জেলা সংবাদ

তামাকে শুল্ক বৃদ্ধির দাবিতে রাজশাহীতে এসিডি'র র্যালী

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৯

আমানুল্লাহ আমান, রাজশাহী

প্রস্তাবিত (২০১৯-২০ অর্থবছর) বাজেটে নিম্নস্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বৃদ্ধি করে ৩৭ টাকা নির্ধারণ এবং সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পাবে মাত্র ২০ পয়সা। জনগণের মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে নিম্নস্তরের সিগারেটের এই অতি সামান্য মুল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়বে। সিগারেটসহ বিভিন্ন তামাকপণ্যে উৎসাহিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। ফলে প্রতিবছর দেশের ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যরোধ করা সম্ভব হবে না।

সোমবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সকল তামাকজাত পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি, সুনির্দিষ্ট করারোপ, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার দাবিতে অনুষ্ঠিত র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এর আগে রাজশাহীর উন্নয়ন ও মানাবাধিকার সংস্থা ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র আয়োজনে এবং ‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স-সিটিএফকে’ এর সহযোগিতায় নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। এসময় বিভিন্ন পেশার প্রায় দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এসিডি’র এডভোকেসি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম শামীমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সংস্থাটির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর পঙ্কজ কর্মকার, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শাহীনুর রহমান, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আব্দুর রাজ্জার, মনিরুল ইসলাম পায়েল, প্রজেক্ট অফিসার আহসান উল্লাহ সরকার রিপন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনায় দেখা গেছে, মূল্যস্তরভেদে সিগারেট কোম্পানিগুলোকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত আয় বৃদ্ধির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। বিড়ির শলাকা প্রতি ৬ পয়সা দাম বৃদ্ধি এর ব্যবহার কমাতে কোনো ভূমিকাই পালন করবে না। তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু এবং অসুস্থতার বোঝা মাথায় নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার এই বাজেট প্রস্তাবনা চরম হতাশাজনক এবং একইসাথে জনস্বাস্থ্যবিরোধী।

বক্তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তরে সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখে শুধু মূল্য পরিবর্তনের মাধ্যমে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৬৩ টাকা, ৯৩ টাকা এবং ১২৩ টাকা। সরকারের এই পদক্ষেপে বিগত বছরের তুলনায় মূল্যস্তরভেদে তামাক কোম্পানিগুলোর আয় ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। ফলে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো এবারের বাজেটে ব্যাপকভাবে লাভবান করে দেয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির মূল্য দুই বছর পর মাত্র ১.৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি খুবই নগণ্য এবং এরফলে প্রতি শলাকা বিড়ির দাম বাড়বে মাত্র ৬ পয়সা। বিড়ির প্রধান ভোক্তা নিম্ন আয়ের দরিদ্র মানুষ। দরিদ্র মানুষের উপর এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

বক্তারা ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫% সম্পূরক শুল্ক ও ৬ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ; প্রতি ১০ গ্রাম জর্দ্দার খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ; অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের বিদ্যমান ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক এবং প্রক্রিয়াজাত তামাকপণ্যের ওপর ইতোপূর্বে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহাল, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৩৭ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা; নিম্নস্তরের  সিগারেটের ওপর বিদ্যমান ৫৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬০ শতাংশ এবং মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরে বিদ্যমান ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৭০ শতাংশ নির্ধারণেরও দাবি জানান।