• অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খান বলেছিলেন, শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি, এই শুয়োরের বাচ্চারা কারা?

    অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খান বলেছিলেন, শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি, এই শুয়োরের বাচ্চারা কারা?

  • প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন: ব্যারিস্টার সুমন

    প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন: ব্যারিস্টার সুমন

  • প্রসাদ খাওয়া‌নোর বি‌নিম‌য়ে কৃষ্ণ নাম উচ্চার‌ণ; এ নিয়ে তৈলপাড় চট্টগ্রামাসহ সারাদেশ

    প্রসাদ খাওয়া‌নোর বি‌নিম‌য়ে কৃষ্ণ নাম উচ্চার‌ণ; এ নিয়ে তৈলপাড় চট্টগ্রামাসহ সারাদেশ

  • কে এই প্রিয়া সাহা?

    কে এই প্রিয়া সাহা?

  • কিভাবে একটি নারীকে চরিত্রহীন বানিয়ে দেয়া হয়!

    কিভাবে একটি নারীকে চরিত্রহীন বানিয়ে দেয়া হয়!

আওয়ামী লীগ জিতলে শুধু তাঁরাই জেতে আর হারলে আমরা সবাই হেরে যাই

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০১৯     আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৯

অজয় দাসগুপ্ত

এক-  তখন আমি মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। এক সকালে কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া হেড স্যার মাহমুদুল হকের স্নেহ ও বিশ্বাসের জোরে উপস্থিত বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বিষয় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। জানা গেলো আমি প্রথম হয়েছি। এবং উপহার হিসেবে প্রাপ্তিযোগে আরো কিছু র সাথে ছিলো একখানা বই। আমার জন্য সে বয়সে ভারী ও কঠিন সে বইটির শুরুর লাইন গুলো পড়ে আমার ঘুম ছুটে গিয়েছিল কয়েক রাত। সেখানে লেখা ছিলো, 

বুদ্ধিজীবীরা যা বলতেন শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। যা বলছেন শুনলে বাংলাদেশের কিছু হবে না। চমকে ওঠার শুরু এভাবে।

দুই-এই পাগল ক্ষ্যাপা স্বভাবের মানুষটির কপালেও জুটেছিল মহা ক্ষ্যাপা প্রথাবিরোধী বিশেষ এক পন্ডিতজনের স্নেহ। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বিদেশে গিয়েছিলেন পি এই চ ডি করতে।অধ্যাপক লাস্কির অধীনে। এই বিশ্ববিখ্যাত অধ্যাপক লাস্কি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের এক বাতিঘর। কিন্তু পি এই চি ডি করার আগেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় আবদুর রাজ্জাক দেশে ফিরে এলেন কারন তাঁর মনে হয়নি র কেউ অমন গাইড হতে পারে। মাদের এই লেখক ভদ্রলোকের এমনই কপাল তিনি গেলেন বদুর রাজ্জাকের অধীনে পি এইচ ডি করতে। ব্যাস। জানা জানতে পারা আর অজানার সন্ধানে দুজন রসময় বিজ্ঞ ও পাগলাটে বাঙালির কারো র ডক্টরেট ডিগ্রি মিললো না। বরং বস্তা পচা থিসিস বা চর্বিত চর্বনের পরিবর্তে আমরা পেলাম ছফা ভাইয়ের লেখা, যদ্যপি আমার গুরু নামে এক অসাধারণ কার গ্রন্থ। চট্টগ্রামের শাহ আমানত(রঃ) বিমানবন্দরে বসে পুরো বইটি গিলেছি আমি এবং সানন্দে গোগ্রাসে।

তিন- এই মেধাবী লেখক টি অামাদের ধারার লেখক না বরং বিপরীত ধারার বলে সে সময় ভয় ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে বুঝলাম কেন তা করা হয়েছিল। কারণ তিনিই সে লেখক যিনি শওকত ওসমানের মুখে কলকাতার লেখকদের প্রশংসা ও বাংলাদেশে তাদের জনপ্রিয়তা কথা শুনতে শুনতে একবার তাঁকে বগল দাবা করে বই পাড়ায় নিয়ে গেছিলেন। সেখানে অনেকগুলো বইয়ের দোকানে ঘুরে ঘুরে জানতে চেয়েছিলেন তারা সুনীল, শক্তি, নিমাই, মুস্তফা সিরাজ, এমন কি নীহার রঞ্জন কে চেনে কি না? সবার বই পাওয়া গেলেও একজন ছাড়া কেউ শওকত ওসমানকে চেনে নি, নামও শোনেনি। তখন ছফা ভাই দু হাত ওপরে ছুঁড়ে হাসতে হাসতে শওকত ওসমানকে বলেছিলেন, এ বালের জন্য দেশ স্বাধীন করছিলাম মরা? মধ্যরাতে ঢাকার রাজপথে বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলেআবেগমথিত হয়ে উল্লাস করা এমন পাগল এখন আর জন্মায় না।

