আসুন এঁর সাথে পরিচিত হইঃ পোড়ারমুখো সমাজ এঁদের পাত্তা দেয় না, চেনেও না

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০১৯     আপডেট: ২৮ জুন ২০১৯

অজয় দাসগুপ্ত

আসুন এঁর সাথে পরিচিত হই। আমি খুব ভালো জানি, পোড়ারমুখো সমাজ এঁদের পাত্তা দেয় না। চেনেও না।

আমার মেজ দি তার চাকুরী জীবনের শুরু করেছিল প্রর্বত্তক স্কুলে। সে সুবাদে মরা সেখানে যেতাম সপ্তায় একবার। অথচ তা ছিলো হাঁটার দূরত্বে। এই ভদ্রমহিলা তখন সেখানে কাজ করতেন।

চট্টগ্রামের খ্যাতনামা স্কুল ডাঃ খাস্তগীর স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচ, এস, সি ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন তিনি। তখনকার সময়ে ইচ্ছে করলে যে কোন কিছু করেই জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু সবাই যদি সরলরৈখিক জীবন কাটায় তো সমাজ দেশ লোকিত হবে কি করে? কে দেখাবে পথ? কারা হবেন দিশারী?

মুক্তিযুদ্ধে আগরতলা গিয়ে সেবার কাজে নিবেদন করেন নিজেকে। হয়ে ওঠেন সেবিকা মুক্তিযোদ্ধা।

ফিরে এসে আজীবন পুষে রাখা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে নোয়াখালীর গান্ধি আশ্রমে যোগ দেন। এই আশ্রম নোয়াখালীতে কেন? দেশবিভাগের সময় সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গা হয় এখানে। বিচলিত গান্ধী নিজে এসেছিলেন দাঙ্গা থামাতে। তাঁর ভালোবাসা জানাতে। শোনা যায় গান্ধী ফিরে গেলেও তাঁর ছাগলটি না কি যেতে পারে নি। দুষ্ট লোকেরা তা রেখে দেয়। এখন হলে কি হতো? আমি বলি ছাগলটা ফিরে যেতো গান্ধী হয়তো যেতে পারতেন না আর।

সে ভয়াবহ বাস্তবতা মেনে নিয়ে নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রমের দায়িত্ব নিয়ে সমাজ সেবা করতেন ইনি। এমন এক পর্যায়ের ছিলেন যাঁকে একুশে পদক দিতে হয়েছে। ভারত দিয়েছে পদ্মশ্রী। 

গান্ধীকে মানুন আর না মানুন, পছন্দ করুন আর না করুন, তাঁর সাথে সত্যের সম্পর্ক গভীর। মনে ছে গদী টেকানোর জন্য জনরোষ এড়াতে এরশাদ দেশে পরিকল্পিত মন্দির ভাঙা আর সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়েছিলেন। নিজে সাধু সাজার জন্য পরের দিন চলে গিয়েছিলেন নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রমে। উদ্দেশ্য হয়তো ভারতকে খুশী রাখা মানুষকে বোকা বানানো। সম্ভবত সেটাই ছিলো তাঁর শেষ সফর। গান্ধী আশ্রমের সাথে কপটতা টেকে নি।

এই আশ্রমের প্রধান দেশহিতৈষী দিদি আজ পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন। যতদূর মনে পড়ে চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারের মোড়ে সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্তের বাসায় শেষ একবার দেখেছিলাম। অতি সাধারণ, নেহাৎ সাদামাটা পোশাকের এক নারী।কাজের মতো নামটাও কত অসাধারণ  ঝর্ণাধারা চৌধুরী।

রক্ত, আগুন, হতাশার ধোঁয়া ওঠা দেশও সমাজে ঝর্ণাধারার প্রয়াণ যতটা বিষাদের ততোটাই মন খারাপের।

আপনার আত্মার শান্তি কামনা করি দিদি।