• ভালোবাসা দিবস হোক অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে সেতুবন্ধন

    ভালোবাসা দিবস হোক অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে সেতুবন্ধন

  • বনবিভাগের মালি  শত কোটি টাকার মালিক!

    বনবিভাগের মালি শত কোটি টাকার মালিক!

  • মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হওয়ার আলোচনা চলছে

    মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হওয়ার আলোচনা চলছে

  • যেভাবে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

    যেভাবে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

  • 'তবুও আপনি খাবেন না'

    'তবুও আপনি খাবেন না'

আমাদের শিশুরা কি হিরো আলম হয়ে যাবে?

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

রাজীব কুমার দাশ

হিরো আলম সাহেব ভাগ্যবান মানুষ। এ যাবত তাঁর অভিনীত কোন গানের কিংবা নাচের দৃশ্য দেখিনি।আসলে ব্যস্ততার কারণে কোনো নাটক, সিনেমা এমনকি ঠিকমতো নিজের আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজনদের সাথেও যোগাযোগ হয়না। হিরো আলমকে নিয়ে এখন বিভিন্ন পত্রিকায়, অনলাইনে, টিভি চ্যানেলে যেভাবে সংবাদ প্রকাশে একাট্টা হয়েছে, আলম আসলেই ভাগ্যবান বটে।

আমাদের দেশের বড়ো মাপের কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি, প্রথিতযশা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ডাক্তার, স্থপতি, শিক্ষকদের কোনো একটা বিশেষ দিনে কিছুটা ঢিলেঢালা মতে একপ্রকার দায়বদ্ধতায় সন্মান জানায়। টুকটাক কিছু বলে-টলে চা-নাস্তা খেয়ে, কিংবা বিরানী, খিচুড়ির ঢেঁকুর তুলে চলে আসে।আবার আগামী সময়ের প্রহর গোনে। 

কিন্তু  হিরো আলম এতোটাই ভাগ্যবান যে, প্রতিদিনই তাঁকে নিয়ে মাতামাতি, সাক্ষাতকার। এরই মধ্যে হিরো আলমের ভাস্কর্যও কমপ্লিট। তাঁর মোমের মূর্তিও একদিন লন্ডনের জাদুঘরে স্থান পাবে।

আমাদের পবিত্র সংবিধান, আইন পাশের বিষয়ে হিরোকে কেউ প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু ইচ্ছে করলেই কিছু কিছু মুকস্থ করা আর্টিকেল বলতে পারতেন। পারতেন এ কারণেই যে, মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। হিরো আলম জানেন, বোঝেন, পারেন- এ জাতীয় কিছু টুকটাক মিথ্যা প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারতেন। না হিরো আলম তা কিন্তু করেন নি। তিনি স্ব-মহিমায় থেকেছেন। আগের যে ডিশ আলম সেভাবেই আছেন।

এখন আসি, প্রখর মেধাবীদের কথায়---

জাপানে শিক্ষকতা পেশাকে মর্যাদায় শতভাগ উচ্চ শিখরে রাখা হয়। অন্যান্য দেশেও তা কোন অংশে মর্যাদায় কমতি নেই। বাংলাদেশেও জাতির বিবেক মহান শিক্ষকতা পেশাকে সবাই সম্মানের চোখে দেখি। এ মহান পেশায় কিন্তু একজনও হিরো আলম নেই। আমরা সবাই এঁনাদের নিকট হতে হাতেখড়ি নিয়েই শিক্ষাজীবনের শুরু করি। এঁনাদের নিকট হতে শেখা, গুরুজনে কর নতি, ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ, সর্বদা স্বীয় জিহ্বা শাসনে রাখিবে, মানীর অপমান বজ্রাঘাত তুল্য, অহংকার পতনের মূল, পিতা-মাতাকে সর্বদা সম্মান করিও। আমাদের নীতিবোধ, আদর্শ, বিবেক ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা এক কথায় শিক্ষাগুরুদের নিকট হতে পেয়েছি।

এক কথায়, মাতা-পিতার পরেই শিক্ষকদের মর্যাদা ও স্থান।

আমরা এঁনাদের কাছে কতোই না নিরাপদ!! আজ মিডিয়া ও পত্রিকান্তরে দেখতে পেলাম, মোবাইলে নকল করার দায়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর সামনে তার বাবাকে অপমান করায় ও টিসি দেবার সিদ্ধান্তে কোমলমতি মেয়েটি কষ্টের সীমাহীন অব্যক্ত যন্ত্রণা সইতে না পেরে, চলে গেলেন পরপারে-----

না অরিত্রী আর ফিরবেনা, কাঁদবেনা, শিক্ষকদের পায়ে ধরবেনা, বাবাকে আর কোনোদিন অপমানিত হতে দেবেনা। সহপাঠীদের সাথে দুষ্টুমি করবেনা, ফুচকা খাবার আবদার করবেনা।

