রাজনীতি

টিকিটের কালোবাজারি লুকিয়ে আছেন তা ধরা পড়ল আওয়ামী লীগের ফাঁদে

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০১৯

দিনাজপুর প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল স্টেশন। ট্রেনের টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। দেখে মনে হবে সবাই নিয়ম মেনেই  টিকিট সংগ্রহ করছেন।

তবে এদের মধ্যেই যে টিকিটের কালোবাজারি লুকিয়ে আছেন তা ধরা পড়ল আওয়ামী লীগের ফাঁদে।  

টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক।

মোবাইলে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলেন তারা ট্রেনের যাত্রী কিনা।

জানা গেল, এদের মধ্যে দুজন ট্রেনের যাত্রী। ঈদের পর তারা কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। অন্য তিনজনের একজন টিকিট নেবেন তার মেয়ের জন্য। মেয়ে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঈদের আগের দিন পার্বতীপুর পৌঁছাবেন। ঈদ শেষে মেয়ে নির্বিঘ্নে যেন কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেন সে জন্য বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।

অন্য দু’জনের একজন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে লাইনের দাঁড়িয়ে ছিলেন।

অপরজন নেছার আলী সন্দেহভাজন টিকিট কালোবাজারি।

শুক্রবার সকালে পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক এক বক্তব্যে বলেন, বহুদিন থেকে পার্বতীপুর রেল স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি হয়ে আসছে। প্রকৃত ট্রেন যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হন, তিন থেকে চার গুণ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন।

তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গত ৩ আগস্ট উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল মোমিনীন মোমিনকে আহ্বায়ক করে টিকিট কালোবাজারি রোধে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

জানা গেছে, এ কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোশাররফ হোসেন সমাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক অভি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

উপজেলা চেয়ারম্যান এই কমিটিতে সহযোগিতা করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রেহানুল হক, পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার অফিসার (ওসি) এসএম আরিফুল হক ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান।