আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

মুজিবনগর সরকার গঠনের রূপখো সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনার দালিলিক প্রমাণ

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২০ |

মোঃ মাহমুদ হাসান

"মুজিবনগর সরকার" এর রূপরেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬১ সাল হতে ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ পর্যন্ত্য দীর্ঘ সময়ের প্রকাশ্য ও গোপন প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই পূর্ব হতেই নির্ধারিত ছিলো। ১৯৭১ সালের ফেব্র“য়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় তিনি চার যুব নেতাকে বলেন, ‘তোমরা চারজন সশস্ত্র যুবশক্তিকে পরিচালনা করবে। তাজউদ্দীন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব নেবে।’ তিনি বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বার বার বলে দেন। (সূত্র:‘বাঙালির জাতীয় রাষ্ট্র’ গ্রন্থ-কাজী আরেফ আহমেদ)

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ও কৌশল এবং স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূপখো ও নেতৃত্ব কি ধরনের হবে, ১৯৬১ সাল হতেই বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের তিলে তিলে গোপনে প্রস্তুতি নেয়া ছিলো, এর প্রমান বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলপত্রে কিছু কিছু পাওয়া যায়। তবে এ সম্পর্কে ‘নিউক্লিয়াস সদস্য কাজী আরেফ আহমেদ’ এর লেখা ‘বাঙালির জাতীয় রাষ্ট্র’ গ্রন্থ এর বর্ণনাটি আমার কাছে অধিকতর নির্ভরযোগ্য মনে হয়। যাতে উল্লেখ রয়েছে, “১৯৭১ এর অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিনেই জেনারেল ইয়াহিয়া খান বেলা একটা চার মিনিটে এক আকস্মিক ঘোষণায় ৩রা মার্চে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। অবশ্য এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভর্নর হাউজে ডেকে আনা হয়। বড়-সড় ভূমিকা করে  গভর্নর (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) এডমিরাল আহসান তাঁকে প্রেসিডেন্টের ৩রা মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানান। আশ্চর্যজনকভাবে মুজিব শান্ত থাকলেন। মিষ্টি ভাষায় তিনি তার যুক্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকলেন।….. শেখ মুজিব ঐ রাতেই (১লা মার্চ, ১৯৭১) আওয়ামী লীগের হার্ডকোর নেতৃবৃন্দ ও নিউক্লিয়াসের (’৬২ সাল থেকে গড়ে ওঠা স্বাধীনতা আন্দোলনের গোপন সংগঠন) তিন নেতাসহ যুব নেতৃবৃন্দ (সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদ, শেখ ফজলুল হক মনি ও তোফায়েল আহমেদ), চার ছাত্র নেতা (শেখ মুজিবের চার খলিফা হিসেবে ১৯৭১ সালের মার্চে পরিচিতি লাভকারি, কেন্ত্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ এবং ডাকসুর সহ-সভাপতি আসম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন) এবং আদমজী, ডেমরা, তেঁজগা ও পোস্তগোলার শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে জাতীয় অধিবেশন বন্ধের পরবর্তী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালের ১৮ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সিরাজুল আলম খান ও আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে আলোচনায় বসেন। এক পর্যায়ে তিনি শেখ মনি ও তোফায়েলকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য কাজ করতে বলেন। সিরাজ ভাই ও রাজ্জাক ভাই একমত হলে তিনি শেখ মনি ও তোফায়েলকে ডেকে নেন। আন্দোলনের পূর্বাপর পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য পাকিস্তানী সামরিক শক্তির মোকাবেলার জন্য তাদের প্রস্তুত হতে বলেন। তিনি বিপ্লবী কর্মী বাহিনী তৈরী করে লড়াইয়ের উপযুক্ত ছাত্র-যুবশক্তি গড়ার দায়িত্ব দিয়ে বলেন, ‘লড়াই ছাড়া পাকিস্তানীদের হাত থেকে বাঙালিকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।’ এভাবেই বি.এল.এফ বা বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স ও তার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চার যুবনেতা বা মুজিব বাহিনীর চার প্রধান (সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ ফজলুল হক মনি ও তোফায়েল আহমেদ) দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এভাবেই গড়ে ওঠে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা বি.এল.এফ বা মুজিববাহিনী। ২১শে জানুয়ারি ’৭১ শেখ মুজিব চার যুবনেতাদের বলেন, ‘আমি না থাকলেও তাজউদ্দীনকে নিয়ে তোমরা সব ব্যবস্থা করো। তোমাদের জন্য অস্ত্র ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।’ ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় তিনি চার নেতাকে বলেন, ‘তোমরা চারজন সশস্ত্র যুবশক্তিকে পরিচালনা করবে। তাজউদ্দীন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব নেবে।’ তিনি বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বার বার বলে দেন। মুজিব ভাইয়ের নির্দেশ ছিল তাজউদ্দীন ভাই, সৈয়দ নজরুল, কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে একসাথে ভারতে গিয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করার। একইভাবে ২২শে ফেব্র“য়ারি ’৭১ শেখ মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েলকে এবং ৪ রাজনৈতিক নেতাকে কোলকাতার একটি ঠিকানা দিয়ে বলেন, ‘এ ঠিকানায় গেলেই তোমরা অস্ত্র, ট্রেনিং ও অন্যান্য সাহায্য সহযোগিতা ও প্রবাসী সরকার গঠনের সকল সাহায্য পাবে’।“ 

