বেহুলা কখনো বিধবা হয়না এটা বাংলার রীতি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০১৯     আপডেট: ২৮ জুন ২০১৯ |

অজয় দাসগুপ্ত

এখন এটা সহ্য ক্ষমতার আওতায়। রাজধানীর রাজপথে হতে পারলে মফস্বলে ট্রায়াল দিতে অসুবিধা কোথায়?

যে লোকগুলো ভিডিও করলো, তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলো তারা একবারও দেখলো না লড়াকু মেয়েটির সাহস। একা এই মেয়ে তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছে, বেহুলা কখনো বিধবা হয়না এটা বাংলার রীতি।

কিন্তু আমরা তাকে বিধবা হতে দিয়েছি।

যেমন আমরা বিশ্বজিৎের পরিবারকে এতিম হতে দিয়েছি।

সময় কি এই নৃশংসতা এই হত্যা এই ভয়াবহতা ভুলে যাবে? এমন সিনেমাটিক হত্যাকান্ড সমাজ ও রাষ্ট্রের শূন্যগর্ভ দম্ভের প্রতিচ্ছবি। 

বাঙালি কি শোক ভুলে গেছে? ভুলে গেছে জীবন? রক্ত কি এখন শুধু ই লাল পানির কোন স্রোত?

প্রসঙ্গত, রিফাতকে হত্যা করার সময় অন্যদের সাহায্য চেয়েও পাননি স্ত্রী আয়েশা আকতার মিন্নি। খুনিদের দুই হাতে জাপটে ধরেছেন। ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তারপরও বাঁচাতে পারেননি স্বামীকে। 

মিন্নি জানিয়েছেন তখনকার সে নৃশংস ঘটনা। তিনি জানান, আমার স্বামী আমাকে কলেজ থেকে নিয়ে ফেরার সময় নয়ন বন্ড ও রিশান ফরাজী সহ কয়েকজন হামলা চালায়। আমি অস্ত্রের মুখে পড়েও বাঁচানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বাঁচাতে পারি নাই। আমার আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল। আমি চিৎকার করছি, সবাইকে বলছি - ওরে একটু বাঁচান। কিন্তু কেউ এসে আমারে একটু সাহায্যও করে নাই।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার সকালে, স্ত্রী মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে পৌছে দিতে গিয়েছিলেন রিফাত শরীফ। কলেজের গেট পার হতে না হতেই ১০ থেকে ১২ জনের একদল যুবক তাকে পথরোধ করে মারতে মারতে টেনে রাস্তায় নিয়ে আসে। এরপরই নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরায়েজী ধারালো দা দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এ সময়, রিফাতে স্ত্রী মিন্নি রিফাতকে বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।। কিন্ত, ততক্ষণে উপুর্যপরি কোপে মারাত্মকভাবে আহত হয় রিফাত।

পরে, গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু, তার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় সেখান থেকে তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া। সেখানেই রিফাত বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।