রাজনীতি

যুবলীগের সম্মেলনঃ প্রধানমন্ত্রী বয়সের ব্যপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর সম্মেলন প্রায় শেষ পর্যায়। বাকি আছে শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কংগ্রেস। আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কংগ্রেসের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময় আওয়ামী লীগের যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সবচেয়ে বেশি সমলোচনায় বিদ্ধ আছে তার মধ্যে যুবলীগ অন্যতম। এই শুদ্ধি অভিযানের আগে যুবলীগই ছিল আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠনের একটি।

কিন্তু এই সংগঠনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে। এই অভিযোগের কারণে এই ভ্রাতৃপ্রতীম সহযোগি সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী এখন জেলে। সংগঠনের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। যুবলীগের এই টালমাটাল ঘটনা প্রবাহে একটি বিষয় সামনে এসেছিল তা হলো যুবলীগের বয়স সীমা কত হতে পারে?

যুবলীগের সদ্য অব্যহতি প্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বয়স ৭০। দলের যারা প্রেসিডিয়ামে আছেন তাদের অধিকাংশের বয়সই ষাটোর্ধ। গণমাধ্যমে এই প্রশ্ন উঠেছিল যে, ষাটোর্ধ কেউ যুবলীগের নেতৃত্ব পেতে পারে না। এই প্রেক্ষিতে যুবলীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই বৈঠকে যুবলীগের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। সেটা করা হয়েছিল পঞ্চান্ন বছর। যদিও দেখা যাচ্ছে যদি পঞ্চান্ন বছর বয়স যদি বহাল থাকে তাহলে দলের প্রেসিডিয়ামের ৮০ ভাগ সদস্যই বাদ পড়ে যাবেন। সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্ব আসতে হবে।

আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে যে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রায় পুরোটাকে বাদ দিয়ে আনকোরাদের নিয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করলে যুবলীগ কি সংগঠন হিসেবে টিকে থাকতে পারবে? যুবলীগ কি আগের মতো যুবসমাজকে সংগঠিত করতে পারবে? আর এই প্রশ্নের পেছনেই বয়সসীমা আরও এক মেয়াদে শিথিল করার বিষয়টি সামনে এসেছে।

আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, ৫৫ বছরের যে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে তা চূড়ান্ত হবে কংগ্রেসে। সেটি এ বছরের জন্য প্রয়োগ নাও হতে পারে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন যে, এখন যুবলীগকে পরিশুদ্ধ করা দরকার। যুবলীগের মধ্যে যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে, যারা যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে বিচিন্ন অপকর্ম করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে পুরো যুবলীগের কাঠামোকে পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন। এটা করার জন্য এমন ব্যাক্তি দরকার যারা যুবলীগের খোলনলচে চেনেন। যে যুবলীগের সবার অন্দরবাহিরের খবর রাখেন। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে যদি নেতৃত্ব দেওয়া হয় তাহলে তিনি এই বিষয়টি সম্বন্ধে পুরোপুরি ওয়াকিবহল হবেন না, যুবলীগের ভেতরে যে সমস্ত অপকর্মকারীরা রয়েছেন তারা বহাল তবিয়তেই থাকবেন। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এবার বয়সসীমা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর বিরুদ্ধে স্রোতও রয়েছে। আওয়ামী লীগের অন্য একটি মহল মনে করছে যে, বয়স সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কাজেই এখন যদি বয়সসীমা শিথিল করা হয় তাহলে সেটা হবে কথার বরখেলাপ। সেটা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রতি সুবিচার করা হবে না।

তারা মনে করছে যে আওয়ামী যুবলীগ একটি বড় সংগঠন। যদি দলের থেকে যে সমস্ত মুষ্টিমেয় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্বৃত্তদেরকে বের করে দেওয়া হলেও আওয়ামী যুবলীগের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে। তখন সাধারণ মেধাবী তরণরা যুবলীগে যোগ দিতে উৎসাহিত হবে। আর এই বিবেচনা থেকেই তারা বয়সসীমা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়োজন অনুভব করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বসয়সীমার ঘোষণাটি যেহতু আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা দিয়েছেন, তাই  এ ব্যপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি আজ তিন দিনের সফরে দুবাই গিয়েছেন এবং ফিরে এসেই তিনি কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস দিবসে দিনভর  ব্যস্ততা রয়েছে। ২২ তারিখে এক দিনের সফরে তিনি কলকাতার ইডেন গার্ডেনে যাবেন । সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের দিবা-রাত্রীর টেস্ট তিনি উদ্বোধন করবেন। এর পরের দিনই যুবলীগের সম্মেলন। সেই সম্মেলনেই প্রধানমন্ত্রী বয়সের ব্যপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।

শেষ পর্যন্ত বয়স থাকবে কি থাকবে না তার উপর নির্ভর করছে যুবলীগের অনেক কিছু। কারণ বসয়সীমা যদি শিথিল করা হয় হয়. তাহলে যুবলীগের বর্তমান নেতৃত্ব থেকে কাকে বাছাই করা হবে? যারা নতুন নেতৃত্বের জন্য যারা যুবলীগের বদনাম গুলোকে কাটিয়ে নতুন আঙ্গিকে যুবলীগকে জনগণের সামনে আনবে।

আর বেধে দেওয়া বসয়সীমা অর্থাৎ ৫৫ বছরের মধ্যে যুবলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে হয় তাহলে এই যুবলীগ পুরোটাই একটি নতুন যুবলীগ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোন পথে যাবে যুবলীগ সে সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।