আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

১৬ই ডিসেম্বর বাঙালীর ন্যায্যতা, কারো অনুদান নয়

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

আজ ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৯। ১৯৭১ সালের এইদিনে স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা নিয়ে বিশ্বের বুকে নিজের আগমন বার্তা পৌছে দেয়। বাংলার ইতিহাসে গ্রেট লিডার, বাঙালি জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি রক্ত আর ইজ্জতের বিনিময়ে  জন্ম দেয় ১৬ই ডিসেম্বর। 

কিন্তু তারপরেও যুদ্ধ থেমে নেই। বাংলাদেশ জন্মে বিরোধী বেঈমানের প্রজনন আজও প্রতি পদে গ্রাস করতে চাইছে সবকিছু।  আর তাই লেখার ধরণ একটু ভিন্ন ভাবেই সামনে আনতে হলো।  তবে যাই কিছু ঘটুক, আমি গর্বিত কারণ আমি বাংলাদেশি বলে।

সন্তানের জন্ম তার অধিকার, কারো অনুদান নয়। মায়ের জন্ম তার জন্মগত অধিকার, কোন রক্ষণশীলের অনুদান নয়। জাতীয় চেতনা রক্তের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়,  শিল্পনির্দেশক রংতামাশায় সেটা বসিয়ে দেবার যেমন অধিকার রাখেনা তেমনি উঠিয়ে নেবার কোন ক্ষমতা রাখেনা।  

গাঢ় অন্ধকার সুড়ঙ্গপথে চলতে প্রজ্জ্বলিত মশাল যেমন পথিকের ন্যায্যতা, ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালী জীবনে ঠিক তেমন একটি ন্যায্যতা । এখানে - 

১। প্রজ্জ্বলন জাতীয় চেতনার অদম্যতা

২। মশাল হলো অধিকার ও লিডারশীপ 

৩। প্রজ্জ্বলিত মশাল আলোর বর্তিকা সম্বলিত ন্যায্যতা।

তর্ক বিতর্কের উর্ধে থেকে প্রতিটি বাঙালীর এই উপলব্ধি অবশ্যই কাম্য।  এর বাইরে যে কোন চিন্তা, অভিযোগ, অনুযোগ স্বাধীনতা বিরোধী কাতারে দাঁড় করাবে সন্দেহ নেই। এই ক্ষেত্রে ধর্ম,বর্ন,দেশ,জাতি বিবেচ্য নয়। 

৭১ এর ৯ মাস যদি অন্ধকার যুক্ত সুড়ঙ্গ হয় তাহলে-  

১। অন্ধকার যেমন পরাধীন শৃঙ্খল

২। ৯ টি মাস সুড়ঙ্গ দৈর্ঘ 

ঠিক তেমনি করে- 

১। অধিকার হিসাবে বঙ্গবন্ধু ছিলো মশাল বা লিডারশীপ 

২। জাতিয় চেতনা হিসাবে ছিলো ৭ কোটি বাঙালীর প্রজ্জ্বলন 

৩। ১৬ই ডিসেম্বর ছিলো তাদের ন্যায্যতা।  

এখানে অন্যকিছু ভাবার কোন অবকাশ নেই।  এই ক্ষেত্রে বাহির হতে যেকোন সহযোগী বা অসহযোগী এলিমেন্ট বা শক্তি শুধুমাত্র সুড়ঙ্গপথের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ কম বা বেশি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে এর বেশি কিছু নয়।  আগত শক্তির এই ভূমিকা জাতীয় চেতনা বা অধিকারে প্রভাব বিস্তার করার কোন সুযোগ নেই বা থাকেনা।

অধিকার, জাতিয় চেতনা ও লিডারশীপ যে জাতির মধ্যে বদ্ধমুল হয় সেই জাতির ১৬ই ডিসেম্বর আটকে দেবার মতো ক্ষমতা বা নস্যাৎ করার মতো শক্তি কোন যুগেই কারো মধ্যে ছিলনা, থাকবেওনা।  এই ক্ষেত্রে ৩য় পক্ষ হিসাবে বাইরের শক্তির সহযোগিতা বা অসহযোগীতা সময়টাকে কম বা বেশি করতে পারে মাত্র। 

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ৩য় পক্ষের এই ভূমিকা কোন না কোন স্বার্থসংশ্লিষ্ট থাকে যার কারণে দেশের অভ্যান্তরে ৩য় পক্ষের হয়ে প্রচারণা চালানোর জন্য একটি দল তৈরি হয়ে যায়, যারা একই জাতি হওয়া সত্ত্বেও বিক্রি হয়ে যায় চড়া মূল্যে।  মিরজাফর সব যুগে ছিলো, আগামিতেও থাকবে। ইতিহাস তার স্বপক্ষে বড় উদাহরণ।  

তবে যাই কিছু থাকুক ন্যায্যতা কারো অনুদান হয়ে যায়না। অধিকার,জাতিয়তাবোধ ও লিডারশীপ মিলে ন্যায্যতা আসবেই। সেই ন্যায্যতা প্রাপ্তির জন্য কোন ৩য় পক্ষ সহযোগীতা করুক বা না করুক।  

পরিষ্কার ভাবে বলছি - ৩য় পক্ষের যে কোন সহযোগিতা থাকে বিপদজনক স্বার্থসংশ্লিষ্ট। তাৎক্ষণিক ভাবে সেই প্রভাব বোধোদয় না হলেও যা ক্রমেই প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।  

১৯৫২ সালে বাংলাচাই বলে একটি চিৎকার পশ্চিম পাকিস্তানিদের বুঝিয়ে দিয়েছিলো পূর্ববাংলার মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা জাতিয় চেতনা, জাতিয়তাবোধ জেগে উঠেছে।  রণক্ষেত্রে যখন তারা দেখতে পেলো দুর্দান্ত এক প্রতাপশালী লিডারশীপ পূর্ববাংলার অন্ধকার যুগের সমাপ্তির জন্য ছুটে চলেছেন একপ্রান্ত হতে অন্যপ্রান্তে তখন পাকিস্তান পরিষ্কার ভাবে বুঝেফেলে পূর্ববাংলা ছুটে চলেছে বাংলাদেশের দিকে। 

তখন তাদের একটাই চিন্তা, সময়টাকে যতটা দীর্ঘাকার করা যায়। কিন্তু দীর্ঘ যতো করতে চেয়েছে, সময় যতো গড়িয়েছে ঠিক ততোটাই অধিকারবোধ এবং জাতিয়চেতনা মাথাচাড়া দিয়েছে বাঙালির মধ্যে।  

১৯৬৬ সালে প্রমাণ হয়েছিলো লিডারশীপ কি, স্বাধিনতা কি করে আদায় করতে হয়। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কতৃক ৬ দফার আত্মপ্রকাশ সেদিন প্রমাণ করেছিলো পূর্বপাকিস্তান বাংলাদেশে রূপ নেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “৬ দফা দাবি” পেশ করেন। 

আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ। 

এই ৬ দফাছিলো পূর্ববাংলার জনগণের প্রজ্জ্বলিত মশালের চরিত্র, ন্যায্যতার দাবি।  

আমাদের একটু দেখা উচিত কতটা অধিকারবোধ ও জাতিয়তাবোধ লুকিয়ে ছিলো ঐ ৬ দফার মধ্যে।  

প্রস্তাব - ১ :

শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: 

অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে দেখলে দেখা যায় সেখানে বলা আছে,  সরকার হবে পার্লামেন্টারী ধরনের। আইন পরিষদের (Legislatures) ক্ষমতা হবে সার্বভৌম। এবং এই পরিষদও নির্বাচিত হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনসাধারনের সরাসরি ভোটে।

প্রস্তাব - ২ :

কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা:

কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দু'টি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে- যথা, দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা থাকবে নিরঙ্কুশ।

প্রস্তাব - ৩ :

মুদ্রা বা অর্থ-সমন্ধীয় ক্ষমতা:

মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত দু'টির যে কোন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা চলতে পারেঃ-

(ক) সমগ্র দেশের জন্যে দু'টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে।

অথবা

(খ)বর্তমান নিয়মে সমগ্র দেশের জন্যে কেবল মাত্র একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শাসনতন্ত্রে এমন ফলপ্রসূ ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচারের পথ বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভেরও পত্তন করতে হবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক আর্থিক বা অর্থবিষয়ক নীতি প্রবর্তন করতে হবে।

প্রস্তাব - ৪ :

রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:

ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলির কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনরূপ কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে। অঙ্গরাষ্ট্রগুলির সবরকমের করের শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল গঠিত হবে।

প্রস্তাব - ৫ :

বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:

(ক) ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক পৃথক হিসাব রক্ষা করতে হবে।

(খ) বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলির এখতিয়ারাধীন থাকবে।

(গ) কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোন হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিই মিটাবে।

(ঘ) অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক বা করজাতীয় কোন রকম বাধা-নিষেধ থাকবে না।

(ঙ) শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিকে বিদেশে নিজ নিজ বানিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্ব-স্বার্থে বানিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে হবে।

প্রস্তাব - ৬ :

আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা:

আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হবে।

উল্লেখিত ৬ দফা,তার বিশ্লেষণ এবং সুদুর প্রসারী অন্তর্নিহিত অধ্যায় কতটা জাতিয়চেতনা, অধিকারবোধ নিশ্চিত করে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা,  যে লিডারশীপ এই ধরনের দাবি তুলেধরেছিলো তার লিডারশীপ এবং প্রস্তাবিত অধ্যায়ের  মধ্যে ৩য় পক্ষের কোন ভূমিকার কোন অবকাশনেই, যা সম্পূর্ণ বাঙালির নিজস্বতা, নিজেদের ভাবনা, নিজেদের চাহিদা, নিজেদের প্রাপ্যতা,  নিজেদের ন্যায্যতা।  কোন ভাবেই এই চাহিদা কারো অনুদান নয়।  

আজ যে তর্ক চলে, আজ যে বিতর্কিত অধ্যায় জনে জনে, দলে দলে ও কতিপয় শ্রেণী পেশার মানুষ নির্লজ্জ ভাবে, নগ্নভাবে উপস্থাপন করেন, স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছিলো বলে জল ঘোলা করেন তারা কোন দক্ষতায়, কোন শিক্ষায়, কোন আদর্শিক মতবাদে এই অমূলক অধ্যায় পরিচালনা করেন সেটা জানিনা।  

আমি পূর্বেই বলেছি, কোন ৩য় পক্ষের সমর্থন যখন আসে তখন সেই সমর্থন নিঃস্বার্থ ভাবে আসেনা, বিনিয়োগ এবং প্রাপ্তির অংক করেই ছুটে আসে। এই ছুটে আসার পিছনে বন্ধুত্ব নয় থাকে বাণিজ্যিক বোঝাপড়া। ঠিক তখনই দেশের অভ্যন্তরভাগে কিছু বিক্রি হয়ে যাওয়া মানুষের জন্ম নেয়। বানিজ্যিক ভাবে অংশীদারিত্ব বুঝে নিতে, নিজেদের অক্ষমতারোগ চেপে রেখে দেশের সাথে বেঈমানিকে পুঁজি করে নিজেদের ক্ষমতা প্রকাশের অনৈতিক রাস্তা বেছে নেয় তারা। 

আজকে যারা ১৬ই ডিসেম্বরকে অনুদান হিসাবে দেখেন, স্বাধীনতার অন্যান্য বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তারা আগত ৩য় পক্ষের নেগেটিভ স্বার্থসংশ্লিষ্ট  এবং ২য় পক্ষের পূর্ণ মদতে জীবন প্রবাহিত করা একটি রাশিচক্র ছাড়া আর কিছুই নয়

মা সন্তান জন্মদেবে, শেষ মুহুর্তে ধাত্রী এসে সন্তান প্রসবে সহায়তা করলো। সন্তান দুনিয়ায় এলো, এখন পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে কেউ কোনদিন ধাত্রীর নাম লিখেছে কিনা জানিনা। যদি কেউ লিখে থাকে তার মধ্যে আর যাইথাক সন্তান সম্পর্কে শুভ কোন চিন্তানেই, থাকতে পারেনা। 

একথা পরিষ্কার যে, ধাত্রী বিনা পারিশ্রমিকে আসেনি, কোন কিছু নেবার বা দেবার ক্ষমতা না থাকলেও একটি নতুন কাপড় উপহার হিসাবে পেয়েথাকে। আর বর্তমান আধুনিক সভ্যতায় আধুনিক ডাক্তার যে অর্থ পায়, বা নেয় তাই দিয়ে নিজেদের আভিজাত্য বলয় তৈরিকরে। 

সেই ক্ষেত্রে কোন সন্তানের জন্ম পরিচয়ে ধাত্রী বা ডাক্তারের নাম লেখা মানেই উক্ত জন্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। বাবা মাকে অস্বীকার করা। 

তাহলে যে সকল মহল ৫২ এর পরথেকে ৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর অবধি  সুযোগ পেলেই হুল ফোটান তারা ভেবে দেখবেন এবং অবশ্যই স্বীকার করবেন বাঙালির  জাতিয়তাবোধ, অধিকার,লিডারশীপ কোন কিছুই কারো অনুদান নয়। সম্পূর্ণভাবে যা বাঙালির ন্যায্যতা।

যে সকল ব্যক্তি দেশের বাইরে বসে বাংলাদেশের জন্ম, তার অধিকার, জাতিয়তাবোধ এবং লিডারশীপ নিয়ে প্রশ্নতুলে বিভিন্ন ভাবে পোষ্টমার্টেম করে নবীন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেন তারা দয়াকরে দেখবেন নিজের পরিচয়ে ডাক্তারের নাম বা ধাত্রীর নাম লেখেন কিনা। যদি না লেখেন তাহলে আপনি বা আপনারা জেনেশুনে, স্বদিচ্ছায়, সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে নিজের স্বার্থে নিজের দেশের বিরোধিতা করছেন এবং কথিত ২য়,৩য় পক্ষের দালালী করছেন।  যা জাতি হিসাবে নিজেদের ছোট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। 

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬ই ডিসেম্বর এমন একটি দিন, যার একমাত্র মালিক বাংলাদেশ আর বাঙালি। যে মশাল আর প্রজ্জ্বলন রুপে অধিকার, লিডারশীপ, এবং জাতিয়তাবোধ সেটার মালিক শুধুই বাংলাদেশ, আর বাঙালি।  

স্যালুট সেই মহান লিডারশীপ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি, স্যালুট সেই মশালের প্রজ্জ্বলিত শিখা রুপি ৭ কোটি বাঙালির প্রতি। যাদের অধিকারবোধ, জাতিয় চেতনায় এবং জাতিয়বোধের জন্য আমি স্বাধীন বাংলাদেশে বসে লিখতে পারছি। 

৫২ সালের পর থেকে ৭ই মার্চের বিশ্বস্বীকৃত ভাষণ অবধি প্রতিটি ধাপে যে লিডারশীপ বিরাজমান সেটা যদি স্বাধীনতা ঘোষণা না হয়, বাংলাদেশ জন্মের চাহিদা বা ঘোষণা না হয়, স্বাধীনতার ঘোষণার ইতিহাস না হয়  তাহলে নিজের জন্ম পরিচয়ে বাবা মায়ের স্থানে ধাত্রী বা ডাক্তারকে নির্দিষ্ট করার শামিল।  

কোন সন্তান জন্মে ধাত্রী বা ডাক্তারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।  অবশ্যই তাদের স্বীকার করতে হবে, তাদের সম্মান করতে হবে। ৩য় পক্ষের সহযোগীতাকে স্বীকার করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। তাই বলে কিছুতেই লিডারশীপ ছাপিয়ে,  জাতিয়তাবোধ বিভাজিত হয়ে, অধিকার বাণিজ্যিক হয়ে  ১৬ই ডিসেম্বর অনুদান হয়ে যাবে না। যা শুধুই বাঙালির একান্ত, বাঙালির নিজস্ব ন্যায্যতা। আজকে জন্মনেয়া নবীন চিরজাগ্রত বলিষ্ট আপোষহীন লিডারশীপকে অনুসরণ করে, জন্মগত অধিকার ধারণ করে, আত্মিক জাতিয়তাবোধ লালন করে এবং ১৬ ডিসেম্বরকে প্রেরণা হিসাবে ধারণ করে নিশ্চই গড়ে নেবে আগামীর বাংলাদেশ, আগামীর বিশ্ব ।