রাজনীতি

ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ■ বাংলাদেশ প্রেস

দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব নেতাকর্মীর বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

ওই সব নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে গোলাম রাব্বানীর পদ হারানোর ঘটনা কঠোরতারই ইঙ্গিত। শোভন-রাব্বানীর বিষয়ে অনেক অভিযোগ, যেগুলো নানা জায়গায় ঘুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছেছে। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী সংসদের সভায় নেত্রী নিজে থেকেই ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তুলেছেন। উনি এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে নিজে থেকেই বলেছেন, শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এরা আসলে মনস্টার হয়ে গেছে। এদের আর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকার দরকার নেই।

ওই নেতা জানান, সাংগঠনিক আলোচনার এক পর্বে দলের সাধারণ সম্পাদক ও একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অপর এক সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ওই সহযোগী সংগঠন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে জানান তারা।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জানান, একথা শুনেই অনেকটা বিরক্তি প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, চাঁদার টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। নিজের জন্য এ ধরনের মিলাদ মাহফিল চান না বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। সম্পাদকমণ্ডলীর ওই সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সেই সহযোগী সংগঠনটির বিরুদ্ধে পাওয়া সব অভিযোগ তুলে ধরেন, যার মধ্যে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে ক্যাসিনো ব্যবসা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের অপর একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলেন, নেত্রী মিটিংয়ে কয়েকবার বলেছেন, আমি সবার বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখি। কে কী করে। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ বড় ঘটনা। এই জন্য সারা দেশের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতাদের আগ্রহ। কিন্তু অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিষয়েও নেত্রীর কাছে অভিযোগ আছে। নেত্রী যখন-তখন ধরবেন বলেই মিটিংয়ের কথা শুনে মনে হয়েছে।

দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, মিটিংয়ে নেত্রী সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে দলের সাংগঠনিক অবস্থা জানতে চান। এ সময় নেতারা বলেন, সব ঠিকঠাক আছে। দু-একটা জায়গায় সমস্যা আছে, আমরা ঠিক করতে পারবো।

ওই নেতা জানান, এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ফাইল বের করে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমের কাছে জানতে চান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সম্মেলন কবে হয়েছে? পরে সব সাংগঠনিক সম্পাদকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই মেয়াদে আপনারা শুধু একটি জেলা ইউনিটের সম্মেলন করতে পেরেছেন। জেলায় জেলায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে আসেন, দলের কাজ তো কেউ করেন না।

এদিকে গত সোমবার ও বুধবার উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেয়া পদধারী ১৭৭ জন নেতাকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দলটির একজন সম্পাদক বলেন, নেত্রী মূলত দলে একটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। শোকজের বিষয়টি উনি কেস-টু-কেস দেখবেন। তারপর শোকজ নোটিশের জবাবের ভাষা ও পরিস্থিতি দেখে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

অপর দিকে রোববার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলো। বাধ্যতামূলক এই দু-একজনকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছে। অন্যায় অনিয়ম যেই করুক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছাত্রলীগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বার্তাটা দলের ও সহযোগী সংগঠনের সবার জন্য অত্যন্ত জোরালো। আরও দু-একটা সহযোগী সংগঠন সম্পর্কে উনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছেন যে, প্রচলিত আইনে সবাইকে দেখতে হবে।