জেলা সংবাদ

মুজিবনগর শিশু পরিবার পরিচালনায় আয়া !

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০১৯ |

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মুজিবনগর শিশু পরিবারের দায়িত্বে কে আছে কেউ জানেনা। রবিবার ছিল বাংলা নববর্ষ। সব প্রতিষ্ঠানের ন্যায় শিশু পরিবারেও বিভিন্ন অনুষ্ঠনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ১লা বৈশাখ। এই দিন শিশুদের জন্য দুপুরে বরাদ্দ ছিলো উন্নত মানের খাবারের।  কিন্তু দুপুুর ৩ টারদিকে  কোন কর্মকর্তাকে খুজে পাওয়া যায়নি মুজিবনগর শিশু পরিবারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়. মোছা. শাহনাজ খাতুন নামে একজন মাত্র আয়া সেখানে তদরকি করছেন। শাহানাজ খাতুনের সাথে কথা বলে জানা যায় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত  কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা দুপুরের পর সবাই চলে যান। সার্বক্ষনিক দেখাশোনার দায়িত্বে কে আছে জানতে চাইলে শাহানাজ খাতুন বলেন, এডি আবু তালেব সার্বক্ষনিক এই প্রতিষ্ঠনের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তিনি আজ দুপুরে ট্রেনিং এর উদ্দেশ্যে মেহেরপুর ত্যাগ করেছেন। তার অবর্তমানে কে দায়িত্বে আছে জানতে চাইলে তিনি বলতে পারেননি। এসময় মুজিবনগর শিশু নিবাসের শিক্ষক সাইদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি একটা মিলাদ মাহফিলে ছিলাম। এডি আবু তালেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি অফিসিয়াল কাজে বাইরে যাচ্ছি। আমার অবর্তমানে তন্ময় কুমার সাহাকে দায়িত্ব দিয়ে  এসেছি। তন্ময় কুমার সাহা বলেন, আমাকে লিখিত বা মৌখিক কোন ভাবেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আবু তালেবের অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্বে আছে আমি জানিনা। কিছুক্ষন পর সেখাকার বাবুর্চি মো. লাল চাঁদ আলী উপস্থিত হন।  বাবুর্চি মো. লাল চাঁদ আলী বলেন,  এখানে শিক্ষক সহ মোট ১৫ জন আছে। শিক্ষকদের ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত থাকার কথা এবং এডি সাহেবের ২৪ ঘন্টা এখানে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু এডি স্যার ছুটিতে আছে তার অবর্তমানে কে আছে আমি জানিনা। মুজিবনগর শিশু পরিবারে মোট ৯০জন মেয়েকে দেখাশোনা করা হয়।গতকাল রবিবার  ৮৫ জন মেয়ে উপস্থিত ছিল। এই ৮৫জন মেয়ের দায়িত্বে ছিল মাত্র একজন আয়া। এলাকার এক চা দোকানি বলেন, এরকম ঘটনা শিশু পরিবারে প্রতিদিনিই ঘটে। এরকম অনিয়ম আরও অনেক আছে যে গুলো অজ্ঞাত কারনে ধামাচাপা পড়ে যায়। উপজেলা নির্বাহি আফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যতদুর জানি আবু তালেব সাহেব ছুটিতে আছেন কিন্তু বর্তমানে কে দায়িত্বে আছে সেটা আমার জানা নেই। এই ৯০ জন নারী শিশু নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দায়িত্ব কার কেউ বলতে পারছেনা। এদের কিছু হলে কে এর দায় নেবে তা নিয়েও সচেতন মুজিবনগর বাসী প্রশ্ন তুলেছেন।