চার- গান ও লিখেছেন। ঘর করলাম না রে মি সংসার করলাম না গানটি তাঁর লেখা। বন্ধু লুৎফর রহমান রিটনের লেখায় সরস বর্ণনা আছে এ গানের সুর পছন্দ না হওয়ায় ফকির আলমগীরের ওপর চড়াও ও রুষ্ট হবার ঘটনা।

পাঁচ- আমরা যারা চলমান লেখা লিখি, রাজনীতি নিয়ে লিখি কতভাবে মানুষের মন ও ভাবনা ধরার কসরত করি। কত আলোচনা কত বিশ্লেষণ। তিনি রাজনীতি নিয়ে সরাসরি লিখতেন না। অথচ এখনকার উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ নামের দলকানাও উন্মাদদের নিয়ে অসাধারণ একটি বই আছে তাঁর। গাভী বিত্তান্ত নামের এই ছোট উপন্যাস তূলনা বিরল।

ছয়- আওয়ামী লীগ জিতলে শুধু তাঁরাই জেতে আর হারলে আমরা সবাই হেরে যাই। এমন সহজ সরল অথচ কালজয়ী কথা আর কে বলতে পেরেছেন? 

আমাদের চট্টগ্রামের সন্তান, বাংলাদেশ ও বাঙালির কৃতি ছফা ভাইয়ের জন্মদিন আজ।

শুভ জন্মদিন আহমদ ছফা।


জন্ম

আহমদ ছফা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে। তার পিতা মরহুম হেদায়েত আলী। মা মরহুমা আসিয়া খাতুন। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে আহমদ ছফা ছিলেন বাবা-মার দ্বিতীয় সন্তান।


শিক্ষা ও জীবন


শামসুল আরেফীন রচিত আহমদ ছফার অন্দরমহল গ্রন্থে প্রকাশিত ১৯৫৬ সালে দশম শ্রেণীতে থাকাকালে আহমদ ছফার প্রাক নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজি ২য় পত্রের রেজাল্ট শীট

আহমদ ছফার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় তার পিতার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ গাছবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে নিজের গ্রামের নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ছাত্রাবস্থায় সুধাংশু বিমল দত্তের মাধ্যমে কৃষক সমিতি-ন্যাপ বা তৎকালীন গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। মাস্টারদা সূর্যসেনের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অণুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন উপড়ে ফেলেন। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুকাল পার্বত্য চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম নাজিরহাট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ; একই বৎসরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে। পরে বাংলা বিভাগে ক্লাশ করা অব্যাহত রাখেননি। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এমএ পরীক্ষা দেয়ার আগেই বাংলা একাডেমির পিএইচডি গবেষণা বৃত্তির জন্য আবেদন করেন এবং তিন বছরের ফেলোশিপ প্রোগ্রামের জন্য মনোনীত হন। গবেষণার বিষয় ছিল ‘১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব, বিকাশ, এবং বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে তার প্রভাব’। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পিএইচডি অভিসন্দর্ভের জন্য জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে আসেন। দীর্ঘকাল তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রাইভেটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পরীক্ষা দেন। মৌখিক পরীক্ষা হয় একুশে মার্চ।  পিএইচডি সম্পন্ন করা পরে আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ১৯৭১ সালে ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’ গঠন ও এর বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নেন। ৭ই মার্চ ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা’ হিসেবে প্রতিরোধ প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এপ্রিল মাসে কলকাতা চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সেখান থেকে দাবানল নামের পত্রিকা সম্পাদনা করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশে ফিরে লেখালেখি করতে থাকেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন মোস্তানের সহায়তায় কাঁটাবন বস্তিতে ‘শিল্পী সুলতান কর্ম ও শিক্ষাকেন্দ্র’ চালু করেন।


পরে ১৯৮৬-তে জার্মান ভাষার ওপর গ্যোটে ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ডিগ্রিও লাভ করেন তিনি, যা তাকে পরবর্তী সময়ে গ্যাটের অমর সাহিত্যকর্ম ফাউস্ট অনুবাদে সহায়তা করেছিল।


সাহিত্যকর্ম

আহমদ ছফা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন দীপ্তময়ভাবে। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তিরিশটির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন,তার জীবদ্দশায় আহমদ ছফা রচনাবলি প্রকাশ শুরু হয়। তার রচনাবলি ৯ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। জীবিত থাকাকালীন আহমদ ছফা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছিলেন।


মননশীল সাহিত্য

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ হিসেবে মুক্তধারা থেকে প্রকাশ পায় ছফার প্রবন্ধগ্রন্থ জাগ্রত বাংলাদেশ। প্রকাশকাল- শ্রাবণ ১৩৭৮ বা জুলাই ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।[৪৪] ১৯৭২-এ প্রকাশ পায় বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহের ইতিহাস এবং ১৯৮১-এ বাঙালি মুসলমানের মন গ্রন্থ প্রকাশ পায়।


বর্তমান মুহূর্তে আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধিজীবীরাই হচ্ছেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রেণী। এরা চিরদিন হুকুম তামিল করতেই অভ্যস্ত। প্রবৃত্তিগত কারণে তারা ফ্যাসিস্ট সরকারকেই কামনা করে। কেননা একমাত্র ফ্যাসিস্ট সরকারই কিছুসংখ্যক বুদ্ধিজীবী সম্মান শিরোপা দিয়ে পুষে থাকে। অল্পসংখ্যক বাছাই করা লোককে দিয়ে নিজেদের প্রচার প্রোপাগান্ডা করিয়ে দেশের জনসমাজের স্বাধীন চিন্তা এবং প্রাণস্পন্দন রুদ্ধ করেই ফ্যাসিবাদ সমাজে শক্ত হয়ে বসে। চিন্তাশূন্যতা এবং কল্পনাশূন্য আস্ফালনই হল ফ্যাসিবাদের চারিত্র্য লক্ষণ।

—বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৭২)

১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক গণকণ্ঠ-এ ধারাবাহিকভাবে বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস রচনা প্রকাশ করেন। 'বিতর্ক বা আলোড়ন সৃষ্টিকারী'[৪৬] এই প্রবন্ধের কারণে তৎকালীন সরকারের রোষে পড়তে হয় তাকে। বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস বইয়ে আহমদ ছফা বাঙালি চিন্তকদের সম্পর্কে যুক্তিসহ রূঢ় সব মন্তব্য করেছেন।সেই সময় দেশের প্রতিষ্ঠিত-অপ্রতিষ্ঠিত লেখক-বুদ্ধিজীবীরা প্রতি সপ্তাহের কিস্তির দিকে তাকিয়ে থাকতেন আগ্রহ এবং আতঙ্ক নিয়ে।আহমদ ছফার সর্বাধিক আলোচিত সাত চল্লিশের দেশভাগ থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ—দীর্ঘ এ কালখণ্ডে বুদ্ধিজীবীরা কীভাবে আত্মবিক্রির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলেন, কীভাবে পুরস্কার, পদক -পদবির জন্য মরিয়া ছিলেন, তা তথ্য উপাত্তসহ উপস্থাপন করেছেন। ছফার ভাষায়, 'আগে বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানি ছিলেন, বিশ্বাসের কারণে নয়—প্রয়োজনে। এখন অধিকাংশ বাঙালি হয়েছেন—সেও ঠেলায় পড়ে।' দেশস্বাধীন হওয়ার আগে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা, গল্প-উপন্যাসে পাকিস্তান প্রশস্তি,  স্বৈরশাসকের জীবনী  অনুবাদ—এসব বিষয়কে ছফা দেখেছেন লেখকদের মেরুদণ্ডহীনতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগমুহূর্তে লেখকসমাজের নিষ্ক্রিয়তা, যুদ্ধের সময় দ্বিধান্বিত ভূমিকা, ভারতে পালিয়ে বেড়ানো, ভোগবিলাসে মত্ত থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ছফা তুলে ধরেছেন, স্বাধীনতাপূর্ববর্তী বাংলাদেশের লেখকসমাজ কতটা অপরিণামদর্শী ও অদূরদর্শী ছিলেন। ছফা বলেন, সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবীরা ‘প্রয়োজনে-ঠেলায়’ পড়ে বিশেষ বিশেষ ঘটনার আগে যে ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি দেন, ঘটনার পরে লেখেন তার উল্টো কাসুন্দি। ফলে তাদের কোনো চিন্তা-কর্ম-উপদেশ সমাজের বিশেষ কোনো কাজে আসে না। তাই ছফা বলেন, বুদ্ধিজীবীরা যা বলতেন, শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। এখন যা বলছেন, শুনলে বাংলাদেশের সমাজ-কাঠামো আমূল পরিবর্তন হবে না।

আমি জাতি হিসেবে বাঙালি মুসলমানের অপূর্ণতা, অক্ষমতা এবং অসহায়তার দিকটাই তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। বাঙালি মুসলমানরা এ দেশের মাটির আসল সন্তান। তারা প্রভুত্বকামী আর্যদের সঙ্গে যেমন সম্পর্কিত নয়, তেমনি আগ্রাসী তুর্কি, তাতার, ইরানী, তুরানীদেরও কেউ নয়। শুরু থেকেই বাঙালি মুসলমান একটা নির্যাতিত মানবগোষ্ঠী।

—আহমদ ছফা, ১৯৯৪[৫১]


বাংলা একাডেমি থেকে বাঙালি মুসলমানের মন প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশ পায় ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে।গ্রন্থের নাম প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে মাসিক সমকালে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত প্রবন্ধ "বাঙালি মুসলমানের মন।" "বাঙালী মুসলমানের মন" প্রবন্ধে ছফা বাঙালি মুসলমানদের হীনম্মন্যতার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন এবং পাশাপাশি এর বাস্তব ও যৌক্তিক কারণগুলো তুলে ধরেছেন। ছফার মতে, হিন্দু বর্ণাশ্রম প্রথাই এদেশের সাম্প্রদায়িকতার আদিতম উৎস।[৫৩] তাঁর মতে, বাঙালি মুসলমানের হীনম্মন্যতার শিকড়ও বর্ণাশ্রম প্রথাতে প্রোথিত আছে। আর শাসকশ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতার অনুপস্থিতির কারণে বাঙালি মুসলমান আজ পর্যন্ত তাঁদের জাতিগত হীনম্মন্যতা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারেননি। আর তাই 'বাঙালী মুসলমান সমাজ স্বাধীন চিন্তাকেই সবচেয়ে ভয় করে।' প্রবন্ধটির পটভূমি ব্যাখ্যা করে সলিমুল্লাহ খান মন্তব্য করেছেন, বাঙালি মুসলমান আসলে কোনও জাতিগোষ্ঠী নয়। এটি একটি বিশেষ শ্রেণির নাম, যারা মুসলমান ও বাংলায় কথা বলেন এবং এ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। 'বাঙালি ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর শোষিত শ্রেণির একটি বিশেষ অংশ, যাদের হীনম্মন্যতার অবসান হয়নি, তারাই এই বাঙালি মুসলমান। সময় বদলালেও এই হীনম্মন্যতার সংকটের অবসান হয়নি। এর কারণেই সব স্তরে বাংলা ভাষার দুরাবস্থা এখনও কাটেনি।'


১৯৯২ সালে রচিত "বাংলাদেশের উঁচুবিত্ত শ্রেণী এবং সমাজবিপ্লব প্রসঙ্গ" প্রবন্ধে ছফা বলেছেন, দরিদ্র ও সংগ্রামরত বিশাল আম জনতার সাথে দেশের শহুরে সুশীল সমাজ ও শাসক শ্রেণীর কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের অভিজাতরা বিদেশিদের চেয়ে বেশি বিদেশি সেজে থাকে। তারা কাল্পনিক বৈশ্বিক সংস্কৃতির সাথে একাত্মতা বোধ করে, যার কোন শিকড় বাংলাদেশের কোটি জনতার রূঢ় বাস্তবতায় নেই। ছফা আরো বলেন, বাঙালি সাধারণ মুসলমানরা আদৌ গোঁড়া বা প্রতিক্রিয়াশীল না, কিন্তু শাসকশ্রেণীর সাথে তাঁদের সতত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত দূরত্ব ও নিরবচ্ছিন্ন শোষণ ও আর্থরাজনৈতিক বঞ্চনা তাঁদের মাঝে ক্রোধ ও ক্ষোভে পূর্ণ পলকা অবস্থার সৃষ্টি করেছে, যে অবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থী ধর্মীয় সংগঠনগুলো বাংলাদেশে জনমত গঠন করতে পারছে।


কথাসাহিত্য

সলিমুল্লাহ খান ও আরো অনেকের মতে, আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্য তথা বিশ্ব সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মতে, ছফা গল্প বলার কলা অল্পবয়সেই রপ্ত করেছিলেন। তাই পাঠকরা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়।


সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭) আহমদ ছফার প্রথম উপন্যাস ও গ্রন্থ।উপন্যাসটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির হৃদয়গ্রাহী উপাখ্যান বলা হয়েছে।[১৭] যদিও বরুমতির আঁকেবাঁকে নামক একটি গ্রন্থও তার প্রথম গ্রন্থের দাবিদার।

ওঙ্কার (১৯৭৫) ছফার দ্বিতীয় উপন্যাস। উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত ওঙ্কারে একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের তৎকালীন অস্থির রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থাকে ধারণ করেছেন লেখক।[৫৯] ওঙ্কারে বোবা বউয়ের 'বাঙলা' উচ্চারণের সমান্তরালে "জাতিসত্তার জাগরণের অন্তর্সত্য বিধৃত হয়েছে।"আখতারুজ্জামান ইলিয়াস লিখেছেন, ওঙ্কারে "ছফার কোন চরিত্রই শুধু একটি ব্যক্তি নয়, বহু কালের বহু মানুষের বহন করার শক্তি দিয়েই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।"[৫৬] ইলিয়াস আরো বলেন, একটি জনগোষ্ঠী থেকে পরিপূর্ণ একটি জাতিতে পরিণত হওয়ার সংকল্প ঘোষিত হয়েছে ওঙ্কারে।


একজন আলী কেনানের উত্থান-পতনে (১৯৮৮) ছফা বাংলাদেশের মাজার সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে আলী কেনান নামের মূল চরিত্রের উত্থান ও পতন উপস্থাপন করেছেন। পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান থেকে শুরু শেখ মুজিবের শাসনামল পর্যন্ত রাজনীতির উত্থান পতন আলী কেনানের উত্থান পতনের সমান্তরালে প্রতিবিম্বিত হয়েছে। সলিমুল্লাহ খান আলী কেনানকে শেখ মুজিবুর রহমানের রূপক মনে করেন।


মরণবিলাসে (১৯৮৯) চিত্রায়িত হয়েছে মৃত্যুশয্যায় এক মন্ত্রী যে তার রাজনৈতিক অনুসারী মাওলা বক্সের কাছে তার সারা জীবনে কৃত অপকর্মের বর্ণনা দেয়। মন্ত্রীর অপকর্মগুলো খুন, ব্যভিচার, ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘিরে আবর্তিত হয়।


অলাতচক্র (১৯৯৩) প্রেম ও মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের গতি-প্রকৃতি, তার নানা পর্যায়, সবলতা ও দুর্বলতাগুলোসহ কোটি নিরাশ্রয় মানুষের আকুতি, বেদনা ও স্বজন হারানোর শোক শাশ্বতরূপ পেয়েছে উপন্যাসটিতে। সেই সঙ্গে ব্যক্তি মানুষের ক্ষুদ্রতা, স্বার্থপরতা, প্রেমাবেগ এবং দ্বন্দ্বের বিষয়টিও লেখক শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেছেন নানা ঘটনা ও চরিত্রের মধ্য দিয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির গোপন-রহস্য, শৌর্য মৃত্যু ও কপটতার তথা ব্যক্তিগত প্রেমের গীতিকা এই উপন্যাস। যুদ্ধের পটভূমিতে লেখা এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো সবাই রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মানুষ।


গাভী বিত্তান্ত (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, উপন্যাসের ভাষায়, 'দেশের সবচাইতে প্রাচীন এবং সম্ভ্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়' এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত উপাচার্য মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে আবু জুনায়েদের আরোহন এবং এর আগে ও পরে শিক্ষক রাজনীতিকে ঘিরে ঘটনাচক্র উপন্যাসটির বিষয়বস্তু।


পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬) একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। জাপানী ভাষায় পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ উপন্যাসের অনুবাদ প্রকাশ পায় ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে ।পুষ্প, বৃক্ষ, বিহঙ্গ ঘুরে সুশীল সমাজের ব্যবচ্ছেদ হয়েছে তাঁর এই উপন্যাসে।


অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬) উপন্যাসটি ছফার ব্যক্তিগত প্রেমকে উপজীব্য করে রচিত। অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী পূর্বে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রাণপূর্ণিমার চান নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ছফাঅর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরীকে তাঁর প্রেমের সৌধ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন।


কাব্য সাহিত্য ও অন্যান্য

ছফা চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। ছফা জার্মান সাহিত্যিক গ্যোতের ফাউস্ট অনুবাদ শুরু করেন ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে। মুক্তধারা থেকে ফাউস্টের অনুবাদ বের হয় ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে । বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ও সমসাময়িক কালের বিশিষ্ট পণ্ডিত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের প্রসঙ্গে রচিত স্মৃতিচারণগ্রন্থ যদ্যপি আমার গুরু প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে।


প্রভাব ও উত্তরাধিকার

বাংলা ভাষার একজন শ্রেষ্ঠ প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক বলে বিবেচিত আহমদ ছফা ছিলেন 'সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠ এবং আদর্শনিষ্ঠ ও প্রগতিপন্থি একজন সংস্কৃতিকর্মী।' 'ছফার লেখালেখিতে, তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় বর্তমানময়তা আছে, আছে ইতিহাসের পরিচ্ছন্নতা। তৃতীয় উপাদান গণমানুষের প্রতি অঙ্গীকার, এবং তা রাজনৈতিক অর্থে। ছফার আরও ছিল সাহস। তাঁর ক্ষেত্রে এ সাহস এসেছে ইতিহাসবোধ থেকে, অঙ্গীকার থেকে।' জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের মতে, ছফার রচনাবলি গুপ্তধনের খনি এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম স্বকীয় এক জগতের সৃষ্টি করে যে জগতে যেকোন পাঠক হারিয়ে যেতে পারে। হুমায়ূন আহমদ আহমদ ছফাকে 'অসম্ভব শক্তিধর একজন লেখক' বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁকে নিজের মেন্টর বলে উল্লেখ করেছেন। মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতে, আহমদ ছফা 'চুলের ডগা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত' 'একশ ভাগ খাঁটি সাহিত্যিক।ইকবাল আরো লিখেছেন, 'আমাদের বড় সৌভাগ্য তাঁর মতো একজন প্রতিভাবান মানুষের জন্ম হয়েছিল।' আহমদ ছফা সম্পর্কে ফরহাদ মজহার বলেছেন 'সে [ছফা] গাছবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা অতি সাধারণ একটি গ্রামের ছেলে। কিন্তু সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিন্তা ও রাজনীতির জগতে সে যে উথালপাথাল ধাক্কা দিয়ে গেল তার ফলে বাংলাদেশের সাহিত্য বলি, সংস্কৃতি বলি, রাজনীতি বলি, বৈপ্লবিক কর্মকান্ড বলি তার সঙ্গে খোদ একটা বোঝাপড়া না করে কোনো ক্ষেত্রেই অগ্রসর হওয়া যাবে না।' আহমদ শরীফ বলেছিলেন "সুবিধাবাদীর 'Life is a compromise' তত্ত্বে ছফার আস্থা নেই। আজকের বাংলাদেশে এমনি স্পষ্ট ও অপ্রিয়ভাষী আরো কয়েকজন ছফা যদি আমরা পেতাম, তাহলে শ্রেয়তর পথ স্পষ্ট হয়ে উঠত।"সলিমুল্লাহ খান তাঁকে একজন দ্রষ্টা, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, বিশ্বের সেরা কাহিনী-কথকদের একজন,ও বাংলা ভাষার মহান কথাসাহিত্যিক বলেছেন। খান মনে করেন ছফা কাজী নজরুল ইসলামের উত্তরাধিকারী। সরদার ফজলুল করিম বলেছিলেন, ছফা কেবল পাঠ করার বিষয় নয়, চর্চা করার বিষয়।"আহমদ ছফা : প্রথার বাইরের মানুষ" নামের এক নিবন্ধে রাশেদ খান মেনন লিখেছেন, 'বাংলাদেশের সাহিত্য, বাংলাদেশের মননজগৎ ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল [ছফাকে] হারিয়ে অনেকখানি রিক্ত হয়ে পড়েছে।' রশীদ করীম লিখেছেন, আহমদ ছফার এক একটি শব্দ শিলাখণ্ডের মতন কঠিন, আপাত-উদাসীন নির্মম অথচ তারই অন্তরে গভীর বেদনা ভালোবাসা কী পরিমাণ তার কোন সীমা নেই।ছফার উপন্যাস নিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস লিখেছেন 'ব্যক্তির মধ্যে ইতিহাসকে ও ইতিহাসে বর্তমান ব্যক্তিটিকে নিবিড় করে অনুভব করার তাগিদে পাঠক আহমদ ছফার অনুসন্ধানী অভিযানে শরিক হবেন।


ঢাকায় 'আহমদ ছফা রাষ্ট্রসভা' ও চট্টগ্রামে 'আহমদ ছফা কেন্দ্র' সভা, সেমিনারের মাধ্যমে আহমদ ছফার জীবন ও কর্মকে উদযাপন করে। ছফার অনেক গল্প, উপন্যাস মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। গাজী তানজিয়া প্রণীত কালের নায়ক (২০১৪) আহমদ ছফার জীবনভিত্তিক একটি উপন্যাস।


পুরস্কার

তিনি লেখক শিবির পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি কর্তৃক সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। তাকে ২০০২ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যে (মরণোত্তর) একুশে পদক প্রদান করা হয় ।


ব্যক্তিগত জীবন

আহমদ ছফা সারাজীবন অকৃতদার ছিলেন। তবে কয়েকজন নারীর সাথে তার প্রণয়সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন শামীম শিকদার ও সুরাইয়া খানম। এদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে ছফা অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬) আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রচনা করেছিলেন।


মৃত্যু

২০০১ খ্রিস্টাব্দের আটাশে জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে তার দাফন হয়।

পরবর্তী খবর পড়ুন : ভেসে যাওয়া স্বামী-সন্তানের মরদেহের প্রতীক্ষা


আরও পড়ুন

প্রিয়া সাহার বাসা-অফিসে পাওয়া গেলো না কাউকে

প্রিয়া সাহার বাসা-অফিসে পাওয়া গেলো না কাউকে

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বলছেন, এই ধরনের বক্তব্যের পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ ও ষড়যন্ত্র ...

গাজীপুরে ছেলেধরা সন্দেহে নারীসহ দুইজনকে গণপিটুনি

গাজীপুরে ছেলেধরা সন্দেহে নারীসহ দুইজনকে গণপিটুনি

গাজীপুরের চান্দিনা চৌরাস্তা ও কালিয়াকৈরের লতিফপুর এলাকা থেকে ছেলেধরা সন্দেহে ...

মিন্নির জামিনঃ বরগুনা যাচ্ছেন শতাধিক আইনজীবী

মিন্নির জামিনঃ বরগুনা যাচ্ছেন শতাধিক আইনজীবী

আজ শনিবার ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি থেকে শতাধিক আইনজীবীর একটি ...

‘পল্লীবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে থাকব’

‘পল্লীবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে থাকব’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, দেশের প্রতিটি দুর্যোগে ...

আওয়ামী লীগ জনআতঙ্কে ভুগছে: ফখরুল

আওয়ামী লীগ জনআতঙ্কে ভুগছে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী ...

'প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনা হবে'

'প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনা হবে'

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে ...

শ্রীলঙ্কা সিরিজটি চ্যালেঞ্জিং হবে : তামিম

শ্রীলঙ্কা সিরিজটি চ্যালেঞ্জিং হবে : তামিম

আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে ...

ট্রাম্পকে দেয়া প্রিয়া সাহার তথ্য অসত্যঃওবায়দুল কাদের

ট্রাম্পকে দেয়া প্রিয়া সাহার তথ্য অসত্যঃওবায়দুল কাদের

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী ...