রাজনীতি

  • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ দফা দাবি দিলো গণফোরাম

    সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ দফা দাবি দিলো গণফোরাম

  • এনডিপি'র বিশেষ কাউন্সিল

    এনডিপি'র বিশেষ কাউন্সিল

  • কাদেরকে অব্যাহতি : বিরোধী দলীয় উপনেতা হলেন রওশন

    কাদেরকে অব্যাহতি : বিরোধী দলীয় উপনেতা হলেন রওশন

  • বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ ভুলক্রমে ঢুকলেও ছাড় পাবেনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ ভুলক্রমে ঢুকলেও ছাড় পাবেনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • খালেদার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির ঝটিকা বিক্ষোভ

    খালেদার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির ঝটিকা বিক্ষোভ

শোকসভায় সংঘর্ষের নেপথ্যের কারণ নিয়ে নানান গুঞ্জন : দোষীরা আড়ালে

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০১৮     আপডেট: ০২ মার্চ ২০১৮

কামরুজ্জামান রনি, ব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম

গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণ সভায় এবং এরপর দিন ২৭শে ফেব্রুয়ারি উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে অনুষ্ঠান দুটি পন্ড হলেও এর কারণ অনুসন্ধান, দোষীদের চিহ্নিত করণ এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যদিও ২৭শে ফেব্রুয়ারি উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চট্টগ্রামে গন মাধ্যমকে বলেছিলেন,দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে দুটো ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। এদিকে পুলিশ প্রাশাসনও স্বপ্রনোদিত হয়ে কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেননি। যদিও সম্মেলন অনুষ্ঠানে সরকারের একজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিলো বলে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ গুলি চালিয়েছিলো বলে শোনা যায় । ফেব্রুয়ারির ২৬ ও ২৭ তারিখের ঘটনায় কোন মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নগর পুলিশের উত্তর জোনের ডিসি এস.এম মোস্তাইন হোসেন বাংলাদেশ প্রেসকে বলেন,"ছাত্রলীগের দুটো ঘটনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।" সম্মেলনের দিন পুলিশের কোন একশন ছিলো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন কোন ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটেনি। সম্মেলন উপলক্ষ্যে আতশ বাজি ফুটানো হয়েছিলো বলে জানান তিনি।


ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠলেও সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতারা বিষয় দুটো নিয়ে অনেকটাই নীরব অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একজন সহ-সভাপতি বাংলাদেশ প্রেসকে জানিয়েছেন, "চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন। তাই শেষ মূহুর্তের এই ঘটনা দুটো সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অনেকটা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।" তাই সম্মেলন পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিষয় গুলো কোন ভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করা হচ্ছে বলেই তিনি মনে হচ্ছে। তবে শীঘ্রই আংশিক হলেও উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষনা করা হতে পারে বলে জানান তিনি।


বাংলাদেশের প্রেসের অনুসন্ধানে ২৬শে ফেব্রুয়ারি মহিউদ্দিনের শোকসভার দিনের ঘটনা নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন শোকসভায় যোগ দেয়ার কথা নিশ্চিত ছিলো। সেদিন বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে সিটি মেয়র নাছির উদ্দিন নগরির এস.এস খালেদ রোডস্থ মাহতাব উদ্দিনের বাস ভবনে এসে উপস্থিত হন।সূত্রটি জানিয়েছে, "মেয়র নাছির মাহতাব উদ্দিনকে জানায়, কেন্দ্রীয় কোন নেতা এই শোক সভায় যোগ দেবে না।" মাহতাব উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সেদিন কথা ছিলো লালদিঘীর মাঠ থেকে মেয়র নাছির সহ দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে যাবেন। কিন্তু মেয়র নাছির এসে বার্তা দেয়ায় বর্ষিয়ান নেতা মাহতাব উদ্দিন বিভ্রান্ত হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত মেয়র নাছির মাহতাব উদ্দিনের ঘরে অবস্থান করেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। নগর ছাত্রলীগের মহিউদ্দিনের অনুশারী এক শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতা দাবী করেন, যারা ২৪ তারিখে একক স্বিদ্ধান্তে নগর ছাত্রলীগের সম্মেলনের ঘোষনা দিয়ে প্রত্যাখাত হয়েছে তারা প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে পরিকল্পিত ভাবে এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। সন্দেহের তীর কেন্দ্রীয় এক সাংগঠনিক সম্পাদকের দিকে আর তার হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক সাধারণ সম্পাদক নগর ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মীকে আগামী কমিটিতে পদ পদবীর প্রলোভন দেখিয়ে শোকসভার দিন এমন বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে বলেও জানান তিনি। এই বিষয় গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রকে জানানো হয়েছে বলেও এই নগর নেতা দাবী করেন।


