রাজনীতি

খন্দকার মোস্তাকের খোঁজে ড. কামাল-ইউনুস

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ■ বাংলাদেশ প্রেস

ওয়ান ইলেভেনের মত করে ‘আবার নতুন রাজনৈতিক দলের তোড়জোড়’ শিরোনামে গত ১২ নভেম্বর ২০১৯ একটি জনপ্রিয় বাংলা পোর্টালেএ খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটা খুব একটা পাঠক সমাদৃত না হলেও খবরটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অন্তত অনেকের কাছেই। খবরে বলা হয়, বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিকল্পধারায় যোগদান করেও অসন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগের কিছু নেতাও ভালো নেই, সামনে আরও কিছু নেতার ভাগ্যে কী আছে তা তাঁরা নিজেরা ভালো বোঝেন। তাই এদের সবাইকে নিয়েই নতুন একটি রাজনৈতিক দল গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বেই এই নতুন রাজনৈতিক দল হচ্ছে। অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে ড. কামাল হোসেন নন, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দলটি হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু শুরুতেই সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এরপর ড. ইউনুস রাজনৈতিক দল গড়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন। এরপর তাকে আর রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা যায় নি।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে সিনিয়র এবং প্রবীণ নেতারা দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এটা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিক্ষুব্ধদের এবং দেশের সুশীল নামে পরিচিত সমাজের একটি অংশকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে কারা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে কেউ না কেউ আছে তা নিশ্চিত। তা না হলে আবার এই উদ্যোগ কেন এখন যখন ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলো, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির জন্য ডান বামের অনেক বড় বড় নেতা আছে বাঁচার জন্য নতুন পথ খুঁজে ফিরছেন। বিকল্প একটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম খুঁজছেন, যাতে উঠে ক্ষমতার মসনদে যাওয়া যায়।

বিভিন্ন দল ও মতের মানুষেরা আবার নানা বাহানায় এক হবার চেষ্টা করছেন তাঁদের বিশেষ স্বার্থে। তাঁরা ভাবছেন যে, সুবিধাবাদীরা আওয়ামী লীগ ও তাঁর জোটের নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেখানে খন্দকার মোস্তাকের মত বেঈমানের অভাব নেই। তাঁদের ব্যবহারে তাই তাঁরা এবার কৌশল পালটেছে। এবার তাঁরা আর উত্তরা ষড়যন্ত্রের মত কোন বৈঠকের ঝুঁকি নিচ্ছে না। এবার কথা হচ্ছে বিদেশের মাটিতে। যার নেতৃত্বে আছেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস আর ড. কামাল হোসেন। ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা আছেন সাথে। তাঁরা নতুন কৌশল নিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে যে, ড. ইউনুস আর ড. কামাল গংদের সহায়তায় জামায়াতের টাকায় নিয়জিত লবিস্টরা তাঁদের গোপন মিটিং পয়েন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের একাধিক এনজিও অফিস। সেখানেই হচ্ছে নানা ষড়যন্ত্রের তথ্য আদান প্রদান, খোন্দকার মুস্তাকের সন্ধান। যাতে রোহিঙ্গা সহায়তার ছদ্দবারণে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন করা যায়। সুত্রে আরও জানায় যে, রিসদা- বাংলাদেশ নামে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি এনজিও যা পরিচালিত হয় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন যুদ্ধাপরাধীর টাকায়, তাঁর কক্সবাজার ও ঢাকার মীরপুরের অফিসে চলে সন্দেহজনক নানা কার্যক্রম। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লহাগড়া এলাকার একজন সাংসদ যিনি ফায়জুল্লাহ ফাউন্ডেশনের নামে যে কার্যক্রম চালান তাতেও অনেকের সন্দেহ। তাঁর অজ্ঞাতেই ফাউণ্ডেশনের কক্সবাজার অফিসের অভ্যন্তরে চলে সন্দেহজনক মানুষের আনাগনা। কারণ দপ্তরের অধিকাংশ কর্তা কর্মচারী রিসদা –বাংলাদেশের আদর্শিক গুরুর অনুসারী। কিন্তু বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের রায়ে কোন বাহিনীর ক্ষমতা নেওয়া অবৈধ ঘোষণা আর জাতিসংঘ শান্তি মিশনের শর্তের কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা কোন বাহিনীকে দিয়ে কিছু করাতে পারছে না।