জেলা সংবাদ

নিজগুনে এলাকায় ভাইরাল ইউএনও তমাল

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০১৯

মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

নিজের সৃষ্টিশীল কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মস্থলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকায় আইন শৃংখলার মান সমুন্নত রেখে চলেছেন ইউএনও মো. তমাল হোসেন। সাড়ে চারমাস আগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে আনতেও স্বক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া উপজেলার নাজিরপুরে আমির আলী নামের এক সুপার মার্কেটের মালিককে ১০ বছর পর শিকলমুক্ত করাসহ ঋণে জর্জরিত হয়ে কিডনি বিক্রি করতে যাওয়া উম্মেহানির ও কিছু প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সকলের কাছে প্রশংসনীয় হয়েছেন এই কর্মকর্তা।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় সম্পর্কে ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও ৭১’ উপস্থিত বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় সবার নজর এখন ইউএনও তমাল হোসেনের দিকে। ২০১৯ সালের ১১ই জুন তিনি গুরুদাসপুরে যোগদান করলে উপজেলার সকল সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে নজর, দুস্থ্য ও প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্টনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হতদরিদ্রদের প্রতি সুদৃষ্টি রেখে কাজ করছেন তিনি। তার এই অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কর্মদক্ষতায় পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার দৃশ্যপট। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তার প্রতিটি কার্যকারী প্রদক্ষেপ স্বচিত্র প্রতিবেদন সহকারে এলাকায় ভাইরাল করে চলেছেন।

তবে কাবিখা ও কর্মসৃজন প্রকল্পে নজর রাখার পরামর্শ দিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের লোকজন বলছেন- যোগ্য, সৎ ও সাহসী ইউএনও তমাল হোসেন দীর্ঘদিন তাঁর কর্মস্থল গুরুদাসপুরে থাকলে উপজেলার সার্বিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। সমাজ থেকে দূর্নীতিসহ উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকান্ড ত্বরান্বিত হবে।

উপজেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ইউএনও মহোদয়ের কারণে অনিয়ম, দূনীর্তি ও স্বজনপ্রীতি অনেকাংশে কমে গেছে। যেখানে অনিয়ম, সাধারন মানুষের সমস্যা, সেখানেই ছুটে চলেন তিনি। বাল্যবিয়ের সংবাদ পাওয়া মাত্র ছুটে যান তা বন্ধ করতে। বাল্যবিয়ে আয়োজকদের কাছে ইউএনও তমাল হোসেন যেন এক আতংকের নাম। নিজগুনে তিনি এখন সবার প্রিয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সরেজমিনে ইউএনও অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সর্বশ্রেণির মানুষ তাদের সমস্যার কথা সরাসরি ইউএনও’র কাছে বলতে পারছেন এবং ঐ সকল মানুষের সমস্যার কথাশুনে তৎক্ষনাৎ কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা গেছে। এসময় উপজেলার প্রশানিক কর্মকান্ড সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সাংবাদিকসহ উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা ও সুধিসমাজের সহযোগিতা কামনা করেন ইউএনও তমাল হোসেন।