রাজনীতি

আজ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে দখল করে নিবে ছাত্রলীগ!

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলন। দীর্ঘ ৯ বছর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে শনিবার (১৬ নভেম্বর) স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সংগঠনটিতে নেতৃত্বের পালাবদল হতে যাচ্ছে বলেই প্রাপ্ত তথ্যে জানা যাচ্ছে।

সংগঠন সূত্র বলছে, এবার জাতীয় সম্মেলনে থাকবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন ও পুরনোদের সমন্বয়। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে থেকেই স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে থেকে যারা যেখানে থাকতে চায় এবং যাদের ক্লিন ইমেজ আছে, সৎ, কর্মঠ- তাদেরকে নেতৃত্বে আনা হবে। এদিকে সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনের শেষমুহূর্তে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদের স্থান পেতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন এক ডজন নেতা।

উল্লেখ্য, ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযুক্ত সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার ও নানা অভিযোগের কারণে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে সংগঠন থেকে অব্য’হতি দিয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য অনেক আগেই এসেছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দী’পনা বিরাজ করছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। দুই পর্বের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। সংগঠনের পদপ্রত্যাশী নেতারা এরইমধ্যে নিজের জানান দিয়েছেন দল ও সংগঠনের বিভিন্ন মহলে। সম্মেলনকে ঘিরে সারা দেশে থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা এরইমধ্যে ঢাকায় এসেছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনু’যায়ী ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়। শনিবার সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যা’নে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন অ’নুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে সম্মেলন আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ এবং সদস্য সচিব হিসেবে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হক সাচ্চু। সম্মেলনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলনেই সংগঠনের মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতৃত্বের ঘোষ’ণা আসবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগে ক’লঙ্কের দাগ লাগেনি- এমন স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের নেতার খোঁজে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাও চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দুর্দিনের পোড় খাওয়া কর্মীদের হাতে তুলে দিতে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটির এবারের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ভূমিকা গুরুত্ব’পূর্ণ। তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন। কাজেই নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি একটা ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়াও সরকারের শু’দ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগের অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মীর নাম আসে। তাই নতুন নেতৃত্ব বাছাই হবে এসব বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনের শেষমুহূর্তে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে স্থান পেতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন এক ডজন নেতা। বিশেষ করে স্বেচ্ছাবেসক লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে কয়েকজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রগুলো। এদের মধ্যে দলীয় হাইকমান্ড থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলে তারা তদবির-লবিয়িংয়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে সর্বশেষ নেতৃত্বের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার চূড়ান্ত নির্দেশের দিকে তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে সামনে রেখে শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের বেশিরভাগই অতীতে ছাত্রলীগের প্রথম সারির নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কারাভোগকারী, শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমান কমিটি যেমন ১৪ বছর পর হচ্ছে সম্মেলন, ভবিষ্যতে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘ’টে। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হলে যথাযথ সময়ে সম্মেলন চান কর্মীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হওয়ায় অনেক সম্ভা’বনাময় ও যোগ্য নেতৃত্ব হারাতে হতে পারে।

সংগঠনের দলীয় তথ্য অনুযায়ী, এবারে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন- সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ এবং আরেক সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতি। এ ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তু’তি কমি’টির সদস্য সচিব মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চুর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা ওয়ান ইলেভেন এবং আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথের নেতা ছিলেন।

দলীয় তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবারের সহ’যোগী সংগঠনে সা’বেক ক্লিন ইমেজের ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী এ সংগঠনের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল ও আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শাকিব বাদশার নাম।

তরুণ নেতাদের মধ্যে শেখ সোহেল রানা টিপুর নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিপু চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হন। ও’য়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকা রাখেন তিনি। সেসময় তিনি ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পাশাপশি শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সম্মেলনে নেতৃত্বের প্রত্যা’শা জানতে চাইলে শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, নিজ সংগঠনে নেতৃত্ব পাওয়ার প্রধান মানদণ্ড হোক ক্লিন ইমেজ, ত্যাগী মনোভাব, সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন নে’তা। যারা বঙ্গবন্ধুর আর্দশ লালন করে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে তাদেরই নেতৃত্বে থাকা দরকার।

এ ছাড়াও তরুণ নেতাদের মধ্যে ক্লিন ইমেজ খ্যাত ও সাবেক ছাত্রনেতা সাজ্জাদ শাকিব বাদশার নামও সংগঠনের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছে। আওয়ামী লীগের দুঃসমেয় বাদশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। শেখ সোহেল রানা টিপু ও বাদশা একই কমিটির ছাত্রনেতা। তার নামে এখনো কোনো সাংগঠনিক অভিযোগ নেই। এর ফলে তিনি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার আ’স্থা অর্জন করতে পেরেছেন।

সাজ্জাদ সাকিব বাদশা বলেন, সততা, নি’ষ্ঠা এবং নিঃস্বা’র্থভাবে দলের জন্য সবসময় কাজ করেছি। আমি আশা করি, যারা দু’র্দিনে এই দলের প্রয়োজনে জীবনবাজি রেখে রাজপথে লড়া’ই-সং’গ্রাম করেছেন, দুর্নীতি যাদের স্প’র্শ করেনি, সম্মেলনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক লীগে এমন নেতৃত্ব আসবে।

আলোচনায় রয়েছেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রী’য় কমিটির সাং’গঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজপথে। স্কুল জীবনে মাদারীপুর জেলায় ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে স’ম্পৃক্ত ছিলেন জুয়েল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাল’ন করেছেন। বিএনপি-জা’মায়াত জোট সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাভোগ করেন। ও’য়ান ইলেভে’নের সময় এক বছর কারাভোগ করেন জুয়ে

সম্মেলন নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে খায়রুল হাসান জুয়েল বলেন, ওয়া’ন ইলেভেনে নেত্রীর কারামুক্তির আন্দোলনে এক বছরের বেশি জেল খেটেছি। বিএনপি-জা’মায়াত জোট সরকারের আমলে বার বার হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, কা’রা নির্যা’তন ভো’গ করেছি। সততা স্বচ্’তা কমিটমেন্ট এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে দলের জন্য সবসময় নিয়োজিত রেখেছি। আমি মনে করি, নেতৃত্বে যে-ই আসুক, তার যেন অবশ্যই সততা, স্বচ্ছতা, কনট্রিবিউশন এবং কমিটমেন্ট থাকে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আফজাল বাবু, বর্তমান কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা ও বর্তমান ক’মিটির সহ-প্রচার সম্পাদক ওবাদুল হক খানের নামও শো’না যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ৩ বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ ২০১২ সালে ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রী’য় ক’মিটি গঠন করা হয়। এর পর আর নেতৃত্ব বদল হয়নি। ওই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পান মোল্লা আবু কাওছার, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান পংকজ দেবনাথ।