রাজনীতি

সরকার ও দল আলাদা করার পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

সরকার ও দল আলাদা করার ভাবনা একুশতম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে দলীয় পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন মন্ত্রীদের কেউ কেউ। নেতারা বলছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও গতি আনার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

দুহাজার নয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই দল ও সরকারকে আলাদা করার ভাবনা আওয়ামী লীগে। চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে এই ভাবনার বড় বাস্তবায়ন করতে চাইছে ক্ষমতাসীন দল।

২০১৪ থেকে ২০১৮ মেয়াদে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার পর বিশতম সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ হারান সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর, অর্থ সম্পাদক আ হ ম মুস্তফা কামাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইয়াফেস ওসমানসহ অনেকে। চলতি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিমসহ অনেকে। আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৭। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির পদে আছেন দশ জন।

নেতারা বলছেন, দল ও সরকারকে আলাদা করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একুশতম সম্মেলনে দলীয় পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনেকে। আবার দলীয় পদ থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ স্থান পেতে পারেন সরকারে।  

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, 'আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই চেয়েছেন দল এবং সরকারকে নিয়ে আলাদা করে কাজ করার। এর ফলে আওয়ামী লীগে যথেষ্ট পরিমাণে নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে, যার মাধ্যমে নেত্রী সরকার এবং দলকে আলাদা দুটি গ্রুপে ভাগ করতে পারে।'

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, 'দায়িত্ব বন্টনের বিবেচনায় কেউ সরকারে থাকেন এবং কেউ সরকার ও দল দুটির দায়িত্বেই থাকেন। কেউ দলের গুরুত্বপুর্ন পদে থাকলে দলে তাকে বেশি সময় দিতে হয়, এর ফলে দেখা যায় যে সরকারে সে তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেন না।'

সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে জল্পনা-কল্পনা। নেতারা বলছেন, এই পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকই থাকবেন না-কি নতুন কেউ আসবেন, তা নির্ধারণ করবেন দলীয় প্রধান।

এ বিষয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, 'এটি পুরোপুরি দলীয় প্রধানের ইচ্ছা। তিনি যদি মনে করেন যে যিনি আছেন তিনিই থাকবেন সেটি তার অভিব্যক্তির বিষয়। তবে আমি মনে করি এই পদের জন্য আওয়ামী লীগে একাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি আছে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, 'আমাদের দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খুবই দক্ষতার সঙ্গে তার দল এবং মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই আমার কাছে মনে হয়না তার পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন আছে।'

আওয়ামী লীগ বলছে, সরকার ও দলকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেয়ার চিন্তা আগামী সম্মেলনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।