জেলা সংবাদ

যতটুকু আছে তা দিয়ে শুরু হোক নিরাপদ কর্মক্ষেত্র মাতৃভূমিতে

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

আমার বিদেশে কর্মরত বন্ধুরা, আমার কাজের সাইটের ছবি দেখে মুচকি হাসেন। এটা কোন সেফটি হলো? আরে ভাই এ দেশে এসে কাজ করে দেখেন,যা জানেন তাও ভুলে যাবেন।

বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রজেক্টেও গা ছাড়া, কোন মতো ভাব।কোম্পানি কোন মতে হেলমেট দিলেও সেফটি সু দিতে পারেনা রিলেটেড ইঞ্জিনিয়ার,সুপার ভাইজারদের।একটা হেলমেটই মুলত এখানে পি পি ই,পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট। অথচ পি পি এর মধ্যে হ্যান্ড গ্লভস ,সেফটি সু ,সেফ্টিভেসট ,সেফটি গ্লাস। ইয়ার প্লাগ মাস্ক থাকার কথা। ওয়ার্ক এট  হাইটে তো সেফটি হার্নেস জরুরি ,সেফটি ব্লেট এখন অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণ যোগ্য নয়. সেফিটির জন্য জিরো হার্ম,জিরো টলারেন্স শত বর্ষ পরের স্বপ্ন! অতচ ইচ্ছা শক্তির প্রয়োগ হলেই ,পকেটে হাত দিলেই সম্ভব।

কর্মক্ষেত্রে, বিশেষ করে নির্মান কাজে দেশের বিদেশী কোম্পানী ছাড়া দেশের প্রাইভেট,সরকারী,স্থানীয় সরকার জেলা,উপজেলার কাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো একশ বছর লাগবে মনে হয়।মালিক যেমন শ্রমিকের কথা ভাবেনা,শ্রমিক তার নিজের জীবন,তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের কথাও ভাবেনা।

কাজের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র কিংবা তার নিরাপত্তার কথা বললে মনে হয়।আকাশ থেকে পড়লো।আরে যত টুকু আছে তা দিয়ে ওতো চেষ্টা করা যায়। বিদেশে সেফটির জন্য আলাদা বাজেট থাকে,আলাদা ডিপার্টমেন্ট থাকে। শ্রমিকদের সেফটি ওরিয়েন্টেশন ছাড়া সাইটে প্রবেশ নিষেধ,আমরা যারা সুপারভিশনে কাজ করি, তাদেরতো সেফটি সুপারভাইজার কোর্স ছাড়া মাথায় সাদা হেলমেট দেয়নি ১৯৯৭ সালে,২০০৮ সালে।সাইটে প্রবেশ করতে দেয়নি।

দেশে গাজীপুরে এক কোম্পানীতে মাস দুয়েক ছিলাম,থাক সে কথা।বর্তমানের জবে সুযোগ আছে চেষ্টা করছি,আমার বর্তমান বস,আমাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট বেশ সোচ্চার সেফিটিতে। এখানে সমস্যা,ঠিকাদার আর শ্রমিক ভাইয়েরা বুঝতেই চাইছেনা,বুঝাতে পারছিনা।

গ্রাম গঞ্জে, থানা,উপজেলায় লুঙ্গি স্যান্ডেলেই চলে,বাঁশের মাঁচায় কোন মতে তক্তা দিয়ে চলে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে কঠিন ভাবে।কাজের বাজেটে কর্ম র্ক্ষত্রে নিরাপত্তার আলাদা খাত রাখতে হবে।বলতে পারেন ওই বাজেট খাওয়ার জন্য সরকারী বেসরকারি অফিসার,সংশ্লিষ্টরা খেয়ে ফেলবে।এমনে কি খাচ্ছেনা, আইটেম এড করেন,আস্তে আস্তে হবে একদিন।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এগিয়ে আসার আহবান সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি।কাজের শুরুতে প্রতিদিন টুল বক্স মিটিং,রিক্স এসেসমেন্ট সত্যি জরুরী।প্রত্যেক ঠিকাদারকে প্রত্যেক কাজের রিক্স এসেসমেন্ট,কাজের ওয়ার্ক  প্রসিডিউর,মেথিড অফ স্টেটমেন্ট,টাইম ফ্রেম সিডিউল এর আওয়তায় আনা উচিত। কন্সাল্টেন্ড এন্ড্রোসমেন্ট  ছাড়া একটা কাজ ও করতে দেয়া উচিৎ না।আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি বিদেশী কোম্পানী  ছাড়া দু একটা দেশী প্লান্ট,ফ্যাক্টরী,কোম্পানী ফলো করলেও বাকীরা উদাসীন,হয়তো জানেও না,জানলেও বাজেট থাকেনা।ইচ্ছা শক্তি বিবেকে থাকা উচিৎ ঠিকাদার,মালিক,অফিসার,শ্রমিক সবার,পি পি ই,পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট অনন্ত এনসিউওর করা হউক ।যতটুকু আছে তা দিয়ে শুরু হোক নিরাপদ কর্মক্ষেত্র আমরা বিদেশে কোর্স করে এসেছি আমাদের কাজে লাগাতে পারেন এই সেক্টরে।