• '৭১-এর ২৩ মার্চ : ফিরে দেখা

    '৭১-এর ২৩ মার্চ : ফিরে দেখা

  • ডাকসু নির্বাচন ও একটি রাজনৈতিক সমীক্ষা

    ডাকসু নির্বাচন ও একটি রাজনৈতিক সমীক্ষা

  • অনুস্মৃতি: বইয়ের বাজারে হাহাকার

    অনুস্মৃতি: বইয়ের বাজারে হাহাকার

  • রিকশাচালক অভাবের সংসার : ইয়াবার বড় নেটওয়ার্ক থেকে কোটিপতি বনে যান

    রিকশাচালক অভাবের সংসার : ইয়াবার বড় নেটওয়ার্ক থেকে কোটিপতি বনে যান

  • কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! দেখা করতে পারলেন না ফাতেমার হতভাগা  বাবা

    কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! দেখা করতে পারলেন না ফাতেমার হতভাগা বাবা

ইতিহাসের নির্মমতাঃ প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৮

ইসতিয়াক আহমেদ শালীন

সেদিন স্লোগান উঠেছিল ক্যান্টনমেন্টে, “সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, অফিসারের রক্ত চাই”। স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, “সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, হাবিলদারের উপর অফিসার নাই”। এ স্লোগানে ছিলনা কোন বিপ্লব, এ স্লোগান ছিল মুক্তিযোদ্ধা হত্যার আহবান। এ স্লোগান ছিলনা সংহতির, বরং তা ছিল সামরিকবাহিনীতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার জয়গান। এই স্লোগানের মধ্যদিয়ে রচিত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা হত্যার ইতিহাস। সেদিন হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সমরনায়ক মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীরউত্তমকে। হত্যাকা-ের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী কর্ণেল আবু তাহের মোহাম্মদ হায়দার বীরউত্তম ও কর্ণেল নাজমুল হুদা বীরবিক্রম। খালেদ মোশারররফ এবং এ. টি. এম হায়দার একই সাথে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন মহান ৭১ এর লিজেন্ডারি ক্র্যাকপ্লাটুনকে, সেই তাদের লাশই ৭৫ এর ৭ নভেম্বর পাশাপাশি ফেলে রাখা হয়েছিল অমর্যাদার সাথে খোলা ময়দানে। মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জীবনবাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তাদের স্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হয় ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫। 

৭ নভেম্বর বাংলাদেশে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়। স্বাধীনতা লাভের পর দিনে দিনে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। ৭১ এর পর সেনাবাহিনী যখন নতুন করে পুনর্গঠন করা হচ্ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের দুইবছরের জ্যেষ্ঠতা দিয়ে দেওয়া হয়। যা স্বভাবতই পায়নি পাকিস্তানফেরত অমুক্তিযোদ্ধা অফিসারগণ। ফলে তাদের ভেতর তৈরি হয় একধরণের ক্ষোভ। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টি করা হয় মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের দ্বন্দ্ব। অপরদিকে সেক্টর কমান্ডারদের ভেতর ক্ষমতার প্রতিযোগিতার সুযোগে সৃষ্টি হয় আরো কিছু বিশৃঙ্খলা। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ ভালভাবেই নিয়েছিল পাকিস্তানপ্রত্যাগত অফিসারগণ। তখনকার উপ-সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান এক্ষেত্রে উভয়পক্ষকেই উস্কানি দিয়ে হাতে রাখার চেষ্টা করতেন। ১৯৭৩ সালে আমেরিকায় থাকাকালীন সময়ে তিনি আই.এস.আই এবং সি.আই.এ এর সাথে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। এই কথা পরবর্তীতে প্রকাশ হলে তা তিনি স্বীকারও করে নেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত অফিসারবৃন্দ তার সাথে ২০ মার্চ, ১৯৭৫ দেখা করে এবং তাদের পরিকল্পনার কথা জানায়। তিনি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন এ ব্যাপারে। 

৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু অফিসার বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রতারণার পুরস্কার হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বেইমান খন্দকার মোশতাককে। নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বঙ্গভবন থেকে দেশের শাসনভার পরিচালিত হতে থাকে খুনী কর্ণেল-মেজরদের দ্বারা। কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে জেনারেল জিয়া ছিলেন নিস্ক্রিয়। 

