• ভালোবাসা দিবস হোক অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে সেতুবন্ধন

    ভালোবাসা দিবস হোক অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে সেতুবন্ধন

  • বনবিভাগের মালি  শত কোটি টাকার মালিক!

    বনবিভাগের মালি শত কোটি টাকার মালিক!

  • মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হওয়ার আলোচনা চলছে

    মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হওয়ার আলোচনা চলছে

  • যেভাবে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

    যেভাবে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

  • 'তবুও আপনি খাবেন না'

    'তবুও আপনি খাবেন না'

লবিস্টের কাজ করছেন ড. কামাল

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

আনিস আলমগীর

বিএনপি দীর্ঘ দশ বছর কাঁদা মাটিতে আটকা পড়েছিল। ড. কামাল হোসেন হাতে ধরে কূলে তুলে নিলেন বিএনপিকে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ তাদের ফোনালাপে বিষয়টাকে যতই ছোট করে দেখাক না কেন–এ ব্যাপারে ড. কামালের অবদান তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার মতো নয়। অগ্রসরমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় বিএনপি যে অংশগ্রহণ করেছে তাতে ড. কামালের অনেক সহযোগিতা পেয়েছে তারা। পাকিস্তানের সময় জেনারেল আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে বড় বড় নেতারা একইভাবে ‘এনডিএফ’, ‘কপ’ ইত্যাদি গঠন করে জোরালো আন্দোলন করার চেষ্টা করেছিলেন। আইয়ুবের বিরুদ্ধে সফল হতে অনেক সময় নিয়েছিল।

ড. কামালও তার রাজনৈতিক পূর্বসূরিদের মতো এমন একটা পথে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাচ্ছেন। এটা তার সার্বভৌম অধিকার–তাতে বাধা দেবে কে? কিন্তু তিনি ভুল পথে অগ্রসর হয়ে সম্ভবত জাতিরই ক্ষতি করতে উদ্ধত হয়েছেন। তিনি জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফেরত দেওয়ার নামে নিজেকে সাধু দাবি করে চোরের বাড়ি পাহারায় লিপ্ত হয়েছেন। শিয়ালের কাছে মুরগি পাহারা দেওয়ার জন্য জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।


১৯৭৭ সালে ভারতের সর্বোদয় নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ, আদি কংগ্রেসের মোরারজি দেশাই, ক্রান্তি দলের চৌধুরী চরণ সিং, সমতা পার্টির জর্জ ফার্নান্দেজ, জনসংঘের অটল বিহারি বাজপেয়ীকে ইন্দিরা গান্ধী ও তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর একত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে একত্রিত করে ‘জনতা দল’-এর জন্ম দিয়েছিলেন। এবং নির্বাচনেও জিতেছিলেন তারা। যেসব নেতাদের নাম উল্লেখ করেছি তারা সবাই সৎ ব্যক্তি ছিলেন এবং প্রতিটি নেতাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত ছিলেন। সে কারণে সর্বোদয় নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু ড.কামাল নিজে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তার সঙ্গীদের কোন ‘যোগ্য’ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দিতে চাচ্ছেন?


ঐক্যফ্রন্ট করতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন শুরুতেই একটা ভুল করেছেন। তিনি ডা. বি. চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টকে তার সঙ্গে ধরে রাখতে পারেননি। যাদের রেখেছেন তারা বড়মাপের কেউ নন, বিএনপির আশীর্বাদ ছাড়া এদের কারও জামানত থাকবে না। অনেকের রয়েছে নানা ধরনের কুকর্মের বদনাম। বি. চৌধুরীর কথাবার্তা তেতো হলেও তা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী না। বিএনপির পরামর্শে তিনি বি. চৌধুরীকে বাদ দিয়ে নিজে বিএনপির সঙ্গে কোনও শর্ত ছাড়াই এক হয়েছেন। এতে সরকার পরিবর্তন হলে জাতিসমূহ বিপদে পড়ার সম্ভাবনা রয়ে গেলো।


