হাটহাজারী ইউএনও’র বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ

হজ্ব নিয়ে মন্তব্য করা ইউএনও’র স্ট্যাটাসটি ফেইসবুকে ভাইরাল

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০১৯

মামুন খাঁন, হাটহাজারী ■ বাংলাদেশ প্রেস

হজ্বে শয়তানকে পাথর ছুঁড়া নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে নানা মন্তব্য স্যোশাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এনিয়ে হাটহাজারীতেও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

১১ আগষ্ট রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ইউএনও তার নিজের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ২০১৮ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি মাসের যুগান্তর পত্রিকার একটি খবর শেয়ার করে এমন মন্তব্য করেন। খবরটির শিরোনাম হলো ‘ইয়েমেনে সৌদি হামলায় ৬৮ শিশু নিহত’। 

সারাবিশ্বে ইসলাম ধর্মের ধারক ও বাহক খ্যাত মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরব। বিভিন্ন ইসলামী বড় বড় উৎসব অনুষ্ঠানে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা থাকিয়ে থাকে সৌদি আরবের দিকে। সেই সৌদিতে আসল শয়তান রয়েছে বলে হাটহাজারী ইউএনও’র বিরুপ মন্তব্যে হতবাক ধর্মভীরু মুসলমান ভাইয়েরা। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে এমন মন্তব্য করে প্রশ্নেবিদ্ধ হন তিনি।

কেন না হজ্বের নিয়ম ও ইসলাম ধর্মে মানুষ মেরে নেকি ও সওয়াব লাভের প্রক্রিয়া নিয়ে ইসলামের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন ইউএনও রুহুল আমিন। এমনকি বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বর্পূণ পদে থেকে এভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে তিনি আঘাত এবং মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের অপব্যাখ্যা প্রচার করছেন বলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিনের ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-“হাজিরা পাথর মারার সময় পাথরের শয়তানের পাশাপাশি সৌদির আসল শয়তানকে পাথর মারতে পারলে কিছু অতিরিক্ত সওয়াব পাবেন বলে আমার বিশ্বাস”।

তার এই স্ট্যাটাসে অনেকে সৌদিতে আসল শয়তান-কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন ছুড়েছেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তোলেছেন দেশ থেকে যারা হজ্বে গিয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে কি তিনি উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন কিনা। ‘জাহেদ আলম’ নামে এক ব্যক্তি ঐ স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেছেন, ‘ইয়ামেনের কিছু হুতি সন্ত্রাস আছে, আইএস এর মত, এদের কারনে দেশে এত অশান্তি। হুতিদের তেমন কিছু নেই, তারপরেও সউদি আরব লক্ষ করে হামলা চালায়, পালটা হামলা চালালেই ইয়েমেনের ক্ষতি হচ্ছে বেশি।’

হাটহাজারীর মাওলানা আব্দু মালেক আল কুতুবী বলেন, ‘এটা কেমন কথা হজ্বে পাথর ছুঁড়া নিয়ে একজন ইউএনও এমন বির্তকিত মন্তব্য করতে পারেন কিনা। তাঁর কথায় কি এটাই প্রমাণ করে যে সৌদির বাদশাকে পাথর ছুড়ে মারলে বেশি সওয়ার পাওয়া যাবে। আসলে ধর্ম নিয়ে ফেসইবুকে কটাক্ষ করছেন তিনি। 

অনেকবার মুঠোফোনে কল করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পুর্বে সরকারি একটি বিশেষ গোয়েন্দা তদন্তে হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে জামাত শিবিরের সাথে ঘনিষ্ঠ সর্ম্পকেরও অভিযোগ ছিল। যিনি কোন না কোন কারণে আলোচনা সমালোচনায় মিডিয়ায় চাওর থাকতে চান।