চট্রগ্রামের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের কথা মনে আছে ?

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল ■ বাংলাদেশ প্রেস

চট্রগ্রামের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের কথা মনে আছে ? পুলিশের নেতিবাচক ভূমিকার মাঝে যে কয়জন অফিসারকে দেখে মানুষ আশার আলো দেখতো বাবুল আক্তার ছিলেন অন্যতম। সারা দেশের মানুষের কাছে ছিলেন একজন জনপ্রিয় পুলিশ অফিসার। যার একের পর এক অপারেশনে ধরা পড়েছিল, চোরাকারবারী, সন্ত্রাসী, জঙ্গি গোষ্ঠী। যার নাম শুনলেই অপরাধীদের বুকে কাঁপন উঠে যেত। ভয়ে তটস্থ হয়ে কোণঠাসা ছিল চট্রগ্রাম অঞ্চলের অপরাধী গুলো। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ছিল সুখের সংসার। সব কিছু যতারীতি চলছিল। হটাৎ জীবনের মোড় ঘুরে আলোময় জীবনে চলে আসে গাড় নিমেশ কালো অন্ধকার।

২০১৬ সালের ৫ ই জুন। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ের দিকে যাওয়ার পর মোটরসাইকেল করে আসা তিন দুর্বৃত্ত মাহমুদা খানম মিতুকে প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার সময় বাবুল আক্তার মহানগর পুলিশ থেকে এসপি পদে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর শুরু হলো নতুন চক্রান্ত। হত্যাকাণ্ডের কুশীলবরা জজ মিয়া নাটকের মত একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট তৈরী করলো। যে নাটকের মিডিয়া পার্টনার ছিল পাকিদের মদদপুষ্ট বাংপাকি মতিউর রহমান কর্তৃক উলফার টাকায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম আলো ও তার সহযোগীরা।

নাটকে মৃত মাহমুদা খানম মিতু'র চরিত্র কলঙ্কিত করে অপবাদ দেওয়া হলে একজন ব্যবসায়ীর সাথে পরকীয়ার। একই ভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পুলিশ অফিসারের বউয়ের সাথে পরকীয়ার অপবাদ দেওয়া হলো বাবুল আক্তারের উপর। প্রথম আলো গ্রুপ বাবুল আক্তার ও মিতু'র পরকীয়া নিয়ে ধারাবাহিক রমরমা প্রচারণা চালিয়ে যেতে লাগলো। ২৪ শে জুন দিবাগত রাতে পুলিশ বাবুল আক্তারকে স্ত্রী মিতু হত্যা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ১৫ ঘন্টা মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। নানা নাটকীয়তার পর ৬ ই সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফের (বানসুরি এম ইউসুফ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে সেখানকার অনিয়ম রোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক হওয়ার পর একের পর এক সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে রাগব বোয়ালদের তটস্থ করে তুলেন। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেন রিয়েল হিরো। মানসিক ভাবে অসুস্থ স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভালোভাবেই চলছিল ইউসুফ ভাইয়ের জীবন। 

বাবুল আক্তারের মত হটাৎ করে ছন্দ পতন ঘটে ইউসুফ ভাইয়ের জীবনে। গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় বাসায় সবার অগোচরে রুমের দরজা বন্ধ করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তাহার স্ত্রী তানিয়া ইশরাত। আগুনে দগ্ধ তানিয়াকে তৎক্ষণাৎ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে  মৃত্যু হয়। শুরু হয় যায় মিডিয়ার রংচং মাখা সংবাদ পরিবেশন। চুন খেয়ে মুখ পুড়লে দই দেখলেও ভয় হয়। বানসুরি এম ইউসুফ ভাইয়ের স্ত্রীর ঘটনার পর বাবুল আক্তারের সেদিনের সেই ঘটনা গুলো আবার মনে পড়লো। ইউসুফ ভাইকে কি বাবুল আক্তারের মত আরেকটা নাটকের মুখোমুখি হতে হবে ? সেই অজানা আশংকায় বুকটা কেঁপে উঠলো। --