জেলা সংবাদ

চলছে নগ্ন নিত্য ও হাউজি খেলার প্রস্তুুতিও

মেহেরপুরে অবৈধ লটারি ও সার্কাস চলছে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ |

মেহেরপুর প্রতিনিধি

২০ টাকায় হবেনা বাড়ি, হবেনা লাল শাড়ী তাই ২০ টাকা দিয়ে একটি লটারী কিনে নিজের ভাগ্যকে যাচাই করুন আর মটরসাইকেল সহ বাহারী উপহার বুঝে নিন এ ধরনের চমপ্রদায়ক অফার দিয়ে মাইকিং চলছে মেহেরপুর জেলার সর্বত্রই। গত কয়েকদিন যাবৎ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে সার্কাসের নামে র্যাফেল ড্র’র টিকিটি বিক্রি চলছে। এছাড়া নগ্ন নিত্য ও হাউজি খেলার প্রস্তুুতি চলছে। এছাড়া শ্রম আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও কোমল মতি শিশুদের দিয়ে সার্কাসের নামে তাদের জীবন হুমকীর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অবৈধ ভাবে এসব লটারি বন্ধের দাবি করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানায়,বিগত দিনে র্যাফেল ড্র’র নামে সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে মেহেরপুর জেলা থেকে বিপুল পরিমান অর্থ নিয়ে যায় র্যাফেল ড্র’র কর্তা বাবুরা। আবার অনেক শ্রমজীবি মানুষ দিনভর কাজকর্ম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে লাটারি কিনে গভীর রাত্রী পর্যন্ত ঐ আসরে বসে থাকে। তার আয়ের বেশির ভাগ টাকাই লটারির জন্য খরচ করে। এ নিয়ে দরিদ্র অভাব অনটনের কারণে ঐ সংসারে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। লটারি আর সার্কাস দেখতে মেহেরপুর জেলার পার্শবর্তী কয়েকটি উপজেলার উঠতি বয়সের কিশোর তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন। তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সালাম নামের এক পাখি ভ্যান চালক বলেন, মটরসাইকেলের লোভ সামলাতে না পেরে সন্তানদের জন্য জমানো টাকা দিয়ে ইতোপূর্বে র্যাফেল ড্র’র টিকিট কিনে কোন পুরস্কারই পাননী। জমানো টাকা লটারি কেনার কারণে তৎকালিন সময়ে সংসারে অশান্তি শুরু হলে বৌ তার বাবার বাড়ি চলে যায়। কুষ্টিয়া আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ পরিচালক মো: জহিরুল হোসেন বলেন, শিশু শ্রম নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। সার্কাসের নামে শিশুদের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হলে ঐ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গাংনী হাসপাতালের চিকিৎসক এম কে রেজা জানান,সার্কাসে শিশুরা জীবনের ঝুকি নিয়ে যেভাবে খেলা পরিবেশন করে তাতে তাদের মানসিক অবস্থা অনেকটাই দূর্বল হয়ে পড়ে। মেধা বিকাশে বড় ধরনে চোট খেতে হয়। তাই শিশুদের দূর্লোভ কিছু দেখানো বা তাদেরকে দিয়ে দূর্লোভ কিছু করানো ঠিক হবেনা। শামিম আহমেদ নামের এক শিক্ষক বলেন,যদিও অনেক শিশু বংশ পরামপর সার্কাসের সাথে জড়িত থাকলেও অনেকে শিশু আছে যারা সার্কাস জগত থেকে বের হয়ে আসতে চাই। এবং পড়াশুনা করে জীবন গড়তে চাই। পারিবারিক চাপের কারনেই তারা পশাশুনা থেকে বঞ্চিত থাকে।


ধানখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাদ্দেস হোসেন জানান,এ মাঠটি মুলত গ্রামবাসির। তবুও সার্কাস আয়োজক বৃন্দ আমার কাছে ১০/১২ দিন পূর্বে প্যান্ডেল করার অনুমতি চাই। স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমস্যা হতে পারে তাই অনুমতি দেয়া হয়নী। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাশার জানান,মাইকের শব্দে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেও পড়ালেখায় বিঘœ ঘটছে। স্কুল মাঠে এ ধরনের সার্কাস বা র্যাফেল ড্র’র আয়োজন করা ঠিক হয়নী। এসব বন্ধে শিক্ষা দপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধানখোলা ফুটবল মাঠের নিয়মিত একজন খেলোয়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন,প্যান্ডেল ঘেরার কারনে তারা খেলাধুলা করতে পারছেন না। এ মাঠে যারা একসাথে খেলাধুলা করি তারা সবাই অলস সময় পার করছি। গাংনী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায় র্যাফেল ড্র’র মাইকিংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতাউল গনী বলেন, অবৈধ কর্মকান্ডের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। লটারী বন্ধ করে দেয়া হবে।