ওজিলের সেই জ্বালাময়ী টুইট নিয়ে যা জানাল আর্সেনাল

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

উইঘুরে মুসলিমদের সঙ্গে চীনের অমানবিক আচরণ সম্পর্কে শুক্রবার এক জ্বালাময়ী টুইট করেছিলেন জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল।

আর ওজিলের সে টুইট বিস্ফোরণ ঘটায় নেটবিশ্বে। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আর তর্কবিতর্কে মুখর হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া।

সেই টুইট নিয়ে যখন এমন অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন তার ক্লাব আর্সেনাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওজিলের সেই টুইটের সঙ্গে আর্সেনাল ক্লাবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

শুক্রবার মেসুত ওজিলের করা টুইট সম্পর্কে দেয়া এক বিবৃতিতে আর্সেনাল বলেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসুত ওজিলের করা মন্তব্য তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন করে। এর সঙ্গে ক্লাবের মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। আর্সেনাল সবসময়ই একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

ক্লাবটির এই বিবৃতি চীনের সামাজিকমাধ্যম ওয়েবসাইট ওয়েইবোতে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

কী লিখেছিলেন ওজিল ওই টুইটে?

১৩ ডিসেম্বর করা সেই টুইটে ওজিল চীনের উইঘুর মুসলিমদের 'নির্যাতনের প্রতিরোধকারী যোদ্ধা' বলে প্রশংসা করে চীনের কঠোর সমালোচনা করেন।

পাশাপাশি উইঘুরে নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় মুসলিমবিশ্ব কেন এগিয়ে আসছে না সে জন্য হতাশা ও ক্ষোভও প্রকাশ করেন ওজিল।

আর্সেনাল এই সুপারস্টার লেখেন– ‘পূর্ব তুর্কিস্তানে কোরআন আগুনে জ্বালানো হচ্ছে, মসজিদে তালা দেয়া হচ্ছে, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, একে একে হত্যা করা হচ্ছে ওলামায়ে কেরামকে এবং যুবকদের বন্দি করে দাসত্বের জীবনের সম্মুখীন করা হচ্ছে।’

এর পরও মুসলিম বিশ্বের নীরবতায় অবাক মেসুত ওজিল।

উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনাদের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম ঘর থেকে পুরুষদের সেনাছাউনিতে বন্দি করে রেখে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একটি মেয়েকে জোরজবরদস্তি করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে একজন কমিউনিস্ট পুরুষের সঙ্গে। প্রতিটি পরিবারেই একজন কমিউনিস্ট এ মিশন বাস্তবায়ন করছে চীন সরকার।

উইঘুর মুসলিমদের জন্য দোয়া করে ওজিল লেখেন– হে মহান প্রতিপালক! পূর্ব তুর্কিস্তানে আমাদের উইঘুর ভাইদের সঙ্গে থাক। আল্লাহ চক্রান্তকারীদের জন্য উত্তম প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

প্রসঙ্গত, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে উইঘুরে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে কোনো বিচার ছাড়াই কড়া নিরাপত্তায় বিশেষ ক্যাম্পে আটকে রেখেছে চীন। মুসলমানদের স্বাধীনভাবে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না।

এমন সব অভিযোগে চীন সমসময়ই বলে আসছে, উইঘুর মুসলিমরা যেন জঙ্গিবাদে না জড়ায় সে লক্ষ্যে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে।