জেলা সংবাদ

ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কোরবানি পশুর চামড়া মাটিতে দাফন

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯

শহিদুল ইসলাম ,বেনাপোল ,যশোর ■ বাংলাদেশ প্রেস

চামড়ার বাজার মূল্যে ধস নামায় চরম লোকসানে পড়েছে চামড়া ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। সারাদিন অপেক্ষা করার পর ক্রেতা ও দাম না পাওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলা সহ সারা দেশে কোরবানী করা পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানী দাতারা। অনেকে বিক্রি না করে রাগে ক্ষোভে মাটিতে পুতে দিয়েছেন পশুর চামড়া। 

ন্যায্য দাম না পাওয়ায় সারা দেশের কোরবানি পশুর চামড়া মাটিতে দাফন করেছেন কোরবানি দাতা, ফরিয়া এবং মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। উপজেলা পশুসম্পদ বিভাগের দেয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী শার্শা উপজেলাতে এবছর ৩ হাজার ৩ শত গরু ও ২ হাজার ৬ শত ছাগল কোরবানী করা হয়েছে।

কিন্তু কোরবানী দাতারা এবার জবাইকরা গরু ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে যেয়ে নাজেহাল হয়েছেন। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বর্তমান বাজার সম্পর্কে ধারনা না থাকায় সারাদিন বিভিন্ন দামে কিছু কিছু জায়গা থেকে চামড়া কেনা এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়েছে অনেকাংশে। এসব ব্যবসায়ীদের লাভ তো দুরের কথা বিনিয়োগকৃত টাকা ওঠানো নিয়েই শঙ্কায় রয়েছে তারা।

কোরবানীর চামড়া বিক্রি টাকা সাধারনত দান খয়রাত করা হয়। গরীবেরা আগে থেকেই দাবীকরেন চামড়া বিক্রির টাকা। তবে এবছর চামড়ার দাম খুবই কম এমনকি দাম নেই বললেই চলে। গ্রামে গ্রামে ক্রেতা ঘুরলেও চামড়ার দাম না থাকায় অনেকে চামড়া বিক্রি না করে মাটি চাপা দিয়েছে। অনেকে দুরে কোথাও ফেলে এসেছে।

কোরবানীর পরদিন পর্যন্ত গাছে গাছে ঝুলতে দেখাগেছে চামড়া। রুদ্রপুর গ্রামের রফিকুল জানায় তাদের একটি গরুর চামড়ার দাম ৪০ টাকা বলার কারনে বিক্রি করেনি গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। একই কথা বলেছেন ইসরাফিল। মিন্টু চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুতে দিয়েছেন। আমিরুল হোসেন নামে একজন চামড়া ক্রেতা জানিয়েছেন সে ঈদেরদিন সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা ও সর্বনিম্ন ৪০ টাকায় গরুর চামড়া কিনেছিলেন, ছাগলের চামড়া কিনেছেন ২০ টাকা করে।

সে এসব চামড়া বাগআঁচড়ায় চামড়ার আড়তে বেঁচতে গেলে তারা নেয়নি। এরপর সে গয়ড়া বাজারে এক আড়তে লোকসানে কিছু চামড়া বিক্রিকরে এবং বাকী চামড়াগুলি মাঠের ভেতর ফেলে রেখে আসে। চামড়া বিক্রি করতে আসা আহসান হাবিব জানান,একটি বড় সাইজের গরুর চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলাম কিন্তু কেউ কিনছে না। আড়ৎদাররা বলেন চামড়ার কোন দাম নাই রাখলে রাখতে পারেন না রাখলে নিয়ে চলে যান। মন খারাপ করে ফ্রিতে দিয়ে চলে আসার সময় ২০ টাকা যাতায়াত খরচ চাইলেও দেননি ওই আড়ৎদার।

সীমান্তে বিজিবির ব্যাপক নজরদারীর কারনে ভারতে চামড়া নিতে পারেনি কালোবাজারীরা। যার ফলে চামড়া নিয়ে নাজেহাল হতে হয়েছে এলাকার মানুষদের। চামড়ার বাজার মূল্য কম হওয়ায় অধিকাংশ চামড়া ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে বিজিবি। তারা বলেন,চামড়া পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারী রাখা হয়েছ। এবং সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।