জেলা সংবাদ

‘রাস্তা খুলে দিতে আদালতের রায় জানাতে গেছি’

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার বাড়বকু- এলাকায় ঐতিহাসিক রাজা-আম্বিয়ার ঢালা সড়কটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বছর প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের পথটি বন্ধ করে দেয় কেএসআরএম গ্রুপ। গতকাল সোমবার সকালে আদালতের রায় নিয়ে সড়কটি খুলে দেওয়ায় অনুরোধ জানাতে যায় প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়ে কেএসআরএম গ্রুপের জিএম (প্ল্যান্ট) শাখাওয়াত হোসেন চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করলে তারা ফিরে আসেন। 

জঙ্গল কাঠগড় রাজা-আম্বিয়ার ঢালা পাহাড়ি বাগান ও কৃষি উৎপাদনকারী ফলদ বাগান মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদন ভূঁইয়া বলেন, শত বছরের একটি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে কেএসআরএম। এতে পাহাড়ে কৃষি কাজ এমন প্রায় লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খুলে দিতে এলাকাবাসী আন্দোলন করে আসছে। আদালতে মামলাও হয়েছে। ওই মামলায় রাস্তা খুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের সেই কপি নিয়ে আমরা গতকাল বাড়বকু-ে কেএসআরএম কারখানার গেইটে যাই। সেখানে জিএম শাখাওয়াত সাহেব আমাদের সাথে দেখা করে চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর আমরা ফিরে আসি। 

তিনি বলেন, কেএসআরএম বন্ধ করে দেওয়া রাস্তাটি আরএস রেকর্ডিয়। জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করতে পারে না। অন্যায়ভাবে তারা দখল করেছে। এতে খেটে খাওয়া মানুষগুলো চাষাবাদ করতে পারছে না। আদালতের রায় নিয়ে দেখা করতে যাওয়ার বিষয়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফায়দা লুটতে চায় কেএসআরএম। এলাকার সাধারণ মানুষকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলে তা এলাকার জন্যই কলংকজনক। 

গত বছরের ১৩ জুলাই কেএসআরএম রাস্তাটি বন্ধ করে গেট নির্মাণের চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু যে কোন সময় রাস্তাটি দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। এতে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় দক্ষিণ মাহমুদাবাদের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বাদি হয়ে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় কেএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহ জাহান ও তার দুই ভাই সেলিম উদ্দিন ও আবদুল করিমকে বিবাদী করা হয়েছে। 

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ রাজা আম্বিয়া ঢালা সড়ক বন্ধ করায় জনসাধারণ চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে পাহাড় ও গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারায় আনা মামলার আরজির  প্রেক্ষিতে তা সরেজমিন তদন্ত করে সীতাকু- থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া একই আদালতে ইকবাল হোসেনের করা আরেকটি মামলায় আদালত শুনানি করে। পাশাপাশি শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই মামলায়ও শাহ জাহান ও তার দুই ভাইকে বিবাদী করা হয়েছে। কিন্তু এর আগেই জোর করে জনগণের রাস্তাটি দখলে নেয় কেএসআরএম।