জেলা সংবাদ

পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী: পিবিসিপি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

পার্বত্য চট্রগ্রাম ব্যুরো ■ বাংলাদেশ প্রেস

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানোর অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে    পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।  

সোমবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সদরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা কংজরী চৌধুরীকে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দাতার কারিগর আখ্যা করে অবিলম্বে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে তার অপসারণ দাবি করেন।

সর্বশেষ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় ও ইউএনডিপির অর্থায়নে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের মাঝে সেচ পাম্প ও পাওয়ার টিলার বিতরণেও বৈষম্যর সৃষ্টি করেছে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পার্বত্য জেলা পরিষদ। নামমাত্র বাঙ্গালীদের অংশীদার করা হয়েছে এখানে।

জেলা পরিষদের অধীনে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি সরঞ্জাম বিতরণের খতিয়ান থেকে দেখা যায়,-

পানছড়ি- পাহাড়ী ২৬টি আর বাঙ্গালী ৫টি, খাগড়াছড়ি সদর- পাহাড়ী ৩০টি আর বাঙ্গালী ৪টি, মাটিরাঙ্গা- পাহাড়ী ১২টি আর বাঙ্গালী ২৫টি, মহালছড়ি- পাহাড়ী ২২টি আর বাঙ্গালী ২টি, মানিকছড়ি পাহাড়ী ২২টি আর বাঙ্গালী ২টি, দীঘিনালা- পাহাড়ী ১৬টি আর বাঙ্গালী ৪টি, গুইমারা- পাহাড়ী ২৫টি আর বাঙ্গালী ১টি।

আর এ তালিকার বৈষম্যর দায়ভার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ও কোন ভাবেই এড়াতে পারে না।

খাগড়াছড়ি সদরের টিএন্ডটি গেইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে জেলা পরিষদের টাকায় প্রবীণ হিতৈষী সংঘের স্থায়ী ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করার দাবিতে ও সম্প্রতি সময়ে দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র দেওয়া কৃষি উপকরণ বিতরণে সাম্প্রদায়িক আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ।

পিবিসিপি খাগড়াছড়ি শাখার সভাপতি মো. আসাদুল্লাহ আসাদের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মজিদ অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেও কংজরী চৌধুরী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে খাগড়াছড়ির তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দেওয়া এক প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেন কংজরী চৌধুরী। খাগড়াছড়িতে হেড-কার্বারীদের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি। এছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যের দেয়াল তৈরী করেন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অবৈধ ঘুষ বানিজ্য।   সবশেষ দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র অর্থায়নে পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কৃষি উপকরণ সামগ্রী বিতরণেও কংজরী চৌধুরী নগ্ন সাম্প্রদায়িকতার নজির স্থাপন করেন।

খাগড়াছড়ি শহরের টিএন্ডটি গেইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের খেলার মাঠ দখল করে প্রবীণ হিতৈষী সংঘের নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে কংজরী চৌধুরী। অবিলম্বে কংজরী চৌধুরীকে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে অপসারণ করে অসাম্প্রদায়িক একজনকে নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের দাবি জানান বক্তারা।