• ২০ জন নিয়ে ঝটিকা মিছিল  রিজভীর, লজ্জিত ফখরুল চাইবেন ব্যাখ্যা

    ২০ জন নিয়ে ঝটিকা মিছিল রিজভীর, লজ্জিত ফখরুল চাইবেন ব্যাখ্যা

  • চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্তাদের ১১ কোটিপতি স্ত্রী

    চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্তাদের ১১ কোটিপতি স্ত্রী

  • সুবর্ণচরের ধর্ষণ ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ একই সূত্রে গাঁথা

    সুবর্ণচরের ধর্ষণ ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ একই সূত্রে গাঁথা

  • ফখরুল! বিএনপি কর্মীরাই আপনাকে পেটাবে : রিজভী

    ফখরুল! বিএনপি কর্মীরাই আপনাকে পেটাবে : রিজভী

  • ইউপি চেয়ারম্যানদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

    ইউপি চেয়ারম্যানদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরী

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া

টুঙ্গিপাড়ায় ভ্যানে ভ্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। [ফাইল ছবি]

বাংপাদেশের মাটিতে আর কোন পলেটিক্যাল রক্তপাত দেখতে চাই না। ক্ষমতায় কে আসবে বা ক্ষমতায় কে থাকবে সেটা পরের অধ্যায়।  তবে ঐক্যজোটের সাথে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পরে বা নির্বাচনের পূর্বে শেষ সংলাপের পরে বাংলাদেশের অবস্থান যেখানে আছে সেখানে কিছু সংশয় সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ ধারনা করছেন।


জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে সেটা লক্ষ করলেই দেখা যাবে মিডিয়া, বুদ্ধিজীবীর একটি নির্দিষ্ট অংশ সেটাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। লোকমুখে প্রচার পেয়েছে ড. কামাল এই ঐক্যফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল। এই প্রচারের দায়িত্ব খুব সুন্দরভাবে পালন করেছে সেই বিশেষ মিডিয়া এবং বিশেষ বুদ্ধিজীবী মহল। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের প্রথম আত্মপ্রকাশ হতে শুরু করে সংলাপের শেষ পর্যন্ত অনেকের পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে বিএনপি তার নিজের প্রয়োজনে ঐক্যফ্রন্ট তৈরি করেছে, যার সামনে রেখেছে ড. কামালকে। খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং ২১ আগস্ট মামলায় তারেক রহমানের সাজার রায় হবার পরে দিশেহারা হয়ে পড়ে বিএনপি। কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। সামনে কোন প্রকার আলো দেখতে না পেয়ে শেষ উপায় হিসাবে, একটি গণবিক্ষোভ জোরদার করতে তারা ঐক্যফ্রন্টের আদলে যাত্রা শুরু করে। বিশেষজ্ঞ মহল এবং অনেকের ধারণায় এসেছে, এই পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে তারেক রহমানের চাল। অনেকেই এই চালকে বাঁচা-মরার লড়াই হিসাবে দেখছেন। 


এই ধারণাকে আরো মজবুত করে ডা. বদরুদ্দোজা ঐক্যফ্রন্টে স্থান না পাওয়ায়। ডা. বদরুদ্দোজা জামাতকে ত্যাগ করার কথা বললে বিএনপি তার অনড় অবস্থানে থাকে এবং কৌশলী পদক্ষেপে তার শরীক দল ব্যতিরেকে ঐক্যফ্রন্টে সামিল হয়। শেষ অবধি ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সংগঠক ডা. বদরুদ্দোজাকে আর ঐক্যফ্রন্টে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। শোনা যায়, ড.কামালের বাসায় ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বসিয়ে রেখে ড. কামাল ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানের নিকট ডা. বদরুদ্দোজা আগাগোড়াই অপছন্দের ব্যক্তি। বিএনপির সময় ডা. বদরুদ্দোজাকে রাষ্ট্রপতি পদ ছেড়ে দিয়ে চলে আসতে হয়।


