• যে কারণে সেরাদের সেরা নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন!

    যে কারণে সেরাদের সেরা নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন!

  • পাপ : ওসিকে আসামি হিসাবে ওসির কাছে হস্তান্তর

    পাপ : ওসিকে আসামি হিসাবে ওসির কাছে হস্তান্তর

  • বিশ্ব বাবা দিবস  এবং  কিছু  কথা

    বিশ্ব বাবা দিবস এবং কিছু কথা

  • সরকারি নার্সদের ছুটির পেছনে লেনদেন!

    সরকারি নার্সদের ছুটির পেছনে লেনদেন!

  • রুগীর মৃতদেহ আটকে রাখার অধিকার ডাক্তারবাবুরা কোথায় পেলেন?

    রুগীর মৃতদেহ আটকে রাখার অধিকার ডাক্তারবাবুরা কোথায় পেলেন?

আমার ছেলে একদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে- মা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ৩৯ বছর পর এলাকায় ফিরে মা ও জন্মভূমির ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন। মা আর বাড়িতে থাকা স্বজন ও বন্ধুদের ভালোবাসার টানে এত দীর্ঘ সময় পর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের সরারচর গ্রামের বাড়িতে এসেছেন তিনি। দেশে ফেরার পর গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ি এসে পৌঁছান চন্দন। তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় পর ছেলেকে কাছে পেয়ে কিছুতেই আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না মমতাময়ী মা সৈয়দা হাজেরা খাতুন (৯৩)। সন্তানকে দেখে যেন সাধ মিটছিল না তার। ছোট্ট খোকার মতো বারবার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিচ্ছিলেন। আর মায়ের আদরভরা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সিনেটর ছেলের দুই চোখ দিয়ে ঝরছিল আনন্দাশ্রু। মা-ছেলের এমন ভালোবাসার দৃশ্য দেখে সেখানে চন্দনকে দেখতে আসা উপস্থিত সবার চোখ ভিজে যায়।


চন্দনের মা হাজেরা খাতুন যেন এখন স্বর্গসুখে ভাসছেন। কী খাওয়াবেন ছেলেকে, কোথায় ঘুমাতে দেবেন তাকে, কী দেখাবেন তার খোকাকে এ নিয়ে তার দিশেহারা অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর মুজাহিদুর রহমান চন্দন। গত নভেম্বরে তিনি সিনেটর নির্বাচিত হন। সরারচরের বাড়িতে আরেক সন্তান শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের সঙ্গে বসবাস করেন হাজেরা খাতুন।


গতকাল বৃহস্পতিবার হাজেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি মনে করি আমার ছেলে একদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে। হয়তো সেদিন আমি থাকব না, তবে তোমরা তা একদিন দেখতে পারবে।’


আনন্দাশ্রু চোখে নিয়ে এই মা আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল আমার ছেলেমেয়েরা একদিন দেশ-বিদেশে সুনাম বয়ে আনবে। বড় ছেলে চন্দন সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় আমি সুখের স্বর্গ পেয়েছি।’ এ কথা বলেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বারবার চুমু খেতে থাকেন হাজেরা খাতুন।


এদিকে দীর্ঘদিন পর মাকে কাছে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সিনেটর চন্দনও। তিনি বলেন, ‘মায়ের দোয়া ও ভালোবাসা আমার পাশে আছে বলেই আজ আমি মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছি। আর এই গর্ভধারিণী মাকে দেখতে এবং কাছে পেতেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখানে ছুটে আসা। ছয় বছর আগে একবার দেশে এসেছিলাম। সেবার মার সঙ্গে দেখা হয়নি। তাই এবারের আসাটা একেবারেই ভিন্ন। প্রায় ৩৯ বছর পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘসময় বাড়িতে সব ভাইবোনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হলো।’


চন্দনের সঙ্গে যখন এই প্রতিবেদকের কথা হয় তখন তার পাশে ছিলেন বড় বোন তাহেরা হক, ছোট ভাই ব্যবসায়ী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং ছোট বোন মুক্তিযোদ্ধা তাহমিনা আক্তার সামিয়া, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী নাদিরা রহমান ও নাহিদা আক্তার।


পরিবারের সদস্যরা জানান, কিশোরগঞ্জের সন্তান চন্দন ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপর তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া থেকে এমবিএ করেন। চন্দন গত বছর ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে জাতীয় কমিটিতে প্রথম বাংলাদেশি কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। মূলধারার রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। গত বছর ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-ফাইভ থেকে লড়েছিলেন। বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধরাশায়ী করেন।


রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে চন্দন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি কিংবা দক্ষিণ এশিয়ান অথবা মুসলমান এমন পরিচয় উপস্থাপন করলে কখনই নির্বাচিত হতে পারতাম না। কারণ আমার এলাকার ভোটারের সিংহভাগই এসব অঞ্চল বা ধর্মের নন। সেজন্য আমাকে ওইসব ধর্মবিশ্বাসীর যাবতীয় কাজে পাশে থাকতে হয়েছে। গির্জা, সিনেগগ ও চার্চে গেছি। তারা যেকোনো অনুষ্ঠান করলে সেখানেই যাতায়াত করেছি। তাদের যেকোনো সমস্যাকে নিজের বিবেচনায় নিয়েছি। এভাবে তাদের মন জয় করেছি বলেই নির্বাচনে আমি জয়ী হতে পেরেছি।’


নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু বাঙালি হয়ে থাকলে চলবে না। বাঙালিত্ব হৃদয়ে ধারণ করেই আমেরিকান হতে হবে। কারণ এটি তো বাংলাদেশ নয়। বহুজাতিক সমাজের সঙ্গে মিশে যেতে পারলেই জননেতা হওয়া সম্ভব। আর যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে ভাগ্য গড়ার উর্বর একটি ভূমি। স্বপ্নপূরণের উদাহরণ প্রতিনিয়ত সেখানে তৈরি হচ্ছে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অকৃপণভাবে কাজ করতে পারলেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।’


এদিকে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় গত বুধবার সন্ধ্যায় বাজিতপুরের সরারচর এলাকায় তার নিজের বাড়িতে চন্দনকে সংবর্ধনা দেয় এলাকাবাসী। ওই অনুষ্ঠানে চন্দন বলেন, ‘ছোটবেলায় এ মাটিতে খেলাধুলা করে এলাকাবাসীর চোখের সামনেই আপনাদের আদর ও ভালোবাসা পেয়েই বড় হয়েছি। তাই এলাকাবাসীর এ ঋণ কোনোদিনই শোধ করতে পারব না।’

পরবর্তী খবর পড়ুন : ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারদের মারা যাওয়ার পক্ষে ভোট, কিশোরীর আত্মহত্যা!


আরও পড়ুন

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলো ইংল্যান্ড

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলো ইংল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংল্যান্ড-আফগানিস্তানের দেখা হয় না বললেই চলে। এখন পর্যন্ত ...

বিশ্বকাপ খেলায় মাশরাফিকে গালাগালি

বিশ্বকাপ খেলায় মাশরাফিকে গালাগালি

বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমকে গালাগালি করা এক শ্রেণীর তথাকথিত বাংলাদেশী মানুষের ...

লোহার খনি আবিষ্কারঃ আজ মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন জিএসবি

লোহার খনি আবিষ্কারঃ আজ মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন জিএসবি

দেশে এই প্রথমবারের মতো উন্নত মানের লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি ...

খালেদা জিয়ার জামিন প্রমাণ করে বিচারবিভাগ স্বাধীন: কাদের

খালেদা জিয়ার জামিন প্রমাণ করে বিচারবিভাগ স্বাধীন: কাদের

বিচারবিভাগ যে স্বাধীন তা মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা ...

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন

মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা ...

নড়াইলে বিকাশ এজেন্ট চন্ডি ঘোষকে কুপিয়ে লাখ টাকা ছিনতাই!

নড়াইলে বিকাশ এজেন্ট চন্ডি ঘোষকে কুপিয়ে লাখ টাকা ছিনতাই!

নড়াইলের মহাজন সোনালী ব্যাংক বাজার শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করে ...

অন্যায় অনুযায়ী ওসি মোয়াজ্জেমের যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হয়েছে

অন্যায় অনুযায়ী ওসি মোয়াজ্জেমের যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হয়েছে

গ্রেপ্তার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের অন্যায় অনুযায়ী ...

মহব্বত বাহিনীর অত্যাচারে দেশ ছেড়েছে  ৪০ হিন্দু পরিবারের, দেশ ছাড়ার পথে ৫০ পরিবার

মহব্বত বাহিনীর অত্যাচারে দেশ ছেড়েছে ৪০ হিন্দু পরিবারের, দেশ ছাড়ার পথে ৫০ পরিবার

আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ কাদাকাটি গ্রামের মামলাবাজ মহব্বত আলী সরদার ও ...