আগামী নির্বাচনে বিএনপি একা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলে ড. কামালের ভূমিকা কী হবে? পার্লামেন্ট সদস্যরা বিএনপির, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির, মন্ত্রিসভা বিএনপির– এখানে ড. কামালের বলারইবা কী থাকবে? তিনি কি রাষ্ট্রপতি হবেন নাকি তার জন্য ন্যায়পাল পদ বানাবে বিএনপি? আর রাষ্ট্র পরিচালনায় এসব পদের কি কোনও গুরুত্ব অবশিষ্ট আছে বাংলাদেশে! কেমন গুরুত্ব তিনি পাবেন তার লক্ষণ তো এখনই স্পষ্ট। তাকে নেতা মেনে ঐক্যফ্রন্ট করেছে বিএনপি কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের সময় তাকে পাত্তা দেয়নি। স্কাইপে প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নিয়েছেন দণ্ডিত নেতা তারেক রহমান। বাস্তবতা হচ্ছে, তারেক রহমানের ইচ্ছার বাইরে বিএনপির কেউ প্রার্থী হতে পারবে না, ঐক্যফ্রন্টেরও না। তার সম্মতি ছাড়া ২০ দলেরও কেউ প্রার্থী হতে পারবে না। কারণ, এখন বিএনপি-জামায়াত আর ড. কামালের অনুসারী সবাই একাকার, সবার প্রতীক বিএনপির প্রতীক- ধানের শীষ।


এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ড. কামাল নির্বাচনও করছেন না, তিনি পার্লামেন্টেও থাকবেন না, তবে কেন তিনি বড় বড় কথা বলে মাঠে নামলেন? কেন তিনি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে চান? তারেক জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য? আমরা যতটুকু বুঝলাম গত ২/৩ মাসে তার রাজনৈতিক ভূমিকা সম্ভবত আমেরিকার লবিস্ট ফার্মের মতো। টাকার বিনিময়ে সার্ভিস প্রদান করা।


বলার অপেক্ষা রাখে না বিএনপি একা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলে পলাতক অবস্থা থেকে তারেক জিয়া বীরদর্পে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হবেন। সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠকের সময় এক সম্পাদক জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? তখন ড. কামাল বলেছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যাকে নেতা নির্বাচিত করে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তো তারেককে নেতা নির্বাচিত করবেন, ওনাকে নয়। ড. কামাল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় বিষয়টা আরও সুস্পষ্ট, আরও সুনির্দিষ্ট হয়ে গেলো।


তারেক জিয়ার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করি। তার এক জন্মদিনে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর উপাধিধারী ২১ জন শিক্ষক তাকে ‘মহান জননায়ক’ বলে উল্লেখ করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ড. কামালের মতো একজন খ্যাতিমান আইনজীবীকে তার ও তার দলের লবিস্টের ভূমিকা পালনের জন্য নিয়োগ দিতে পেরেছেন তারেক। তিনিও সুবোধ বালকের মতো তাই করছেন। জামায়াতকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন দেশে কোনও স্বাধীনতা বিরোধী নেই, জামায়াত বলতে এখন আর কিছু নেই। তিনি তার নেতাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার, নিকৃষ্ট রাজনীতি দেখেও চুপ মেরে আছেন। আমি অপেক্ষা করছি নির্বাচনি প্রচারণায় নেমে তিনি আর কী কী বলেন, করার বাকি কী রাখেন।

আরও পড়ুন

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯” ঘোষণা করেছে যার আওতায় ...

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অস্ত্র আর ...

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থীদের মামলা প্রসঙ্গে ...

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকের আদলে অভিন্ন পদ্ধতিতে উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ ...

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস তিন দিন পর কেন ...

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ...

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

গেল তিন দিনে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ...

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত ইসলামিকে বিলুপ্ত ঘোষণা ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান ...