জেলা সংবাদ

চরফ্যাসনে গলাকাটা এসেছেঃ গুজব বাতাসের বেগে ছড়ায়-ইউএনও চরফ্যাসন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯

কামরুজ্জমান শাহীন ,ভোলা প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

গুজব বড় ভয়ানক জিনিস। তা বাতাসের বেগে ছড়ায় সম্পতি গুজব ছড়িয়েছে যে, চরফ্যাসনে গলাকাটা এসেছে। এটা সম্পূর্ণ গুজব। সকল চরফ্যাসনবাসীকে গুজবে কান না দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। সকল অভিভাকদেরকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা গুজবে কান না দিয়ে আপনাদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠান- চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

চরফ্যাসনে শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল। চায়ের দোকানের আড্ডায়, হাট-বাজার, বিদ্যালয় থেকে বাসাবাড়িতে কয়েকদিন যাবত একটি নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আর সেটি হলো  কল্লাকাটা বা মাথাকেটে নিয়ে যাওয়া । এনিয়ে যত আজব আজব গল্পও ছড়াচ্ছে মানষের মুখে মুখে।

যা সবই আতকে ওঠার মতো। কোন সেতুতে নাকি মানুষের কল্লা লাগবে। কেউ শুনেছে ১০০ টি আবার কেউ শুনেছে ২০হাজার কল্লা। কেউ শুনেছে ৩০হাজার কল্লা দিতে হবে। সে ছোট ছেলেমেয়ে হোক বা বুড়ো হোক। কেউ শুনেছে অমুক এলাকা থেকে কল্লাকাটায় ২জনকে ধরে নিয়ে গেছে।

কেউ শুনেছে ছোট বাচ্চাদের কল্লা নেওয়ার সময় ’অমুক’ জায়গায় ১জনকে আটক করেছে লোকজন। এনিয়ে রীতিমত বাকবিত-াও চলছে। যদিও কেউ চোখে দেখেনি। সবাই শুনেছে। আর এই শোনা থেকে শোনা আলোচনা এখন ক্রমেই আতঙ্কে রুপ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ে সন্তানদের একা ছাড়ছেননা বাবা-মায়েরা।

সময়ের অভাবে অভিভাবকরা সাথে যেতে না পারলে সন্তানকেও স্কুলে পাঠাচ্ছেননা। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিশু শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও কমে গেছে। শুধু শিশুদের জন্যই নয়। আতঙ্ক বড়দের জন্যও। চরফ্যাসন বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, একটু রাত করে বাড়ি ফিরলেই মা ও বউয়ের ঝাঁঝালো কথা শুনতে হয়। না ফেরা পর্যন্ত থাকে দূশ্চিন্তায়। এই বুজি সন্তান, স্বামী বিপদে পড়লো। 

চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান , এ ধরণের গুজবে অভিভাবকরা স্বভাবতই উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও অভিভাবকদের সংখ্যা বেড়েছে। গুজবটি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। সবার মধ্যেই বিরাজ করছে আতঙ্ক। এ আতঙ্ক এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।

একাধিক অভিভাবক বলেন, বড় দূশ্চিন্তায় আছি সন্তানদের নিয়ে, এসব কারণে স্বাভাবিকভাবেই সন্তানদের সাথে স্কুলে যেতে হচ্ছে। কখনো একা পাঠালে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত দূশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তাদের দাবি বিষয়টি গুজব হলে সরকারের উচিত ভয় কাটানোর ব্যাবস্থা করা।

এ ব্যাপারে চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, বিষয়টি পরোপুরি গুজব। আমাদের কাছে এধরণের কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে কোনো এলাকায় সন্দেহজনক নতুন লোক দেখলে নিকটস্থ পুলিশকে যেনো জানানো হয়।

চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল। এক শ্রেণির লোকেরা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এধরণের গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি সকল অভিভাবকদের সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।