জেলা সংবাদ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০১৯ |

রাব্বী আহমেদ, মেহেরপুর প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য একটি দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকে ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে ও স্বাধীনতা যুদ্ধকে সুশৃঙ্খল করতে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এ অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

১০ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকারের ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। ঘোষণাপত্রে সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী ও এএইচএম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

অন্যদিকে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার ও মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতার ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। এর মাধ্যমেই দেশ-বিদেশের মানুষ নবগঠিত একটি আইনানুগ সরকারের বিষয়ে জানতে পারে।

১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। মুজিবনগরে ১২ জন আনসার সদস্য বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

পরদিন দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণের এ সংবাদ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি পালনে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, স্কাউটস এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের গার্ড অব অনার প্রদান ও কুচকাওয়াজ।

কুচকাওয়াজের পর পরই আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তর দিবসটির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ শিরোনামের গীতিনাট্য উপস্থাপন করবে।

বেলা পৌনে ১১টায় মুজিবনগর শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। সভাপতিত্ব করবেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আরো উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা।

এছাড়া শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।