অরিত্রীর স্থলে যদি, স্কুলের শিক্ষকদের কোনো সোনামনি হতো, টিচার কি করতেন???? পারতেন তাকে টিসি দিতে? আপনার আপন সন্তানই যদি হতো তাহলে কি পারতেন এতোটা নির্দয় হতে? আপনি কি পারতেন তাকে টিসি দিতে? না, লজিক বলে কোনোদিনই পারতেন না? অপমানের কথা বাদই দিলাম।

আপনারা সুশিক্ষিত বটে। স্ব-শিক্ষিত হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয় কি? আপনারা আমাদের মানবীয়তা শেখান, নীতিবাক্য আওড়ান, নীতিবাক্য আদর্শ কথায় প্রশ্ন করেন, লেখান, সিংহ ও বকের নীতিবাক্য শেখান, হারান ও পরান মাস্টারদের নীতিবাক্য নিয়ে বাক্য রচনা শেখান। একেবারে নতুন আঙ্গিকে বিবেক জাগ্রতকারী প্রশ্নবানে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নম্বর দেন?? আরো কতো কি? আপনাদের নতুন নতুন লেসনে ছাত্রছাত্রীদের ভয়ার্ত চাহনিতে নিজেদের কথিত কৃতিত্বের তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন? অভিভাবকদের সাথে চাকর-বাকরের মতো ব্যবহার করেন? বেচারা অভিভাবকেরা সন্তানদের সাথে আপনাদের একরোখা ব্যবহারের পরেও সন্তানদের পড়াশোনার চিন্তা করে হাসিমুখে বলেন, স্যার আমার সন্তানকে একটু দেখবেন। শিক্ষকদের পরম শ্রদ্ধায় বৈষ্ণব বিনয়ের সাথে তুষ্ট করেন!! পাছে শিক্ষক মশাই যদি গোস্বা করে কিছু করেন???? (নামি দামি স্কুল কলেজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)

জানি আপনাদের যথাযথ শাস্তি হলেও অরিত্রি আর ফিরবেনা, তার অতৃপ্ত আত্মার বিলাপের কান্নাগুলো কেউ শোনবেনা। কিন্তু শোনতে পাবে, অরিত্রীর বাবা-মা। কারণ তাকে কতো স্নেহের পরশে কতো স্বপ্নের সমান উচ্চতা ঘিরে রচনা করেছিলো সাফল্যের স্বপ্নগাঁথা।

আজ বাংলাদেশের নামি দামি স্কুলগুলোর কথিত স্কুল কমিটির মনগড়া সিদ্ধান্ত, কমার্শিয়াল চিন্তা, চা-পানের আসর, শিক্ষকদের পাঠদান, তাঁদের অমার্জিত ব্যবহার, অপেশাদারি আচরণ, শিশুদের-ছাত্রছাত্রীদের প্রতি নিষ্ঠুর, কর্কশ-ভয়ার্ত আচরণের পাঠদান পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে।

আজ টিভি স্ক্রলে যখন কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা অরিত্রীদের বাবা-মায়ের বিলাপ শুনতে পায়, তারা কি স্বাভাবিকভাবে পাঠগ্রহণ করতে পারবে? তারা কি শিক্ষকদের ‘ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ’ নীতিবাক্যে বিশ্বাসী হবে??

জানিনা তারা কিভাবে নীতিবাক্য বিশ্বাস করবে? কারণ বাংলাদেশে বর্তমান শিশু আইনে মারাত্মক ফৌজদারী ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ও শিশুদের শাস্তির বদলে সংশোধন, তাৎক্ষণিক জামিনের ব্যবস্থা, আসামীর পরিবর্তে দোষী/প্রতিপক্ষ লিখতে হয়।বকাঝকা তো দুরের কথা? সেখানে কথিত নকলের জন্য???? সবার জানা।

আজ হিরো আলমদের কথাই সত্যি হলো। হিরো আলমের অহংকার নেই, সত্যি কথা বলে। চরম দারিদ্র্যের কারণে মিথ্যের নীতিবাক্য বিশ্বাস করতে হয়নি। ভণ্ডামি, মিথ্যের ফুলঝুড়ি উপহার দেননি, কাউকে উপহাস করেন নি, কাউকে খুন কিংবা প্রতারণা করেননি, তার কথার অপমানের ভীমরুলের বিষে কেউ আত্মহত্যা করেনি। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম শিক্ষাব্যবস্থা, কথিত চা মার্কা কমিটি, তথা শিক্ষকদের নীতিবিরুদ্ধতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে যদি একদিন সত্যিই পড়াশোনায় মনোযোগী না হয়ে একজন হিরো আলম হতে চায় কিনা, তা চিন্তার বিষয় নয়?

লেখক: ইন্সপেক্টর, বাংলাদেশ পুলিশ।

আরও পড়ুন

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯” ঘোষণা করেছে যার আওতায় ...

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অস্ত্র আর ...

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থীদের মামলা প্রসঙ্গে ...

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকের আদলে অভিন্ন পদ্ধতিতে উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ ...

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস তিন দিন পর কেন ...

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ...

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

গেল তিন দিনে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ...

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত ইসলামিকে বিলুপ্ত ঘোষণা ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান ...