অন্যান্য

  • জীবননগরে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    জীবননগরে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

  • ১১০ বছর পর কালো চিতার সাক্ষাৎ!

    ১১০ বছর পর কালো চিতার সাক্ষাৎ!

  • দুদক চেয়ারম্যান  এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউ.এস. ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্টেট অব কোর্টস প্রতিনিধি দল

    দুদক চেয়ারম্যান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউ.এস. ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্টেট অব কোর্টস প্রতিনিধি দল

  • বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে.?

    বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিয়ে ইসলাম কি বলে.?

  • বসন্তের আমেজে মুখরিত রাবি ক্যাম্পাস

    বসন্তের আমেজে মুখরিত রাবি ক্যাম্পাস

যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ ও চাকুরি বাতিল করুনঃ আমরা কিছুই চাইনা! বুবু, আপনি নিরাপদ থাকুন!!

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০১৮     আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৮

মানিক বৈরাগী

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য রাষ্ট্রিয় ক্যাডার, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর কোন প্রকার চাকুরির দরকার নাই। কোন সুযোগ-সুবিধারও দরকার নাই। ওরা তো মেধাহীন।


বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে একটি বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। পরিবারে সকল স্বপ্ন, পিতা মাতার স্বপ্ন, নতুন বউ এর স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা দলিত করে নিজে শহীদ হয়ে একটি বাংলাদেশ এনেদিয়েছে। এই তো তাদের কৃতিত্ব! আর কি চাই ?


যে সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভালো রেজাল্টের আশা ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল, তাদের বিনিময়েই তো একটি বাংলাদেশ। তাদের আর কি চাই ?


স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ফেরত মেধাবী আমলারাই তো মন্ত্রণালয়কে সচিবালয় বানালো। তারা জাতির পিতার সামনে শ্রদ্ধায় মাথাটুকু পর্যন্ত নুইয়ে দিত, আবার অফিস টাইম শেষে মাহবুবুল আলম চাষির ক্যাড়ারদের সাথে খোশ আমদেদে মিলিত হতো, কতটুকু আগালো খুন পরিকল্পনা? এরাই তো মেধাবী। এরাইতো আদরনীয় ছিলো।


কুখ্যাত পাকিস্তানন্থী রাজাকার দবির উদ্দিন প্রধানের ছেলে শফিউল আলম প্রধানকে ঘর থেকে ডেকে এনে কি পুনর্বাসিত করা হয়নি ছাত্র রাজনীতিতে ? পরের রেজাল্ট দেশবাসী ভালো জানে।


পাকিস্তান ফেরত সামরিক চৌকশ সেনা কর্মকর্তাদের কি ভালো ভালো পদে পদায়ন করা হয়নি? এরপর তারাই ৭৫ ঘটালো !


জাতির পিতার বদান্যতায় যেসব মুক্তিযোদ্ধা সরকারী চাকুরি পেয়েছিল, ৭৫এর পরবর্তী মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, খালেদা-নিজামি তাদের কি রকম ব্যবস্থা করেছিল ?

সেইসব কাহিনী কেউ কি লিখেছে? লিখেনি। কেন লিখবে এ নিয়ে তো আখের গোছানো সম্ভব নয় ! বরং বিপদের আশংকা ভীষন !


আওয়ামীলীগ সরকারতো চিরকাল বাংলাদেশ শাসন করবে না। যখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকবে না একটি প্রজ্ঞাপনে এদের বাধ্যতামুলক শাস্তি ও চাকুরি হরণ করা হবে। তো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোন প্রকার সরকারি চাকুরি দরকার নাই ! এই ব্যবস্থাটি এখনো বিশ্বে কোথাও উদাহরন হিসাবে পাওয়া যাবে না।


বরং, বিশ্বে ভুরি ভুরি উদাহারন দেখানো যাবে যে, সেইসব দেশে স্বাধীনতা, সংগ্রাম, বিপ্লবে তাদের পরিবার পরিজন,উত্তারিধারের লতিকা পর্যন্ত প্রথম শ্রেণীর নাগরিক ও প্রথম শ্রেণীর রাষ্ট্রিয় সুবিধা পেয়ে থাকে এটাই বাস্তব !


আর বাংলাদেশে সকল যুদ্ধাপরাধীদের স্থাবর অস্থাবর সম্পদের হিসাব করলে এক একটি জেলা কেনা যাবে।


শুধু একজন মীর কাসেম আলীর স্থাবর অস্থাবর সম্পদ দিয়ে কয়েক জেলা কিনে নেয়া যাবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় এদের সম্পদ পাহারাদার রাখা হচ্ছে।


ধরুন, আজকের ইসলামী ব্যাংকটি কোন কোম্পানীর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে ? উনি কে? কিভাবে উত্থান ? কার কার সাথে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আত্মীয়তা ? এমন অতীক থেকেও ভুরি ভুরি উদাহরন দেয়া যাবে।


সুতরাং, এই বিপন্নতার হাত থেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে, মুক্তিযুদ্ধের সরকার রেহাই দিয়েছে তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ !


মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা খেটে খেয়ে নৈতিকভাবে জীবন পার করবে। কারন ওরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান !


মাননীয় সরকার প্রধান, আপনি জানেন এবং বুঝেন ! বিগত জোট সরকারের সময় কৃষি ও পরে শিল্প মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী একদিনের নোটিশে কৃষি বিভাগে কয় হাজার কৃষি কর্মকর্তা, ব্লক সুপারভাইজার সহ কয় হাজার শিবির কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তা আপনি জানেন। ওরা সবাই শিবির কর্মী ও যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। এরা এখন আপনার থেকেও কঠিন আওয়ামীলীগ। এরা এখন পদোন্নতি পেয়ে বহাল তবিয়তে আছে। তাদের সময়ে চাকুরি হারানো মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা কিন্তু এখনো চাকুরি ফিরে পায়নি, পায়নি চাকুরি পরবর্তী বেতন, প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকাও।


আপনার আমলারা কঠিন ন্যায়বান ও দাম্ভিক, তাদের নাগাল পাওয়া খুব কঠিন। আর আপনার মন্ত্রী, এমপি, নেতারা মহাব্যস্ত। তাদের সাক্ষাৎ পেতে যে কষ্ট, তার চাইতে পুলসিরাত পার হওয়া আরো সহজ !


আপনি ভালো জানেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এর সচিব এর দুর্ব্যবহারে হোটেলে আত্মহত্যা করেছে। প্রবীর সিকদারের কথা নাইবা বললাম ! একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তার চাকুরি হারানোর পর পাওনা টাকার জন্য সচিবালয়ে অনশন করেছে ! হ্যা, সে আওয়ামী লীগ করে না, বাম ধারার মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু এটিও সত্য যে, সচিবালয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক সচিবদের আন্দোলনে সে প্রথম সারির নেতা ছিল। যার তথ্য প্রমাণ পত্রিকা ঘাটলে পাওয়া যাবে।

একজন কবি জোট সরকারের সময় আপনার আন্দোলন সংগ্রামের সময় নির্যাতনের ছবি সম্বলিত প্রতিবাদী  ছড়াগ্রন্থ প্রকাশ করায় মিথ্যা অপবাদে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে তাকে চাকুরি হতে বরখাস্ত করা হয়। আপনার সরকার তার চাকুরির টাকা ফেরৎ দিতে পারেনি এখনো। সেও সনদবিহীন মুক্তিযোদ্ধা, তার ভাই স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের সদস্য, জাতীয় ক্রীড়া পদক পাওয়া খেলোয়াড়।


তো মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটা বাতিল করে একটি খুব ভালো কাজ করেছেন !


একটি অনুরোধ, “মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরির কোটা রেখে আরো একটি প্রমাণ হলো তারা এই দেশের তৃতীয় শ্রণীর নাগরিক ! এরা অপরাধী।“ সুতরাং, এটিও বাতিল করুন। সম্মান দিতে না পারলে অসম্মান না করার অনুরোধ বিনীত অনুরোধ করছি !


বীর মুক্তিযোদ্ধা জহরলাল পাল চৌধুরীর একটি কথা স্মরণে এলো:

 

"আমরা যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, 

যাদের জন্য আমার মা বোনের ইজ্জত হারিয়েছি,

তারা যখন আমাকে নির্দেশ করে, 

তারা যখন আপনার পার্টির নেতা,

তখোন আমার মরে যেতে ইচ্ছা করে।"


আর কিছুই চাই না, আপনি “যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানপন্থীদের  চাকুরি, ব্যবসা, স্থাবর সম্পত্তি বাতিল করুন। বাতিল করে রাষ্ট্রিয় কোষাগার এ জমা করুন।“


হ্যা, জানি, আমাদের এই আবেদনও টিকবে না, কারন যুদ্ধাপরাধীরা খুব ধুর্ত, এরা ধুর্ততার সাথে আওয়ামীলীগ এর অনেক বড় বড় ক্ষমতাধর নেতার আত্মীয় হয়- বেয়াই, জামাই, ব্যবসায়িক অংশীদার, ভাই, চাচা, শ্বশুর আরো কত কি ! এটিও কঠিন কাজ।


যাক কোন দাবি নাই, আপনি নিরাপদ থাকুন, এটিই খোদার কাছে প্রার্থনা !

আপনি নিরাপদ থাকলে, সমস্যাসংকুল বাংলাদেশটা নিরাপদ থাকবে। এটিই চাওয়া ও দাবি।

আমীন !



কবি, সাংবাদিক,সাবেক ছাত্রনেতা 

কক্সবাজার।


আরও পড়ুন

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯” ঘোষণা করেছে যার আওতায় ...

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অস্ত্র আর ...

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থীদের মামলা প্রসঙ্গে ...

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকের আদলে অভিন্ন পদ্ধতিতে উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ ...

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস তিন দিন পর কেন ...

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ...

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

গেল তিন দিনে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ...

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত ইসলামিকে বিলুপ্ত ঘোষণা ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান ...