এতো শান্তি আমি অন্য কাজে পাই না

মানুষের উপকারে নিজেকে লাগাতে পারার পরে যা পাই

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯ |

মোস্তাফিজ রহমান

ছেলেটা একটা ঔষধ কোম্পানিতে জব করে এসআর পদে।। বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার কালুখালীর ওপাশে গান্ধী মারা গ্রামে।

এসেছে দৌলতপুর থেকে। রাত এখন প্রায় ২,১০ মিনিট। এখানে মানে খোকসা পর্যন্ত এসেছে ভেঙ্গে ভেঙ্গে। এখন যাওয়ার জো নেই। এদিকে সকালে ওর মাষ্টার্সের একটা পরীক্ষা আছে।

এই পর্যন্ত শুনে বললাম, সমস্যা নেই। আমি আছি তো। বসেন চা খান। বললো চা খায় না। একটু আগে ভাত খেয়েছে এখন আর চা খাবেনা। সিগারেট অফার করলাম, তাও খায় না। যাকে বলে একেবারে ঝরঝরে ভালো একটা ছেলে।

চেয়ে আছি পথের দিকে। সাথে থাকা পাবলিক ছেলেটা যার নাম সুমন, ওকে বললাম দেখ যে কোন গাড়ি আসলেই আমাকে বল। দেখি ওকে তুলে দেয়া যায় কিনা!

পোশাকের চাকরির এই একটা মজা। রাত বিরেতে এমপি মিনিষ্টারের চেয়ে বেশী উপকার করা যায় নিরুপায় অসহায় বিপদগ্রস্ত লোকদেরকে। আর আমি এটা করি সুযোগ পেলেই, কাছের বন্ধুরা তা জানেন।

একটু পরেই রাজবাড়ী গামী একটি ট্রাক এলো। যথারীতি সিগন্যাল দিতেই দাঁড়ালো। গতানুগতিক পুলিশের মেজাজের বাইরে অমায়িক হাসি দিয়ে বললাম ওস্তাদ কোথায় যাবেন??

চালক ভাই এমন ব্যবহারে আপ্লুত হয়ে জবাব দিলো স্যার রাজবাড়ী। আমি বললাম ওস্তাদ আমার একটা উপকার করেন " এই ছেলেটার সকালে মাষ্টার্সের একটা পরীক্ষা আছে। বিপদে পড়েছে। ওকে একটু গান্ধী মারা নামিয়ে দেবেন।

ওস্তাদ বললো আপনি বলছেন না করি কেমনে? ওঠেন! আমিও কৃতজ্ঞতার সাথে বললাম ওস্তাদ খোকসার ভিতরে কোন পুলিশী সাহায্য লাগলে ফোন দিয়েন একসাথে দুজনকে ফোন নঃ দিলাম।

ছেলেটার চেহারা হয়েছে দেখার মতো। এই এক মজা উপকার করার পরে কৃতজ্ঞ চিত্তে এই চেহারাটা আমার কাছে বরাবরই স্বর্গীয় দেবদূতের মতো লাগে।

এমন সময় আকাশ থেকে আনন্দে খসে পড়লো একটা তারা। একটা হিমশীতল বাতাস বয়ে গেলো ঝাপটা দিয়ে। মনে মনে এক আশ্চর্য সতেজতা অনুভব শুরু করলাম।

আহ এতো শান্তি আমি অন্য কাজে পাই না, মানুষের উপকারে নিজেকে লাগতে পারার পরে যা পাই। ও হ্যা যাওয়ার আগে ও একটা কলম দিয়ে গেছে, ডাক্তারদেরকে যা দেয়। আর এই গিফটটা আমার খুব পছন্দের।

তাড়াহুড়ো করে ওর নামটা জানতেই ভুলে গিয়েছি। ছবিটা তুলে দিয়েছে ফেসবুক বন্ধু আশিক।