• পর্যটন বিকাশে বিদেশে মেলা, আসছে নতুন নীতিমালা

    পর্যটন বিকাশে বিদেশে মেলা, আসছে নতুন নীতিমালা

  • মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য ক্যাসিনোতে

    মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য ক্যাসিনোতে

  • ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির ৭২ জনের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ

    ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির ৭২ জনের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ

  • চালু হলো ফেসবুকের বিকল্প বাংলাদেশিদের ‘হার্টসবুক’

    চালু হলো ফেসবুকের বিকল্প বাংলাদেশিদের ‘হার্টসবুক’

  • ওরা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপঃ প্রধানমন্ত্রী

    ওরা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপঃ প্রধানমন্ত্রী

আমার ছেলে একদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে- মা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ৩৯ বছর পর এলাকায় ফিরে মা ও জন্মভূমির ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন। মা আর বাড়িতে থাকা স্বজন ও বন্ধুদের ভালোবাসার টানে এত দীর্ঘ সময় পর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের সরারচর গ্রামের বাড়িতে এসেছেন তিনি। দেশে ফেরার পর গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ি এসে পৌঁছান চন্দন। তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় পর ছেলেকে কাছে পেয়ে কিছুতেই আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না মমতাময়ী মা সৈয়দা হাজেরা খাতুন (৯৩)। সন্তানকে দেখে যেন সাধ মিটছিল না তার। ছোট্ট খোকার মতো বারবার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিচ্ছিলেন। আর মায়ের আদরভরা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সিনেটর ছেলের দুই চোখ দিয়ে ঝরছিল আনন্দাশ্রু। মা-ছেলের এমন ভালোবাসার দৃশ্য দেখে সেখানে চন্দনকে দেখতে আসা উপস্থিত সবার চোখ ভিজে যায়।


চন্দনের মা হাজেরা খাতুন যেন এখন স্বর্গসুখে ভাসছেন। কী খাওয়াবেন ছেলেকে, কোথায় ঘুমাতে দেবেন তাকে, কী দেখাবেন তার খোকাকে এ নিয়ে তার দিশেহারা অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর মুজাহিদুর রহমান চন্দন। গত নভেম্বরে তিনি সিনেটর নির্বাচিত হন। সরারচরের বাড়িতে আরেক সন্তান শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের সঙ্গে বসবাস করেন হাজেরা খাতুন।


গতকাল বৃহস্পতিবার হাজেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি মনে করি আমার ছেলে একদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে। হয়তো সেদিন আমি থাকব না, তবে তোমরা তা একদিন দেখতে পারবে।’


আনন্দাশ্রু চোখে নিয়ে এই মা আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল আমার ছেলেমেয়েরা একদিন দেশ-বিদেশে সুনাম বয়ে আনবে। বড় ছেলে চন্দন সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় আমি সুখের স্বর্গ পেয়েছি।’ এ কথা বলেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বারবার চুমু খেতে থাকেন হাজেরা খাতুন।


এদিকে দীর্ঘদিন পর মাকে কাছে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সিনেটর চন্দনও। তিনি বলেন, ‘মায়ের দোয়া ও ভালোবাসা আমার পাশে আছে বলেই আজ আমি মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছি। আর এই গর্ভধারিণী মাকে দেখতে এবং কাছে পেতেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখানে ছুটে আসা। ছয় বছর আগে একবার দেশে এসেছিলাম। সেবার মার সঙ্গে দেখা হয়নি। তাই এবারের আসাটা একেবারেই ভিন্ন। প্রায় ৩৯ বছর পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘসময় বাড়িতে সব ভাইবোনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হলো।’


চন্দনের সঙ্গে যখন এই প্রতিবেদকের কথা হয় তখন তার পাশে ছিলেন বড় বোন তাহেরা হক, ছোট ভাই ব্যবসায়ী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং ছোট বোন মুক্তিযোদ্ধা তাহমিনা আক্তার সামিয়া, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী নাদিরা রহমান ও নাহিদা আক্তার।