এই ধারনা আরো মজবুত হয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রম শুরু হবার পরেই মুখপাত্র বদল হয়ে যাওয়ায়। ঐক্যফ্রন্টের শুরুতে মাহমুদুর ররহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব মুখপাত্র হিসাবে কাজ শুরু করলেও খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সেটা পরিবর্তন হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে চলে যায়। একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, ঐক্যফ্রন্টের নেপথ্যে কারিগর ব্যারিস্টার মইনুল সাহেবের পাশে কেউ নেই এখন।  ঐক্যফ্রন্ট এতো কথা বলছে কিন্তু কোন কথার মধ্যেই ব্যারিস্টার মঈনুলের নাম নেই।  চিরকাল অতিউৎসাহী মইনুল হোসেনের এক ফোনালাপ ফাঁস হয়েই তার কপাল পুড়েছে। যে ফোনালাপে ব্যারিস্টার মঈনুলকে বলতে শোনাযায়, "তারেক রহমানকে সরাতেই আমরা ড. কামালকে নিয়ে এসেছি।”  


প্রশ্নতো থেকেই যায়, যে শিল্পের কারিগর তারেক রহমান সেই শিল্পের মধ্যে একটি ক্যু তিনি মেনে নেবেন না।


এছাড়া প্রতিটি সংলাপের পরে পদাধিকার বলে ড. কামাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও বিএনপির প্রশ্নে উত্তর দিতে দেখা গেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই। ঐ সময়ে কেন যেন মনে হয় ঐক্যফ্রন্ট আর বিএনপি এই দুয়ের সমন্বয় অতি হালকা এবং বিভাজিত। এবং এও বোঝা যায়, যদি নির্বাচনে বিএনপি ফর্ম ফিরে পায় তাহলে ড. কামালকে তাদের আর কোন দরকার নেই। হয় ড. কামালকে ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে চলে যেতে হবে বা মুখপাত্র পদ হারিয়ে আ স ম আব্দুর রবের মতো চলে যেতে হবে পিছনের কাতারে।  


সকল দিক আলোকপাত করে অনেকের ধারণা, ঐক্যজোটের আদলে বিএনপি সাধারণ মানুষের ইমোশনাল দিক নিয়ে রাজনীতি করছে।


যেহেতু বর্তমান সরকার সকল সংলাপে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে, যে অবস্থানে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার কোন অস্ত্র আর হাতে নেই সেহেতু এখন যে সময় সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সেখানে একটাই পথ তারা খুঁজে দেখার চেষ্টা করবে বলে অনেকেই মনে করছেন। সেই পথ সহিংস আন্দোলনের পথ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমাবেশে তেমনি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।  কারণ আদালতের বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে সেফ সাইডে নেবার জন্য তাদের জয় ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এই যখন সমীকরণ, তখন তারেক রহমান নিশ্চই বসে থাকবে না, এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো বিষয়ের জন্ম যে দিতে পারে তার পক্ষে যে কোন কিছুই সম্ভব এমন ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের। অপরদিকে নিবন্ধন হারিয়ে জামাত কোন দৃঢ় বিপদজনক সিদ্ধান্ত নিয়ে অপেক্ষা করবে সেটাই স্বাভাবিক। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিএনপির রাজনৈতিক মেরুকরণে তারেক রহমান জামাতের প্রতি আস্থাশীল, কৃতজ্ঞ এবং ভক্ত।  বিশেষজ্ঞ মহলের এবং সাধারণের মধ্যে এমন আশংকা প্রতি মুহূর্তে বেড়ে চলেছে।  

তাই বলা যায়, আকাশ যতটা মেঘমুক্ত দেখা যাচ্ছে বলে আওয়ামী লীগ মনে করছে, অনেকেই মনে করছেন ততোটা নাও হতে পারে।  


