ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলছে ভয়াবহ ভেজালঃ বিএসটিআই বলছে কোন সমস্যা নেই।

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০১৯

মাহবুব কবির মিলন

ফোনের পর ফোন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলছে ভয়াবহ ভেজাল। বিএসটিআই বলছে কোন সমস্যা নেই। আপনারা কি বলেন?

আমরা কি করব? কার কথা বিশ্বাস করব? খাব কি খাব না? সাংবাদিক এবং জনগণের জিজ্ঞাসা।

না, আমরা থার্ড আম্পায়ার নই যে ব্যালান্স করে বলব বা চলব।

যে কেউ ল্যাব পরীক্ষা করতে পারে, যে কেউ রিসার্চ করতে পারে।

আমরা আমাদের কাজ বা পরীক্ষা নিরীক্ষা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। ব্যাপক কাজ হাতে নিয়েছি আমরা। ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। সব কিছু ভাল বলে আমরা ঘুমিয়ে বা অবসরে নেই। সমস্যা আছে বলেই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছে।

সবাইকে বলব একটু ধৈর্য্য ধরুন। আমরা যারা সেখানে চাকুরি করছি তারাও ভোক্তা। আমাদের পরিবার বাচ্চা কাচ্চারাও খাচ্ছে এইসব খাবার। এই দেশের খাবার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কুলি মজুর, কৃষক সবাই এই খাবার, এই চাল ডাল, মশলা, দুধ রুটি আটা খাচ্ছেন।

একটি বিপর্যয় আসছে হয়ত সামনে। যা এতদিন কেউ চিন্তা করেনি বা পাত্তা দেয়নি। কিন্তু সামনে আর চলতে দেয়া যাবে না। এর জন্য যতটুকু দায়ী আমরা বা খাদ্য পণ্য উৎপাদকেরা, তার থেকে বেশি দায়ী আমাদের পরিবেশ এবং পরিস্থিতি।

হেভি মেটালের (সীসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম......) সমস্যার জন্য যদি সত্যিই কাউকে দায়ী করতে হয় তবে লক্ষ লক্ষ অজ্ঞাতনামাকে আসামী করতে হবে। একটি ফুড চেইনের রুট বের করে তা দূর করা ভয়াবহ জটিল এবং অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

একটি দেশ থেকে ভেজাল দূর করতে বা ফুড সেফটি অথোরিটিকে সফল করতে যুগ যুগ লাগে। আমরা কেবল শুরু করেছি মাত্র।

আমি আবার বলছি প্রস্তুত থাকুন সবাই। আমাদের সবাইকে হাতে হাত রেখে জাতীয়ভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। শিল্প ধ্বংস হলে ক্ষতি হবে আমাদের, অন্য কারো নয়।

অতীতে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। অতীতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা চলব সামনের দিকে, আলোকিত পথের দিকে।

আশা করি সব খাদ্য পণ্য উৎপাদনকারী, প্রস্তুতকারক এবং আমদানীকারকদের সাহায্য পাব আমরা। তারা তাঁদের অস্তিত্বের জন্যই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে। আসতে বাধ্য। তা নাহলে খাদ্য শিল্পের ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে এই দেশে।