জেলা সংবাদ

ডিমলায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ পেয়ে খুশি অসহায় পরিবার

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ |

জাহাঙ্গীর রেজা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় “দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্প” এর ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৩৬টি অসহায় পরিবার।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পের অধিনে ডিমলা উপজেলার ৩৬টি অসহায় গৃহহীনদের জন্য ৯৩ লক্ষ ৭ হাজার ১ শত ১৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই প্রকল্পে হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের যার সামান্য জমি আছে কিন্তু ঘর নেই তাঁর নিজ জমিতে গৃহ নির্মানে একটি ঘরের জন্য ভ্যাট ও ট্যাক্স ছাড়া ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫ শত ৩১ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের মানুষের নতুন ঠিকানায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি দুর্যোগ সহনীয় পাকা ঘরের সাথে রান্না ঘর, টয়লেট পেয়ে খুশি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণের মাধ্যমে জরিপ করে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৩৬টি পরিবারের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণের তালিকা তৈরি করা হয়। ৩৬টি বাসগৃহর মধ্যে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে ৩টি, বালাপাড়া ইউনিয়নে ৪টি, ডিমলা সদর ইউনিয়নে ৫টি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে ৩টি, গয়াবাড়ি ইউনিয়নে ৩টি, নাউতারা ইউনিয়নে ৪টি, খালিশা চাপানী ইউনিয়নে ৪টি, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে ৪টি, টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে ৩টি ও পূর্বছাতনাই ইউনিয়নে ৩টি বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। 

বাসগৃহ নির্মাণে অনিয়ম ঠেকাতে প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা : নাজমুন নাহার মুন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম সার্বক্ষণিক তদারকি করে নির্মাণ কাজের মেয়াদকাল যথা সময়ে শেষ করেন। এর পর নির্মান করা নতুন বাসগৃহ গুলো আনন্দের সাথে স্ব-স্ব ওই অসহায় পরিবারগুলো বসবাস করতে শুরু করে।

সরেজমিনে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান বাস্তবায়নের দৃশ্য দেখতে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরখাতা গ্রামের সিংঙ্গাহাড়া পুলের পার নামক স্থানে হতদরিদ্র তফিজ উদ্দিনের স্ত্রী জমিলা বেগম তাঁর ভাষায় বলেন, হামরা (আমরা) খুব গরিব মানষি (মানুষ), হামরা দিন মিলি দিন খাইছোনো। থাকিবার কোন ঘর ছিলো না। ছোট একটা খ্যারের ঘরৎ খিবেই কষ্ট করি থাকছিনো। বৃষ্টির দিনোত ওই ঘরটাত থাকতে খিবে কষ্ট হইছিলো। হঠাৎ করিয়া চেয়ারম্যান যে আমাক এই রকম ঘর দিবে স্বপ্নেও বুঝিবার পাই নাই।

আমরা এই ঘর সারা জীবনেও বানেবার পাইনো না হয়। চেয়ারম্যান আমাক কইছে এই ঘর আমি দেই নাই এই ঘর সরকার দিছে। তখন বুঝিবার পাইনো সরকার আমারলার জন্যে এতবড় মহৎ কাজ কইরছে। জমিলা বেগম আরো বলেন, বর্তমানের সরকার শেখ হাসিনা গরিব মানষির সরকার, এই সরকার না থাইকলে আমরা এই মন ঘর চোখোতে দেইখনো না হয়। আমরা সব সময় হাত তুলিয়া দেয়া করি। আল্লা করে যুগ-যুগ বাছি থাইক। হামরা এই বাড়িটা পেয়া হামার খিবেই উপকার হইছে। থাকা নিয়া আর চিন্তা হইবে না, আল্লা শেখ হাসিনার ভালো করুক। 

দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) মেজবাহুর রহমান বলেন, বাসগৃহ গুলো নির্মানের সময় উপকরণের (সিমেন্ট, ইট,বালু, রড, কাঠ ও টিন) এর গুনগত শতভাগ মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। 

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সার্বিক তদারকিতে সুষ্ঠুভাবে যারা বাসগৃহ পাওয়ার উপযুক্ত তাদেরকেই দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ গুলো নির্মান করে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও পূর্নবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।