খুনী অফিসারদের এই আস্ফালনে সামরিক বাহিনীতে তৈরি হয় গুমোট এক পরিবেশ। এমতাবস্থায় জেনারেল খালেদ মোশাররফ এই উগ্র অফিসারদের ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে এনে সামরিকবাহিনীতে শৃঙ্খলা আনা ও অবৈধ মোশতাক সরকার অপসারণের জন্য এক সামরিক অভ্যুত্থানের সূচনা ঘটান ৩ নভেম্বর। তিনি গৃহবন্দী করেন জেনারেল জিয়াকে। কিন্তু তার অগোচরেই জেলখানায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চারনেতাকে। তার রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পরও খালেদ মোশাররফ ক্ষমতালিপ্সু হয়ে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে উদ্যোগী হননি। বরং তিনি চেয়েছিলেন সাংবিধানিকভাবে বৈধ সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে। সেজন্য তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে নিযুক্ত করেন। 

ইতিমধ্যে সেনাছাউনিতে প্রতিবিপ্লব দানা গজিয়ে উঠেছে। যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন আরেক সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আবু তাহের। তিনি তার “বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা”কে সক্রিয় করে তুলেন। সেনাছাউনীগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে গুজবের লিফলেট। ভারতীয় জুজুর ভয় ও আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেখিয়ে “বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা” ও জিয়া অনুসারী সৈনিকেরা সৃষ্টি করে সেনা অসন্তোষ। অফিসারের রক্তপিপাসু হয়ে ওঠে তারা।

৭ নভেম্বর উত্তেজিত সৈনিকদের নিয়ে জিয়াকে মুক্ত করেন কর্ণেল তাহের। এর মাধ্যমে মূলত তিনি নিজেই তার নিজের কবর রচনা করেন। মুক্ত হয়েই জিয়া ২নং ফিল্ড আর্টিলারি ইউনিটে আশ্রয়গ্রহণ করেন। অথচ এই ইউনিট থেকেই শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে যাত্রা। এখানে বসেই জিয়া আস্তে আস্তে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষ নির্দেশে হত্যা করেন জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্ণেল হুদা ও কর্ণেল হায়দারকে। আগারগাঁওয়ের  ১০ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের খোলা ময়দানে পড়ে থাকে ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শেষ অস্তমিত সূর্য। 

৭ নভেম্বর, ১৯৭৫ বাংলার মাটিতে চূড়ান্ত ঘাঁটি গেড়ে বসে ৭১ এর পরাজিত শক্তি। যাদের মুখপাত্র ছিলেন খুনী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে যিনি প্রাণ নেন তার বিপদের বন্ধু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল আবু তাহের বীরউত্তমের। একে একে হত্যার শিকার হয় দুই হাজারের অধিক সামরিক বাহিনীর সদস্য, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। পুনর্বাসিত হয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, পুরস্কৃত হয় জাতির পিতার খুনীরা। রচিত হতে থাকে বাংলাদেশের জমিনে দীর্ঘ কালো অধ্যায়। 


লেখকঃ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  

পরবর্তী খবর পড়ুন : নোয়াখালীতে পকেটমারের অভিযোগে বিদ্যুতের পিলারের সাথে বেঁধে গণপিটুনি,আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি


আরও পড়ুন

পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচনী সংহিসতায় হলতা-গুলিশাখালী ইউনিয়নের জনি তালকুদার নামে ...

উপজেলা নির্বাচন আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে: হাছান মাহমুদ

উপজেলা নির্বাচন আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে: হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এবারের উপজেলা নির্বাচন আগের তুলনায় ...

মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ৫ জনের ইসলাম গ্রহণ

মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ৫ জনের ইসলাম গ্রহণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের ৫ জন ইসলাম ...

টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যানকে গুলি করলো দুর্বৃত্তরা

টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যানকে গুলি করলো দুর্বৃত্তরা

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ...

দুই দেশের সম্প্রীতির সাইকেল শোভাযাত্রার দল বাংলাদেশে

দুই দেশের সম্প্রীতির সাইকেল শোভাযাত্রার দল বাংলাদেশে

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ওয়াল্টন সম্প্রীতির সাইকেল শোভাযাত্রা ...

হাসপাতালের শুয়েই কোচিং শিক্ষকের অপর্কমের ফিরিস্তি দিলো সেই ছাত্রী!

হাসপাতালের শুয়েই কোচিং শিক্ষকের অপর্কমের ফিরিস্তি দিলো সেই ছাত্রী!

হাত-পায়ের ব্যান্ডেজ নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ১৩ বছরের ...

ভূরুঙ্গামারীর ৩ লাখ লোকের জন্য মাত্র ৩ জন চিকিৎসক

ভূরুঙ্গামারীর ৩ লাখ লোকের জন্য মাত্র ৩ জন চিকিৎসক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ৩ লাখ লোকের চিকিৎসা চলছে মাত্র তিনজন চিকিৎসক ...

যেভাবে পাবেন প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র

যেভাবে পাবেন প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র

আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের ‘সহকারী শিক্ষক’ পদে নিয়োগের লিখিত ...