পরিবারের সদস্যরা জানান, কিশোরগঞ্জের সন্তান চন্দন ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপর তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া থেকে এমবিএ করেন। চন্দন গত বছর ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে জাতীয় কমিটিতে প্রথম বাংলাদেশি কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। মূলধারার রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। গত বছর ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-ফাইভ থেকে লড়েছিলেন। বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধরাশায়ী করেন।


রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে চন্দন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি কিংবা দক্ষিণ এশিয়ান অথবা মুসলমান এমন পরিচয় উপস্থাপন করলে কখনই নির্বাচিত হতে পারতাম না। কারণ আমার এলাকার ভোটারের সিংহভাগই এসব অঞ্চল বা ধর্মের নন। সেজন্য আমাকে ওইসব ধর্মবিশ্বাসীর যাবতীয় কাজে পাশে থাকতে হয়েছে। গির্জা, সিনেগগ ও চার্চে গেছি। তারা যেকোনো অনুষ্ঠান করলে সেখানেই যাতায়াত করেছি। তাদের যেকোনো সমস্যাকে নিজের বিবেচনায় নিয়েছি। এভাবে তাদের মন জয় করেছি বলেই নির্বাচনে আমি জয়ী হতে পেরেছি।’


নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু বাঙালি হয়ে থাকলে চলবে না। বাঙালিত্ব হৃদয়ে ধারণ করেই আমেরিকান হতে হবে। কারণ এটি তো বাংলাদেশ নয়। বহুজাতিক সমাজের সঙ্গে মিশে যেতে পারলেই জননেতা হওয়া সম্ভব। আর যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে ভাগ্য গড়ার উর্বর একটি ভূমি। স্বপ্নপূরণের উদাহরণ প্রতিনিয়ত সেখানে তৈরি হচ্ছে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অকৃপণভাবে কাজ করতে পারলেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।’


এদিকে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় গত বুধবার সন্ধ্যায় বাজিতপুরের সরারচর এলাকায় তার নিজের বাড়িতে চন্দনকে সংবর্ধনা দেয় এলাকাবাসী। ওই অনুষ্ঠানে চন্দন বলেন, ‘ছোটবেলায় এ মাটিতে খেলাধুলা করে এলাকাবাসীর চোখের সামনেই আপনাদের আদর ও ভালোবাসা পেয়েই বড় হয়েছি। তাই এলাকাবাসীর এ ঋণ কোনোদিনই শোধ করতে পারব না।’

পরবর্তী খবর পড়ুন : ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারদের মারা যাওয়ার পক্ষে ভোট, কিশোরীর আত্মহত্যা!


আরও পড়ুন

হোয়াইট হাউজের কাছে গোলাগুলিতে একজন নিহত, আহত ৫

হোয়াইট হাউজের কাছে গোলাগুলিতে একজন নিহত, আহত ৫

এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দপ্তর ও বাসভবন হোয়াইট হাউজের কাছে ...

দুই লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের আট নাগরিক আটক

দুই লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের আট নাগরিক আটক

কক্সবাজারের টেকনাফের অদূরে সেন্ট মার্টিন্সের গভীর সমুদ্রে দুই লাখ পিস ...

শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে শুদ্ধি অভিযান

শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে শুদ্ধি অভিযান

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে ...

ফেসবুক ভেঙে দিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবে জাকারবার্গের জবাব

ফেসবুক ভেঙে দিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবে জাকারবার্গের জবাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ...

নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক-বিয়ে সবই স্বীকার মিন্নির

নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক-বিয়ে সবই স্বীকার মিন্নির

বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যায় মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে ...

ঢাকার ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের বিস্তার যে নেপালিদের হাত ধরে

ঢাকার ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের বিস্তার যে নেপালিদের হাত ধরে

ঝকঝকে আলোকচ্ছটায় রমরমা জুয়ার আড্ডায় প্রতিদিন উড়ত কোটি কোটি টাকা। ...

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইউনিট-২' এর ভর্তি পরীক্ষা শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইউনিট-২' এর ভর্তি পরীক্ষা শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তিযুদ্ধ শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তিযুদ্ধ শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের (বিজ্ঞান অনুষদ) ...