"কেন বাংলাদেশের স্থপতি হবেন , বাঙ্গালী জাতীর পিতা ?"

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ■ বাংলাদেশ প্রেস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে পবিত্র কুরআন খতম ও হামদ-নাত পরিবেশনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করতে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। আগামী ২২ আগস্ট রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট এ স্থান নির্ধারণ করে একটা পোস্টার ও ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এ অনুষ্ঠানে হামদ-নাত পরিবেশনের জন্য মুহিব খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

মূলত এই পোস্টার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই অভিযোগের সুত্রপাত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কারণ হিসেবে অনেকে উল্লেখ করেছে মুহিব খানের নাম ও তার বিভিন্ন সময়ের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। কেননা এই মুহিব খান মূলত একজন ইসলামী সংঙ্গীত শিল্পী। বিভিন্ন সময় তিনি গণতন্ত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তিকর গান গেয়েছেন। বাদ দেননি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়েও গান। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম গানের মাধ্যমে তিনি বিতর্কিত ভূমিকায় অবস্থান নিয়েছেন।

মুহিব খান তার 'কেন কেন ১' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের সংখ্যা, জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেছেন। 

তিনি তার গানে বলেছেন-

"কেন বাংলাদেশের স্থপতি হবেন

বাঙ্গালী জাতীর পিতা?

কেন সংখ্যা বাড়িয়ে বলতেই 

হবে ত্রিশ লক্ষ বৃথা? 

কেন জাতীয়তা নিয়ে চলে 

বিতর্ক বাঙালি 

বাংলাদেশি?

কেন বন্ধু না হয়ে প্রভু হতে চায়

সীমানার প্রতিবেশী?

কেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি

থাকতে মুসলমান

কেন রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত হয়ে যায়

অন্য কবির গান?

এমন একজন বিতর্কিত ইসলামী সঙ্গীত শিল্পী মুহিব খান৷ যাকে বিভিন্ন সময় জামায়াত,  বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামি গান পরিবেশন করতে দেখা যায়। এবার সেই মুহিব খানকেই অতিথি করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মতো একটি অস্প্রদায়িক রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। 

জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর এবারই প্রথম বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে এমন অভিনব একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। যা ছাত্রলীগের ইতিহাসে প্রথম। এবং সেই দিক দিয়ে হয়তো ইতিহাসে নাম লেখাতে চলেছেন শোভন-রাব্বানী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক নেতা বার্তাজগৎ২৪ কে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি অস্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন। ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশিক সংগঠন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে অস্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শকে বুকে নিয়ে পথ চলার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে মিলাদ মাহফিল ও হামদ-নাত অনুষ্ঠানে যাদের অতিথি করা হয়েছে সে পোস্টার হয়তো আপনারা দেখেছেন। এই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ একটি ইসলামি অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তো ইসলামি কোন সংগঠন নয়। তবে কেন এই ধারার অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। নাকি ছাত্রলীগ তাদের আদর্শের জায়গা থেকে সরে এসে ইসলামি ভাবধারার দিকে ঝুঁকে পড়ছে?

ওমর ফারুক নামের একজন ছাত্রলীগ কর্মী তার ফেসবুকে লিখেছেন- শোভন-রাব্বানী তোমাদের অভিনন্দন। এমন একটি ইসলামি সম্মিলনের আয়োজন করে ছাত্রলীগের ইতিহাসে নাম লেখানোর জন্য। ইতিহাসে তোমরা অমর হয়ে থাকবে।

তানভীর হাসান সৈকত তার ফেসবুকে লিখেছেন-

মুহিব খানের বাবা আতাউর রহমান খান ১৯৯১ সালে বিএনপি জামাত কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী ছিল এবং সে জয় লাভ করে কিশোরগঞ্জ সদর থেকে। সদরের সকলেরই এটা জানা।

এমন একজন কুখ্যাত বিএনপি জামাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এই অনুষ্ঠানে কে বা কারা প্রভাইড করলো? এই কমিটির ধর্ম সম্পাদক এই আয়োজন করেছে নাকি? ধর্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও তাকে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। তার কাছ থেকে এইরকম অতিথি আশা করাই যায়। 

তবে কিভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই প্রোগ্রামে সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় দ্বায়িত্ব পালন করবেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমার মত একজন ক্ষুদ্র কর্মীকে কেন্দ্রের এমন কর্মকাণ্ড ব্যথিত করে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।