শুদ্ধি অভিযানের কৌশল পাল্টে যাচ্ছে!

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ■ বাংলাদেশ প্রেস

আওয়ামী লীগ তাঁর দলের মধ্যে যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, যারা সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানে শুরু করেছে। কিন্তু এই শুদ্ধি অভিযান শুরুর তিন সপ্তাহের মাথায় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে। জানা গেছে যে, শুদ্ধি অভিযানে যে ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে তাতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং এতে সাধারণ মানুষের মনে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। এজন্য শুদ্ধি অভিযানের কৌশলগত পরিবর্তনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে শুদ্ধি অভিযান না করে তিনটি ক্যাটাগরি তৈরি করা হচ্ছে।

এই তিন ক্যাটাগরিতে তিনবরকমভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রথমত, যারা একেবারে গর্হিত কাজ করছে। যেমন খালেদ হোসেন ভুঁইয়া, জিকে শামীমের মতো যারা দলীয় পদ ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান কায়দায় যে সাড়াশি অভিযান তা অব্যাহত থাকবে। তাদেরকে প্রকাশ্যে গ্রেপ্তার করে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা মনে করছে, লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এদের মধ্যে অধিকাংশই হলো হাইব্রিড। যারা অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে এসেছে সুবিধা আদায়ের জন্য।

দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে আছে, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে কিন্তু অভিযোগের মাত্রটা অত বড় না বা তারা যে অপরাধ করেছে সেই অপরাধের জন্য তাদেরকে দল থেকে সরিয়ে দিলেই সেই অপরাধ থেকে তারা নিজেদেরকে নিবৃত করতে পারবে এরকম অভিযুক্তদের ঢাকঢোল পিটিয়ে আইনের আওতায় না এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, নিয়মিত মামলা গ্রহণ করার ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করা। যেমন ধরা যাক, যদি আওয়ামী লীগের কোন নেতা যার আয়ের সঙ্গে ব্যায়ের সামঞ্জস্য নেই এবং এরকম যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, তিনি যে উপার্জন করেছেন সে উপার্জনটি বৈধ পথে নয় তখন দুদক তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তা দুর্নীতি দমন কমিশন গ্রহণ করবে। একইভাবে যদি তাদের বিরুদ্ধে কোন সন্ত্রাস বা অন্যকোন অপরাধের কোন মামলা থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সে মামলাটি করবে।

তৃতীয় ক্যাটাগরিতে যাদের মদদে বা পৃষ্ঠপোষকতায় এই অপরাধীরা ডালপালা বিস্তার করেছিল এবং অপরাধীরা আইনের ঊর্ধে নিজেদেরকে নিয়ে গিয়েছিল তাদের ব্যাপারে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তাঁদেরকে সতর্ক করা হবে যেন তারা ভবিষ্যতে এধরণের অপরাধী বা অপরাধের সঙ্গে না জড়ায় এবং অভিযুক্তদের কোনরকম আশ্রয় প্রশ্রয় না দেয়। এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তারা যেন ভবিষ্যতে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা না দিতে পারে সেজন্য তাদের ক্ষমতা খর্ব করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ঢালাওভাবে শুদ্ধি অভিযানের ফলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধেও নানারকম কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে কল্পিত কল্পকাহিনী প্রকাশ করা হচ্ছে। যেগুলোর ফলে শুধু যে ওই ব্যক্তির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তা নয়, আওয়ামী লীগেরও ইমেজ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে একটা ভুল বার্তা যাচ্ছে। এ কারণেই শুদ্ধি অভিযানে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামীকাল শুদ্ধি অভিযান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের একটা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং সেই বৈঠকে শুদ্ধি অভিযানের বর্তমান যে রুপপরিকল্পনা সেটা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং তিনি যদি সেটি অনুমোদন করেন তাহলে শুদ্ধি অভিযান দেখা যাবে নতুন অবয়বে।