রাজনীতি

দলীয় প্রতিকে উপজেলা নির্বাচনে যাবে বিএনপি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

দলীয় প্রতীকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি বৈঠকের মাঝপথে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ১৪ অক্টোবর ৮টি উপজেলায় যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে আমরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অংশ নেয়ার এই সিদ্ধান্ত নিল।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড.আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। 

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে বলে জানান ফখরুল। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসামের নাগরিকপুঞ্জি নিয়ে সেখানকার মন্ত্রীবর্গ, বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের  যেসব বক্তব্য ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে, ১৯ লাখ যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ বাংলদেশি নাগরিক। আমরা এহেন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য কিছু উদ্দেশ্য প্রণোদিত। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে যে, সরকার এ ব্যাপারে নিরব থাকছে। এখানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে যে বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠকে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে নিশ্চিত করেছে যে, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

বিষয়টা যখন বাদ পড়াদের বাংলাদেশের নাগরিক বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে তখন কিন্তু সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকছেন না। আমরা এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা বাংলাদেশের সরকারের কাছে এই ব্যাপারে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাই, ব্যাখ্যা দাবি করছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারি আধা সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্ধৃত্ত অর্থ সরকারের নিয়ন্ত্রণের আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে আসলে সরকার অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেউলিয়া হয়ে  গেছে। এখন যেসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের জমাকৃত উদ্ধৃত্ত আছে তা কখনো কেউ হাত দিতে হয়নি।

অথচ সরকার বলছে সেটা তারা বিভিন্ন প্রজেক্টে ব্যয় করতে চায়। মহাসড়কে টোল আদায়ের সরকারের সিদ্ধান্তেরও নিন্দা জানিয়েছে স্থায়ী কমিটি বলে জানান মির্জা আলমগীর।