রাজনীতি

  • জাপার মনোনয়নপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ২০ নভেম্বর

    জাপার মনোনয়নপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ২০ নভেম্বর

  • সংবাদমাধ্যম সজাগ দৃষ্টি রাখবে, আশা ঐক্যফ্রন্টের

    সংবাদমাধ্যম সজাগ দৃষ্টি রাখবে, আশা ঐক্যফ্রন্টের

  • জনগণই মহাজোটকে ক্ষমতায় বসাবে : বাবলা

    জনগণই মহাজোটকে ক্ষমতায় বসাবে : বাবলা

  • ঐক্যফ্রন্ট জিতলে প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবে সংখ্যাগরিষ্ঠরা

    ঐক্যফ্রন্ট জিতলে প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবে সংখ্যাগরিষ্ঠরা

  • ইসিকে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীর তালিকা দিলো বিএনপি

    ইসিকে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীর তালিকা দিলো বিএনপি

নির্বাচনে ‘সৎ ও নিষ্কলুষ প্রার্থী’ বাছাই করুন

শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ-পন্থী থিঙ্কট্যাঙ্কের পরামর্শ

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ প্রেস

বাংলাদেশে নির্বাচনের এক মাসের সামান্য কিছু বেশি সময় আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখন বিরোধী ঐক্যফ্রন্টের দিক থেকে প্রবল চাপের মুখে আছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য ‘ভাল, কলুষমুক্ত ও সৎ’ প্রার্থী বাছাই করতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ঢাকা-ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক থিঙ্কট্যাঙ্ক তাদের সুপারিশে এ কথা বলেছে।

থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানটির কিছু পর্যবেক্ষণ সাউথ এশিয়ান মনিটরের হাতে এসেছে। এতে শেখ হাসিনাকে তার বর্তমান মন্ত্রিসভার ৪৮ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ অবস্থায় থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সম্মিলিত বিরোধী দলকে মোকাবেলার জন্য দলের মৌলিক সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে।

এক গুচ্ছ সুপারিশ ছাড়াও নির্বাচনে সাধারণভাবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সম্ভাবনা এবং বিশেষভাবে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্ভাবনা নিয়ে একটি রিপোর্ট অক্টোবরের শেষ দিকে হাসিনার কাছে দেওয়া হয়েছে।

থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানটি শেখ হাসিনাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, বিশেষ করে এমন একটা সময় যখন সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষভাবে ভারত জোর দিয়ে বলছে যে বাংলাদেশকে অবশ্যই একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নিশ্চিত করতে হবে, তখন “শুধুমাত্র পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করা হবে খুবই বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ”।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-ঘেঁষা নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিয়ে থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানটি চতুর্থ একটি সুপারিশ করেছে। এতে যে বার্তা দেয়া হচ্ছে, সেটা হলো বাংলাদেশের রাজনীতির একটা সঙ্কট মুহূর্তে সরকার ‘গণতন্ত্রপন্থী এবং মুক্তিযুদ্ধ-পন্থী শক্তির’ মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত এবং এটা না করলে সঙ্ঘাত ও সহিংসতা বাড়বে।

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী গত ৫ নভেম্বর বিরোধী ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার পর ফ্রন্টের শক্তিটা খানিকটা বেড়েছে। ঐক্যফ্রন্ট বর্তমানে হাসিনার সাথে আলোচনার জন্য দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতাসীন দলের অবস্থানও দৃশ্যমানভাবে নমনীয় হয়েছে এবং তারা এরইমধ্যে সারা দেশে বিরোধী দলের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমাবেশ আয়োজনের দাবি মেনে নিয়েছে এবং ফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে।

বিএনপি তাদের দিক থেকে বুঝতে পেরেছে যে এক ধরনের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য হাসিনা সরকারের উপর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে এবং সে কারণে তারা দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে চাপ বাড়াচ্ছে। কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার কথা বললেও বিএনপি সেটা গ্রহণ করেনি।

সাউথ এশিয়ান মনিটরকে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া অন্য কিছু চাই না”। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন এবং আওয়ামী লীগের নমনীয় অবস্থানের পেছনে ভারতের হাত রয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘অবশ্যই’। তিনি আরও বলেন, “আমি এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই”।

তবে, বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের কয়েকটি সূত্র স্বীকার করেছেন যে, খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে চার দিন আগে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ‘চরম মতবিরোধ’ দেখা দেয়। বিএনপির অন্তত তিনজন সিনিয়র নেতা তাৎক্ষণিকভাবে ওবায়দুল কাদেরের ‘প্যারোলে’ মুক্তির পক্ষে মত দেন। তবে আরেকটি পক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে বলে “মুক্তি জামিনে হতে হবে এবং এটা ছাড়া অন্য কিছু নয়”। সাউথ এশিয়ান মনিটরের কাছে আলমগীর যে মন্তব্য করেন, তাতে দলের স্থায়ী কমিটির তিন প্রভাবশালী সদস্যের মতের সংশোধিত মতটি ফুটে উঠেছে।

প্যারোল ইস্যু নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন: “খালেদা জিয়ার জন্য প্যারোলের বিষয়টি মেনে নেয়া অসম্ভব। তার জামিন হতে হবে”। তাছাড়া, রায় এবং তার আরও কয়েকজন সিনিয়র দলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেছেন যে, খালেদা জিয়া নিজেও “প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নাকচ করে দিবেন”। একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অবশ্য প্যারোল ইস্যুটিকে নাকচ করে দেন এবং এটাকে বিএনপির মনোযোগ সরানোর জন্য আওয়ামী লীগের কৌশল হিসেবে আখ্যা দেন।

২ নভেম্বর ১৫ সদস্যের স্থায়ী কমিটির আরেকটি বৈঠক হয় যেখানে সাতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় আরেকটি ইস্যু নিয়ে সেখানে মতভেদ দেখা দেয় – সেটা হলো বিএনপি আদৌ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে যে, রায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন তিনি দলের একটা অংশের সাথে হাসিনা সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের আলোচনায় অংশ নিতে রাজি নন। সূত্র ইঙ্গিত দেয় যে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিবে বলে ড. খন্দকার মোশাররফ ও আলমগীর জানালেও গয়েশ্বর রায় ও মির্জা আব্বাস জোর দিয়ে বলছেন যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি মেনে না নিলে বিএনপিকে নির্বাচনেঅংশ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাহী কমিটিতে আলোচনার কথা থাকলেও ৫ নভেম্বর নির্ধারিত বৈঠকটি হতে পারেনি। নির্বাচনে মনোনয়নের আশায় থাকা বিএনপি নেতৃত্বের অপেক্ষাকৃত তরুণ অংশ বলেন যে, নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে পিছিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো এখনই দল খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাওয়া এবং এক পর্যায়ে গিয়ে নিবন্ধন হারানো।

বিএনপি যদিও মনে করছে যে, ২৮ জানুয়ারির পর জাতীয় সংসদ নিজ থেকেই বিলুপ্ত হওয়ার পর নির্বাচন হওয়া উচিত, কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচনের আয়োজন করতে চায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশন ৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে আরেক দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনা ফ্রন্টের দাবি পূরণে কতটা এগোবেন সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ নিজেও নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে এটা এমন এক সময় যখন দলের সিনিয়র নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এই ধারণা জন্মেছে যে, ভারতের চাপে প্রধানমন্ত্রী ফ্রন্টের জন্য ‘কিছু নির্বাচনী জায়গা ছেড়ে দিতে’ বাধ্য হয়েছেন।

তারা এমনকি দলের নেতাদের হেফাজতে ইসলামের সাথে ‘জোট’ গড়া নিয়েও ভুরু কুঁচকেছেন। হেফাজত গত ৪ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিয়েছে এবং তাকে ‘কওমি জননী’ খেতাব দিয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, হেফাজতে ইসলামের অসুস্থ আমীর আল্লামা শাহ আহমেদ শফীকে সংবর্ধনায় অংশগ্রহণের জন্য হাটহাজারীর মাদ্রাসা থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় সমাবেশস্থলে নিয়ে আসা হয়। অনুষ্ঠান শেষ হলে একই হেলিকপ্টার আবার তাকে হাটহাজারী দিয়ে আসে।


সুত্রঃ সাউথএশিয়ান মনিটর


আরও পড়ুন

মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ...

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন ভাসানী

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন ভাসানী

মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন ...

পার্লামেন্টে এবার মরিচের গুঁড়া; পুলিশের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ

পার্লামেন্টে এবার মরিচের গুঁড়া; পুলিশের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ

কিছুতেই কাটছে না দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার রাজনৈতি ও সাংবিধানিক সংকট। গত ...

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪, নিখোঁজ ১০১১

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪, নিখোঁজ ১০১১

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪। ...

হাইপার টেনশনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

হাইপার টেনশনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ছোট বড় সব দলের ...

মুন্সীগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধে ১০ মামলার আসামি নিহত

মুন্সীগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধে ১০ মামলার আসামি নিহত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিম বাড়ৈখালীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১০ মামলার ...

নেইমারের গোলে উরুগুয়েকে সহজেই হারাল ব্রাজিল

নেইমারের গোলে উরুগুয়েকে সহজেই হারাল ব্রাজিল

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচে পেনাল্টি থেকে করা ...

নয়াপল্টন সংঘর্ষ: ‘কী ঘটেছে’ পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চাইছে ইসি

নয়াপল্টন সংঘর্ষ: ‘কী ঘটেছে’ পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চাইছে ইসি

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কাছে ...