জেলা সংবাদ

স্বামীর উপর অভিমান করে সাতক্ষীরায় এক গৃহবধুর আত্মহত্যা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০১৯

মাধব দত্ত, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

স্বামীর উপর অভিমান করে এক গৃহবধু গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

মৃত গৃহবধুর নাম দীপিকা হাজরা (২৩)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর সাহাপাড়ার অনিমেষ পালের স্ত্রী ও কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামের অমিয় হাজরার মেয়ে। 

মৃতের মা কল্পনা হাজরা জানান, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মেয়ের সাথে বিয়ে হয়  শহরের সুলতানপুর পালপাড়া গ্রামের অপারেশ পালের ছেলে অনিমেষ পালের। অনিমেষ বাগেরহাট উপজেলার মোড়লগঞ্জে একটি এনজিওতে চাকুরি করে। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গে বাগেরহাটে থাকার কথা বললেও অনিমেষ কখনো রাজী হয়নি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকতো। শ্বাশুড়িও মেয়েকে ভাল চোখে দেখতো না।  বৃহষ্পতিবার জামাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে মেয়েকে নিয়ে শনিবার তাদের বাড়ি আসে। সোমবার দুপুরে তারা দু’জনে  বাড়ি চলে যায়। সন্ধ্যায় তাদেরকে খবর দেওয়া হয় যে দীপিকা অসুস্থ হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি আসে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে তারা জানতে পারেন যে মেয়ে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এটা তারা মেনে নিতে পারছেন না।

এদিকে অনিমেষ পাল জানান তার শ্বাশুড়ি পরিবার থেকে আলাদা হয়ে মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকার জন্য তার উপর বারবার চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। রোববার রাতে ও সোমবার সকালে শ্বাশুড়ির সঙ্গে এ নিয়ে তার বিরোধ বাঁধে । একপর্যায়ে স্ত্রীকে নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। দুপুর আড়াইটার দিকে খাওয়া দাওয়া শেষে পানের দোকানে যেতে চাইলে আপত্তি জানায় স্ত্রী। এরপরও তিনি দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরপরই ঘরে দরজা দিয়ে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে ঝুলে পড়ে। মা তাকে বারবার ডাকা ডাকি করে উত্তর না দেওয়ায় তাকে খবর দেওয়া মাত্রই তিনি দরজা ভেঙে স্ত্রীকে আড়া থেকে নামিয়ে প্রাইভটে কার যোগে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সোমা দাস তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

সদর থানার উপপরিদর্শক মানিক জানান, দীপিকা হাজরা গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। গলায় ওড়না পেচানোর দাগ ছাড়া কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে লাশ শ্বশুর অপারেশ পালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রসুলপুর মহাশ্মশানে লাশ সৎকার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডাঃ শিমুল সরকার জানান, ময়না তদন্ত শেষে  দীপিকা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।