২৬ তারিখের শোক সভায় মেয়রের অনুশারি নগর ছাত্রলীগের অংশটির শোক সভায় যোগদান থেকে বিরত থাকে। এই বিরত থাকার কারণ সম্পর্কে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এবং মেয়র অনুশারি ছাত্রলীগের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বাংলাদেশ প্রেসকে বলেন, "মহিউদ্দিন ভাই আমাদের সবার সম্মানিত ব্যাক্তিত্ব। তাঁর শোকসভার আয়োজনটি নগর ছাত্রলীগের ব্যানারে আয়োজিত হলেও সেই কমিটির অনেক নেতৃবৃন্দকে বিন্দু মাত্র অবহিত করা হয়নি। এতো বড় একটি আয়োজন অথচ কারো সাথে আলাপ না করে, সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নির্দেশনা না মেনে কেবল নাম মাত্র নিজস্ব কিছু নেতারা মিলেই আয়োজনটি করাছিলো।" নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নগর আওয়ামী লীগকে বাদ রেখেই একক স্বিদ্ধান্তে নিজেরা নিজেরা শোকসভাটির আয়োজন করেছে উল্লেখ করে আরাফাত আরো বলেন,"যেহেতু তারা চাননি আমরা অনুষ্ঠানে অংশ নেই, তাই আমরা সেদিন আয়োজন থেকে দূরেই ছিলাম। ফলে সেদিন মাঠে যা ঘটেছিলো তার দ্বায় আমরা নিবো না।" এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে অনতিবিলম্বে যোগ্য মেধাবী ছাত্রনেতাদের দ্বারা নগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন জরুরী বলেও তিনি মতদেন। সেদিনের ঘটনার কারণ কি এই বিষয়ে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বাংলাদেশ প্রেসকে বলেন,"আমি এই বিষয়ে বিষদ কিছুই বলবো না। কেবল এতো টুকুই বলবো, একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরী করতে না পারলে এসব থাকবে। সুন্দর পরিবেশের জন্য সব নেতাকেই সুন্দর মনোভাব সম্পন্ন হতে হবে বলেও জানান রনি।


গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি শোক সভার মঞ্চে উপস্থিত নগর যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক ফরিদ মাহমুদকে ঘটনার নেপথ্য কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বাংলাদেশ প্রেসকে বলেন, "এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়ার মতন ঘটনা নয়। এর আগে একই মাঠে যুবলীগের আয়োজনে মহিউদ্দিন ভাইয়ের শোকসভা আমরা সফল ভাবে আয়োজন করেছিলাম। শুধু এখানে নয় সারা নগরি অনেক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে অথচ কোথাও বিন্দুমাত্র গোলযোগ ছিলো না"। তাহলে সেদিন কেন গন্ডোগোল হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদ মাহমুদ বলেন, "মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকতেও অনেকে তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষার্ণিত ছিলো। তিনি মারা যাওয়ার পর যখন দেখা গেলো তাঁকে নিয়ে একের পর এক সফল শোকসভার আয়োজন হচ্ছে তখনই এই গন্ডগোল"। একই মাঠে আমরা যুবলীগ শোকসভা করেছি। কই সেখানে তো তেমন কিছুই ঘটেনি।" আপনারা বলছেন কেউ এসব পরিকল্পিত ভাবে করাচ্ছে, কেন করাচ্ছে জানতে চাইলে ফরিদ মাহমুদ নগর ছাত্রলীগের ঐক্য নষ্ট করতেও এসব হতে পারে উল্লেখ করে জানান, "সে যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। কিন্তু এসবের নেপথ্যেও যদি কারো ইন্ধন থাকে তাহলে সবার আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত"। বাংলাদেশ প্রেসের প্রতিবেদক সাবেক নগর ছাত্রলীগের ইস্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম দিদারকে নগর ছাত্রলীগের এমন সংঘাত পূর্ণ অবস্থানের কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকৃত ছাত্ররা বা ছাত্রলীগের কর্মীরা কখনোই একটি শোকসভায় এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটাতে পারেনা। কেউ যদি নিজেদের শো ডাউনের জন্যে যাকে তাকে মিছিলে ভিড়িয়ে শোকসভায় জমায়েত করে থাকে তাহলে তাদের সামাল দেয়া সম্ভম হবে না"। সিনিয়র নেতারা বারবার মাইকে নিষেধ সত্ত্বেও কারা লাগাতার শ্লোগান দিচ্ছিলো, কারা সেদিন চেয়ার ছোড়াছুড়ি করছিলো পরবর্তীতে সবই মিডিয়ার মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ দেখেছে উল্লেখ করে এই সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, "নিজেদের অযোগ্যতা আড়াল করতে অন্যের ওপর দায় চাপালে হবে না। বরং দ্বায়িত্বশীল নেতার মতন ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিলো।" বর্তমান নগর কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন অতিব জরুরী বলে তিনি মত দেন।

পরবর্তী খবর পড়ুন : জেনে নিন স্মরণশক্তি বাড়ানোর সহজ কিছু উপায়


আরও পড়ুন

প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে সরকারি গাড়ি ও সরঞ্জাম যায় কোথায়?

প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে সরকারি গাড়ি ও সরঞ্জাম যায় কোথায়?

সরকারি যে কোনও প্রকল্প শেষে ওই প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, ...

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সড়কে মৃত্যু এবং অন্যান্য ঝুঁকির দিক পরিবর্তন করছে!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সড়কে মৃত্যু এবং অন্যান্য ঝুঁকির দিক পরিবর্তন করছে!

সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি বিষফোঁড়া হিসাবে চিহ্নিত ছিলো এতোদিন। ...

লালবাগে কাগজের গুদামে ভয়াবহ আগুন

লালবাগে কাগজের গুদামে ভয়াবহ আগুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার শহীদ নগর এলাকার ৬ নাম্বার গলিতে আগুন ...

'৭১-এর ২৩ মার্চ : ফিরে দেখা

'৭১-এর ২৩ মার্চ : ফিরে দেখা

এটা ছিল আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় দিন, রাজনীতির বিবেচনায় ঐতিহাসিক। ...

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপদ করতে কমিটির শতাধিক সুপারিশ

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপদ করতে কমিটির শতাধিক সুপারিশ

বাংলাদেশে সড়কপথে বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য বন্ধের জন্য সুপারিশ আর প্রতিশ্রুতির ...

জয়পুরহাটে জামাতার লাঠির আঘাতে শাশুড়ির মৃত্যু!

জয়পুরহাটে জামাতার লাঠির আঘাতে শাশুড়ির মৃত্যু!

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামে মেয়ে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে ...

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ দফা দাবি দিলো গণফোরাম

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ দফা দাবি দিলো গণফোরাম

বাংলাদেশের সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে ...

যে কারণে জি এম কাদেরকে সরালেন এরশাদ

যে কারণে জি এম কাদেরকে সরালেন এরশাদ

গত ২০ মার্চ ছিল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ...