টঙ্ক আন্দোলনের সংগ্রামী মুখ সর্বশেষ জীবিত কিংবদন্তী কুমুদিনী হাজং

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

কুমুদিনী হাজং, এক বিপ্লবী অগ্নী নারীর নাম। টঙ্ক আন্দোলনের সংগ্রামী মুখ সর্বশেষ জীবিত কিংবদন্তী কুমুদিনী হাজং।বৃটিশ  শাসনামলের শেষ সময়ে কৃষকদের গড়ে তোলা কয়েকটি বড় আন্দোলনের একটি হলো টঙ্ক আন্দোলন। যা সারা ভারতবর্ষকে নাড়া দিয়েছিলো।

এই আন্দোলনটি সংঘটিত করেন, কমিউনিস্ট নেতা কমেরড মণিসিংহ । কুমুদিনী হাজংরা পারিবারিকভাবেই  যুগযুগ ধরে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। কুমুদিনী হাজংয়ের পিতা অতিথ চন্দ্র রায় হাজং ঐতিহাসিক ‘হাতিখেদা বিদ্রোহে’ যুক্ত ছিলেন।

জমিদারদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হাজংরা কমেরড মণিসিংহের নেতৃত্বে গড়ে তোলে টঙ্ক আন্দোলন। অতিরিক্ত খাজনার নামে ফসল লুটণ্ঠ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে কুমুদিনী হাজং এর স্বামী লংকেশ্বর হাজং ও তাঁর তিন ভাই টঙ্ক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তারা বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম করায়, জমিদার ও ব্রিটিশ পুলিশের রোষানলে পড়েন।

১৯৪৬ সালের ৩১ জানুয়ারি কুমুদিনী হাজংকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। তাকে বাঁচাতে গিয়েই প্রাণ দেয় এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাসিমণি হাজং ও সুরেন্দ্র হাজং।

ব্রিটিশদের পতনের পর ১৯৫০ সালে টঙ্ক প্রথা বিলুপ্ত হলেও হাজংদের উপর চলে অন্য মাত্রায় অত্যাচার। পাকিস্তান শাসকরা চক্রান্ত করে ভূমিহারা করেন এই হাজংদের।

এ ঘটনার পরপরই আত্ম গোপনে চলে যায় কুমুদিনী হাজং। তখন ছদ্মনাম হয় স্বরস্বতী। মামলা হুলিয়া মাথায় নিয়ে গোপনে গোপনে তিনি টঙ্ক আন্দোলন সংগঠিত করতে কাজ করে গেছেন মাঠ পর্যায়ে। সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনকারীদের মধ্যে একমাত্র তিনিই বেঁচে আছেন ।

তবে এখন বয়সের ভারে অনেকটাই কাবু হয়ে পড়েছেন, শ্রবণ শক্তি, স্মৃতিশক্তি হারিয়ে চিনতে পারছেন না কাউকে, মনে করতে পারছেন না অতীতের কোন স্মৃতি।

মাত্র দু বছর বয়েস বাবা-মা হারিয়ে মামার কাছে বড় হয় কুমুদিনী হাজং । ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয় লংকেশ্বর হাজংয়ের সাথে। কুমুদিনী হাজংগের তিন ছেলে দুই মেয়ে, মেঝো ছেলে অর্জুন হাজংগের সাথেই বসবাস করেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি পাননি টঙ্ক আন্দোলনের সংগ্রামী মুখ সর্বশেষ জীবিত কিংবদন্তী কুমুদিনী হাজং।