জেলা সংবাদ

বিশ বছর পর এমন মারাত্মক বন্যার কবলে পড়লো বান্দরবান

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০১৯

সুজন ভট্টাচার্য্য(বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি)

টানা নয় দিনের একটানা বৃষ্টিতে বান্দরবান জেলার বন্যা পরিস্হিতি শরণকালের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে।জেলা সদরে প্রায় আশি ভাগ ঘর-বাড়ি,সরকারী- বেসরকারী অফিস সহ সমস্ত এলাকায় প্লাবিত হয়েছে।সবশেষ পাওয়া খবর অনুযাযী বৃষ্টি কিছুটা কমে গেলে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পানি ক্রমাগত ভাবে বেড়ে ই চলেছে।এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলা থানছি,রুমা,রোয়াংছড়ি,লামা,আলীকদম উপজেলার নিমাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়েছে।থানছি উপজেলার সদরের একমাত্র বাজারটি এখন সম্পূর্ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন রয়েছে আজ সাত দিন। এছাড়া ও নতুন পাড়া,মগক পাড়া সহ অসংখ্য এলাকায় পানিবন্ধী অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে অবস্থান করছে।রুমা উপজেলার সদরের একটি মাত্র বাজারের অধিকাংশ দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে।পাচঁদিন যাবৎ বিদ্যুৎ নেই। বাজারের পাশে থাকা বেশকিছু বাড়িঘর সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে।পুরাতন হাসপাতাল এলাকা ও থানা পাড়া,বাজার পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।লামা উপজেলা সদর এলাকার যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি।লামা সদর ইউনিয়ন ও এর বিভিন্ন ইউনিয়নের বিশ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে মানবেতর অবস্হার মধ্যে দিন পার করছে।আলীকদম উপজেলা সদর ও এর আশেপাশের বেশীরভাগ  এলাকা প্লাবিত হয়েছে এছাড়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ জন বন্যাক্রান্ত হয়েছে।সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমা অনেক উপরে প্রবাহিত হওয়ায় রাতের বেলা বড় ধরণের দূর্ঘটনার শঙ্কায় এখন বান্দরবান জেলার মানুষ।এর মধ্যে জেলার দুইটি উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ এবং আরো তিন উপজেলায় আংশিক ভাবে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে। এই বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম বলেন, বন্যা দূর্গতদের জন্য জেলা শহরে ১৩১ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আজ সেগুলো কানায় কানায় পূর্ণ।তবে তাদের যাতে কোন ধরণের অসুবিধা না হয় সে বিষয় টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।এই বিষয়ে বান্দরবান প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম সুমন বলেন ১৯৯৭ সালের পর থেকে এই ধরণের বন্যা দেখেনি বান্দরবানবাসী।