মুজিবনগর সরকার গঠনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় “১৯৭১ সালের ৭ই এপ্রিল আব্দুর রাজ্জাক (যুবনেতা, ১৯৭০সালের সাধারন নির্বাচনে নির্বাচিত এমএনএ, নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিএলএফ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য) এর আহ্বানে কোলকাতার ক্রীট ষ্ট্রিটে এমএলএ হাউজে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান (রাজশাহী)। ঐ বৈঠকে ২৬ জন এম.এন.এ. ও এম.পি.এ. উপস্থিত ছিলেন। উক্ত বৈঠকে ক্যাপ্টেন মনসুর আলীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তাজউদ্দীনের দিল্লী যাওয়া এবং নিজেকে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী’র পরিচয় দেয়াকে তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়। আব্দুর রাজ্জাক প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রবাসী সরকারের প্রধান ও দেশের রাষ্ট্রপতি হবেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং পাঁচজন মন্ত্রীসহ সরকার গঠন করা হবে। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হবেন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট এবং তাজউদ্দীন হবেন প্রধানমন্ত্রী। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। শেখ মুজিবই হবেন মুক্তিযুদ্ধের সুপ্রীম কমান্ডার বা সর্বাধিনায়ক। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হবেন ভারপ্রাপ্ত সর্বাধিনায়ক। কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী হবেন কমান্ডার-ইন-চীফ বা প্রধান সেনাপতি। সভায় এই প্রস্তাবই সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। কিন্তু, তখনও পর্যন্ত সৈয়দ নজরুল ও এমএজি ওসমানী কোলকাতায় পৌঁছাননি।“ (সূত্র:‘বাঙালির জাতীয় রাষ্ট্র’ গ্রন্থ-কাজী আরেফ আহমেদ)

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, ১৯৬৯ এ ডাকসুর ভিপি, বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জননেতা তোফায়েল আহমেদ কি সংসদে, কি জনসভায় তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, “জাতির পিতা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদেরকে ও আমাদেরকে সকল বিষয়ে অনেক আগে থেকেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন, আমরা তার নির্দেশনা অনুযায়ি জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি”। কিন্তু, তিনি কখনোই প্রকাশ্যে জাতির পিতা কি কি নির্দেশনাবলি দিয়ে গিয়েছিলেন, এমনকি জননেতা তোফায়েল আহমেদ নিজে প্রকাশ্য জনসভার অতিরিক্ত কি কি কাজ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য করেছিলেন, বলেন না। আমি মনে করি একজন জাতীয় নেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট পরবর্তী অপ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সেই সময়কার সব রণকৌশল ও রণপ্রস্তুতি প্রকাশ করতে চান না। কিন্তু, মাঝে মাঝে তার লেখাগুলিতে সেগুলি আকারে-ইঙ্গিতে কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। সম্প্রতি ১৯৭১ এর ডাকসুর ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সদস্য, মার্চ-৭১ এর চার খলিফার এক খলিফা, ২রা মার্চ ১৯৭১ এ আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রসভায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারি আ স ম আব্দুর রব এর লেখা “প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ঘটনা মিলেই মুক্তিযুদ্ধ” শীর্ষক লেখাটিতেও এসব প্রস্তুতি ও নির্দেশনা বিষয়ে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। 

আমার অভিমত:

আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের সুদীর্ঘ প্রস্তুতির ১৯৪৮ হতে ১৯৭১, বিশেষত: ১৯৬১ হতে ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ পর্যন্ত্য প্রকাশ্য ও গোপন প্রস্তুতির মহানায়কেরা সেসব ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ঘটনা চলাকালীন লেখার সুযোগ পান নাই। জেল-জুলুম-হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো, অবার রাজপথের সংগ্রাম, গোপন কার্যক্রম এ সময় দিতে গিয়ে তাদের হয়তো লেখার সুযোগ হয় নাই। এরপরেও কেউ কেউ চেষ্টা করেছেন। এমনি একটা ঐতিহাসিক দলিল “বাঙালির জাতীয় রাষ্ট্র” লিখে গেছেন, জাতির পিতার মতোই সহকর্মীদের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে অনুগামীদের সহ নিহত নিউক্লিয়াস সদস্য “কাজী আরেফ আহমেদ”, যে বইটিতে জননেতা আবদুর রাজ্জাক ও সিরাজুল আলম খান একমত বলে মতামত দিয়েছেন, বইটি প্রকাশের জন্য কাজী আরেফ আহমেদের লেখা পান্ডুলিপিটি ওনার ভাতিজিী কাজী সালমা আক্তারের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ‘সংগ্রহ এবং সঙ্কলন’ করেছেন ‘স্কোয়াড্রন লিডার আহ্সান উল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত)’ এবং বইটি প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল নেটওয়ার্ক (আইএইচএন)। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যেসব তথ্য কাজী আরেফ আহমেদ এই বইটিতে উল্লেখ করেছেন, এসবের প্রতিটি শব্দ ও বাক্য ঐতিহাসিক সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতার বিচারে সঠিক বলে আমি মনে করি এ কারনে যে, ১৯৬১ হতে ১৯৭১ সময়ে স্বাধীনতার প্রস্তুতিতে যারা জড়িত হয়ে আবার পিছিয়ে গেছেন, তিনি তাঁদের কথাও এই বইটিতে উল্লেখ করেছেন, তাঁরা কোন সময় পর্যন্ত্য সম্পৃক্ত ছিলেন তাও উল্লেখ করেছেন। আবার তাঁর নিজস্ব ভূমিকাও তিনি অতিরঞ্জিত করে লিখেননি। যে ঘটনায় তিনি ছিলেন সহযোগী বা কর্মীর ভূমিকায়, সেখানে তিনি ঐ নির্দিষ্ট কাজটির জন্য নির্ধারিত নেতার নাম ও সহযোদ্ধা কর্মীদের নাম উল্লেখ করেছেন আবার যেখানে তিনি ছিলেন নেতৃত্বের ভূমিকায়, সেখানে তিনি কার নির্দেশনায় ঘটনাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাও উল্লেখ করেছেন, সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের নামও উল্লেখ করেছেন। আবার তিনি নিজের ব্যর্থতাগুলির কথাও এই বইটিতে অকপটে স্বীকার করেছেন। এই বইটিতে তিনি ঘটনার নায়ক রাজনীতিবিদের চেয়েও একজন ইতিহাসবিদের ভূমিকা যথার্থভাবে পালন করেছেন বলে অভিহিত করা যায়।

(নোট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬১ সাল হতে যাদের মাধ্যমে ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে হবে’ মন্ত্রণাটি পৌছিয়েছিলেন, ১৯৭১ এর ফেব্রুয়ারিতে তার সর্বশেষ পূণর্গঠিত যুব-নেতৃত্বের চারজনের কাছেই তাঁর অনুপস্থিতিতে কাকে কাকে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে সেই মতামত ও তাদের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ এর) অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানের সেই চার যুবনেতার সাথে জাতির পিতার ছবিটি এ লেখার সাথে সংযুক্ত করা হলো। যারা সে সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হয়েও মিথ্যাচার করে, ইতিহাস বিকৃতি করে, ওদের কেউ যদি এ ছবিটি দেখে তাদের অন্তরাত্মা একবার হলেও কেঁপে উঠবে।)    

তরুণদের উদ্দেশ্যে ভাবনার জন্য প্রশ্ন: তরুণরা ভাবতে পারেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে আর একটি রাষ্ট্রের কল্পনা করাও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ-যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তাহলে, একটি জনযুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৬১ সাল হতে ১৯৭১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত্য সময়ে যেসব ঘটনা আমাদের মহানায়কেরা ঘটিয়েছেন, সেসবের সব কি প্রকাশ্যে সে সময়কার পত্রিকাগুলিতে প্রকাশ করা সম্ভব ছিলো? ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ হতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশনা অনুযায়ি সারা দেশের প্রশাষন চলছিলো কেন? কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২রা মার্চ ছাত্র সভায় পতাকা উত্তোলন, ৩রা মার্চ পল্টনে জনসভায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ, ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে হাজার হাজার স্বাধীন বাংলার পতাকা হাতে ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশে স্বাধীনতার ঘোষনার পাশাপশি জেলা ও মহকুমাগুলোতেও একই রকমভাবে ঘটনাগুলি ঘটেছিলো? ২৫শে মার্চের গণহত্যা শুরুর পর জাতির পিতার স্বাধীনতার চুড়ান্ত ঘোষণার সাথে সাথে অধিকাংশ ইপিআর ঘাটি ও থানায় স্বাধীন বাংলার পতাকা ঐ রাতেই কিভাবে উড়লো? এসব পতাকাই কি শুধু পৌছানো ছিল পূর্ব হতে, নাকি কি আরো কোন নির্দেশনা ছিল, ভাবুন—পাকিস্তানীদের শেখানো মিথ্যা ইতিহাস ভূলতে আপনি নিজেই উদ্যোগী হবেন। খুব বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই, আপনার নিজ মহকুমা বা জেলা শহরে বঙ্গবন্ধুর স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কোন এমএনএ বা এমপিএকে মার্চের কত তারিখে স্বাধীন-বাংলার পতাকা সহ “জয়-বাংলা বাহিনী” ও “স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী” গার্ড অব অনার বা অভিভাদন জানিয়েছিলো, তা খুঁজে বের করুন- এর সুত্র ধরেই আপনি মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ প্রস্তুতির ইতিহাস জেনে যাবেন। জেনে যাবেন কেন শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা।  


সঙ্কলনে: মো: মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী)