মাননীয় সংসদ সদস্যগণ নিজ এলাকায় দরিদ্রদের জন্য কিছুই করার নেই আপনার?

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

মাননীয় সংসদ সদস্যগণ আপনার এলাকায় আপনি পাশে দাঁড়ালেই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো ঘরে প্রবেশ করতে ২ বার ভাবতো না। কোন দায়কি আপনার তাদের প্রতি নেই?  ঠিক যেমন নেই মুসা বিন শমসেরের প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও। দায় নেই সালমান এফ রহমানের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও, আহমেদ আকবর সোবাহানের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও, এম এ হাসেমের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও, আজম জে চৌধুরীর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও,  রাজিব আলির প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও, শামছুদ্দিন খানের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও,  যমুনা, ডেকো, প্রান, গ্রামীন, বাংলা লিংক, পি এইচ পি, রবি, ওয়াল্টন ইত্যাদি কারো কোন দায় নেই। 

তাহলেকি বাংলাদেশ শুধু টাকা বানানোর মেশিন হয়েই থাকবে, ক্ষমতার উৎস হয়েই থাকবে?  তবে টাকা ও ক্ষমতা যাই বানান যোগানদাতাতো সেই সাধারণ মানুষ।  

বড্ড জানতে ইচ্ছে করে আসলেই কি খুব কম পড়ে যাবে আপনাদের? রাস্তায় বসে যাবেন? নিজেদের সম্পত্তির কতটাকা জাকাত হয় আপনাদের সেটা কখনও হিসাব করেছেন?  অন্তত সেগুলো নিয়ে দাঁড়ালেওতো আপনার এলাকার মানুষ ২/৪ মাস ঘরে বসেই নিশ্চিন্তে সময় পার করে দিতে পারবে।  

আমরা যতটা জানি, করোনা ভাইরাস জ্যামিতিক নিয়মে সংক্রমিত হয়, কিন্তু আপনি বা আপনারাও নিশ্চই জানেন আপনাদের জ্যামিতিক নিয়মের হারের গল্প। তার পরেও আপনাদের কম পড়ে?  

আমাদের কম পড়ে না। বিশ্বাস করুন বেঁচে থাকার জন্য যা দুই চার টাকা সৎপথে আয় করি সেখান থেকেই যা পারছি করার চেষ্টা করছি। আমাদের মতো সাধারণ জনগন সেই চেষ্টা করছে।  

আজ না হয় কাল করোনার প্রভাব থাকবে না। কে বেঁচে থাকবে আর কে থাকবে না কেউ জানেনা। এমনকি আপনিও নিশ্চিত নন। তবে মানুষ একদিন ঠিক জয়লাভ করবে।  সেদিন এই জয়লাভের কৃতিত্ব সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষেরই প্রাপ্য হবে। আপনারা নন। অবশ্য প্রাপ্য ট্রাপ্য দিয়ে আপনাদের কিছুই যায় আসেনা।  আপনাদের দরকার টাকা আর ক্ষমতা। 

আচ্ছা বলেনতো আপনার স্ত্রী সন্তান নিরাপদ আছেতো? নিশ্চই আপনার খুব আনন্দ লাগছে। নিজেকে গর্বিত পিতা বা গর্বিত স্বামী মনে হচ্ছে তাইনা? 

আমরা সকলে দোয়া করি আপনারা সেটাই থাকুন। প্রকৃতি যেদিন আপনার মুখোমুখি হবে সেদিন নিশ্চই পিছনে বার বার ফিরে তাকাতে ইচ্ছা করবে। কিন্তু তখন সময় থাকবে না।

আল্লাহ নিশ্চই সেদিন আপনাদের পাওনা সুদে আসলে মিটিয়ে দেবেন।  

তাই এগিয়ে আসুন। পুতুল খেলতে নয়, মদের আড্ডায় বা অনৈতিক কোন কাজে নয়। জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। এই সাধারণ মানুষগুলো নিজের বুক পেতে দেবে আপনার জন্য। সেদিন আপনি অবশ্যই হবেন মহাবীর।  শুনতে পেয়েছেন আমাদের চিৎকার?