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা জানি আপনি মৃত্যুকে ভয় পান না, আল্লাহ্‌ অনেকবার আপনাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবুও আপনি নির্বাচনী প্রচারণা, অন্যান্য কাজের জন্য যত্রতত্র চলাচলের পূর্বে অবশ্যই শতভাগ নিশ্চিত হবেন যে, আপনি নিরাপদ।  আপনি নিশ্চই ভারতের “ইন্দিরা গান্ধী ট্রাজেডি” হতে শিক্ষা নিয়ে পথ চলবেন।  


আপনি পুনরায় ক্ষমতায় থাকবেন কি না সেটা পরের অধ্যায়। তবে দেশের সাধারণ একজন নাগরিক হিসাবে আর কোন বড় ধরনের বিপর্যয় দেখতে চাই না।  


ব্যক্তি শেখ হাসিনার বেঁচে থাকার দরকার আছে এটা একান্তই আমার অভিমত, বাংলাদেশের অভিমত। গল্পে পড়েছি, রাজার বুকের সামনে সৈন্য বুক পেতে ছুটে আসা বিষাক্ত তীর গ্রহণ করে। জীবদ্দশায় দেখেছি, ২১ আগস্টে আপনার দিকে ছুটে আসা গ্রেনেডের স্প্লিন্টার  কিভাবে এই দেশের মানুষ নিজের বুকে টেনে নিয়েছে। আপনি সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনি ইচ্ছা করলেই পারেন না বেখেয়ালে, অসতর্ক হয়ে আগুনে ঝাঁপ দিতে। আপনাকে সতর্ক থাকতেই হবে, অন্যথায় যে ধারায় বাংলাদেশ বহমান সেখান থেকে চলে যেতে পারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।  


এই দেশের সাধারণের জন্য আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে, সাবধানে থাকতে হবে, সুস্থ থাকতে হবে।  আল্লাহ আপনার সহায় থাকুন, এই দেশের মানুষের সহায় থাকুন।  


নির্বাচনে হারজিৎ থাকবে, ক্ষমতা দেয় আল্লাহ্‌, কেড়েও নেয় আল্লাহ্‌। তাই বলে আর কোন ট্রাজেডি বাংলাদেশের মাটিতে হোক সেটা কখনই চাইনা।


লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন

আরও পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দর্শনে এ কোন বাংলাদেশকে দেখছি!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দর্শনে এ কোন বাংলাদেশকে দেখছি!

আমি জানিনা কোন ভাষায় লিখলে সত্যিকারভাবে পরিবর্তিত বাংলাদেশের ছবি অঙ্কন ...

টিআইবির প্রতিবেদন ‘একপেশে’, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ : তথ্যমন্ত্রী

টিআইবির প্রতিবেদন ‘একপেশে’, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ : তথ্যমন্ত্রী

একদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টিআইবির প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ ...

অবৈধ ভর্তির অভিযোগ: ভিকারুননিসায় দুদকের অভিযান

অবৈধ ভর্তির অভিযোগ: ভিকারুননিসায় দুদকের অভিযান

অবৈধভাবে ভর্তির অভিযোগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে অভিযান চালিয়েছে ...

সৈয়দ আশরাফের আসন নিয়ে কী করবে সংসদ-ইসি?

সৈয়দ আশরাফের আসন নিয়ে কী করবে সংসদ-ইসি?

আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-১ আসন নিয়ে ...

সেই শাহনাজের চুরি যাওয়া স্কুটি উদ্ধার

সেই শাহনাজের চুরি যাওয়া স্কুটি উদ্ধার

উবার মোটোতে বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা নারী বাইকচালক শাহনাজ ...

দলীয় খরচে তৃণমূলে কার্যালয় করছে আওয়ামী লীগ

দলীয় খরচে তৃণমূলে কার্যালয় করছে আওয়ামী লীগ

যেসব জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নিজস্ব জমি ...

নওগাঁয় ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন নয়া খাদ্যমন্ত্রী

নওগাঁয় ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন নয়া খাদ্যমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন ...

‘টিআইবির প্রতিবেদন হাতে পেলে জবাব দেবে ইসি’

‘টিআইবির প্রতিবেদন হাতে পেলে জবাব দেবে ইসি’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে ...