র ত্বকের জন্য ল্যাভেন্ডারের নির্যাস, জেরেনিয়াম এসেনশিয়াল অয়েল তিন ফোঁটা। এই উপকরণ সংবেদনশীল ত্বকেও কাজ করে। অ্যাকনের সমস্যা থাকলে ইউক্যালিপ্টাস অয়েল দিতে পারেন। বিবর্ণ ত্বকের জন্য কমলালেবুর খোসা, তিন ফোঁটা লেমন এসেনশিয়াল অয়েল মেশাতে পারেন।


স্টিম যখন গরম পানির পাত্রে


যে টেবিলে পানির পাত্র রাখবেন, তার উচ্চতামাফিক চেয়ার বেছে নিন। যে চেয়ারে বসলে কিছুক্ষণ মাথা ঝুঁকিয়ে রাখতে কষ্ট হবে না। শরীর সম্পূর্ণ আরাম পেলে পুরো ফল মিলবে। পাত্রে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে গরম করুন। পানি ফুটতে শুরু করলে ভেষজ দেবেন। তারপর কম আঁচে দু-তিন মিনিট রেখে, দরকার মতো এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে টেবিলের উপরের বাটি বা গামলায় পানিটা সাবধানে ঢালবেন। ওই পাত্রের উপর খুব সাবধানে ঝুঁকে মুখ আর গলা গরম বাষ্পের সংস্পর্শে আনুন। পরিষ্কার, নরম, বড় তোয়ালে মাথার উপর দিয়ে রাখুন। পানি থেকে মুখ অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে রাখুন। স্টিম নেবেন পাঁচ থেকে দশ মিনিট, তার বেশি নয়।


ইলেকট্রিক স্টিমার


নিজে পানি গরম করলে একটু পরে তাপ কমে যায়। এই স্টিমার যন্ত্রে সেই সমস্যা মিটবে। যেহেতু ইলেকট্রিকাল, তাই ব্যবহারবিধি অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে। কখন ভেষজ ও তেল মেশাবেন, তাও সেখানেই লেখা থাকে। স্টিমারের যে নল থেকে বাষ্প বার হবে তা মুখ ও গলা থেকে সাধারণত দশ ইঞ্চি দূরে রাখতে হয়। দু-তিন মিনিট স্টিম দিয়ে একটু থামুন, তারপর আবার দুমিনিট ভাপ নিন।


সাবধানতা অবলম্বন করুন


বাষ্পের সংস্পর্শে ত্বক যেন পুড়ে না যায়। এতে বড় ক্ষতি না হলেও ত্বকে দাগ হয়ে যেতে পারে। স্টিম নেওয়ার সময় চোখ বন্ধ রাখুন। স্টিম নেওয়ার পর তোয়ালে দিয়ে ত্বকে ঘষবেন না। তোয়ালে যেন প্রচণ্ড গরম না হয়। দু'মিনিট মতো স্টিম নিয়ে ব্রেক নিন। বাষ্পের তাপ ত্বকে সহ্য হচ্ছে কিনা বুঝতে পারবেন। এক মিনিট পর আবার ভাপ নেবেন।


সপ্তাহে এক দিন স্টিম নেওয়া ভালো। খুব শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে বর্ষাকালে তিন সপ্তাহ অন্তর থেরাপিটি চলতে পারে। ত্বকে কোনো সংক্রমণ থাকলে স্টিম নেবেন না। স্টিম নেওয়ার পর ঈষদুষ্ণ জল ত্বকে ছিটিয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। ময়শ্চারাইজার, সিরাম বা অ্যান্টি এজিং ক্রিম লাগান।