• সামাজিক সুবিচারে শালিশ বিচারের বিকল্প গ্রাম আদালত

    সামাজিক সুবিচারে শালিশ বিচারের বিকল্প গ্রাম আদালত

  • বিএনপির আন্দোলন ঈদ নাকি বিশ্বকাপের পর ?

    বিএনপির আন্দোলন ঈদ নাকি বিশ্বকাপের পর ?

  • যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার

  • আমাদের ক্ষমতা আমাদের অধিকার||মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমাদের ক্ষমতা আমাদের অধিকার||মুহম্মদ জাফর ইকবাল

  • এবার হাটে হাঁড়ি ভাঙার হুমকি দিলো জামায়াত

    এবার হাটে হাঁড়ি ভাঙার হুমকি দিলো জামায়াত

কেউ ছাত্রলীগ হয়ে জন্মগ্রহন করে না,মানুষ হয়েই জন্মগ্রহন করে,সুতরাং

ছাত্রলীগকে প্রশ্নবিদ্ব না করে,অপরাধীর মানসিকতাকে প্রশ্ন করুন

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০১৮     আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৮

মো সাইফুর রহমান

কেউ ছাত্রলীগ হয়ে জন্মগ্রহন করে না,মানুষ হয়েই জন্মগ্রহন করে,সুতরাং ছাত্রলীগকে প্রশ্নবিদ্ব না করে,অপরাধীর মানসিকতাকে প্রশ্ন করুন।

গত ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদী উদ্যানে গনতন্ত্রের মানস কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার জনসভায় যোগদান করার লক্ষ্যে একদল আওয়ামীলীগ সমর্থকদের একটি মিছিল বাংলামটর নামক স্থানে  এক কলেজ ছাত্রী শারীরিক ভাবে হেনেস্তা করে।তার ফেসবুক সেস্টাসে সে বলে শান্তিনগরে বাসের জন্য অপেক্ষা করে বাস না পেয়ে হেটে বাংলামটর আসলে মিছিল থেকে ১৫-২০ জনের একটি দল তার চারপাশ ঘিরে দাড়াইল এবং তার গায়ে হাত দিতে শুরু করল।তাতে তার জামার বোতাম ছিরে যায় এবং তার উরনা ঝুলে গেছে।পরবর্তীতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে তাকে উদ্বার করে নিরাপদে একটি বাসে তুলে দেয়।এই ঘটনা আমাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমাদের সমাজের পুরুষদের মন মানসিকতার কতটা অবনতি ঘটেছে।

আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই,যাতে ভবিষৎ এ আমার কোনো বোন এমন পরিস্থিতির মুখমুখি না হতে হয়।


এই ঘটনা সত্যিই দু:খ জনক।৭ই মার্চের মত একটি ঐতিহাসিক দিনে এ ধরনের ঘটনার ৭ই মার্চের মহত্ত্বকে সম্মান  করে দেয়।যেখানে ইউনোস্কো এই ভাষনটি কি গুরুত্বপুর্ন দলিল হিসাবে আখ্যায়িত করেছে।কিন্তু দু:খের বিষয় এই যে এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ছাত্রলীগ কে দোষারোপ করা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ কে জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ব করতেই এক শ্রেনীর স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে আমি মনে করি।বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রক্ত দিয়ে দেশ প্রেমের ইতিহাস লেখা সাহসী সংগঠনের নাম।যে সংগঠনের নেতা কর্মীরা দেশের জন্য বুকের তাজা রক্ত রাজপথে বিলিয়ে দিয়েছে অকাতরে।এ সংগঠনের নেতা কর্মীরা মুজিব আর্দশকে আকড়ে ধরে রাজনীতি করে।বাংলাদেশ ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন যারা কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা না নিয়ে, রাষ্ট্রের যে কোনো প্রয়োজনে অতন্দ্র পহরীর মত কাজ করে দেশ ও দেশের জনসাধারনের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।ছাত্রলীগ তো শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়; মহাকালের ইতিহাস সৃষ্টিকারী একটি নাম। একটি স্বাধীন জাতির সব অর্জনের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে তার নামটি। তখন আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখণ্ডটির নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান।

বাঙালি অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকলেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আমাদের শোষণ করতে চেয়েছে বারবার। যে রাষ্ট্র গঠনে আমাদেরও ভূমিকা ছিল, রাতারাতি তারা যেন হয়ে গেল সেই রাষ্ট্রের মালিক, আমরা নগণ্য প্রজা। তাদের সীমাহীন বৈষম্যের শিকার হয়েছি আমরা। বঞ্চিত হয়েছি মৌলিক অধিকার থেকেও। সেই শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় আর শোষণের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করতে সময়ের দাবিতেই ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্রলীগ।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসমাজের ডাকা হরতালের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অবদান রাখতে শুরু করে। এর পর ১৯৫১ সালের আদমশুমারি চলাকালে সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাংলা ভাষার পক্ষে মতামত দিতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করে। এর পর ১৯৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৫৪'র যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনী প্রচারে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫৮ সালে আইয়ুবের মার্শাললর প্রতিবাদে ছাত্রলীগই প্রথম রাজপথে সোচ্চার হয়। '৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬-র ছয় দফা এবং ছাত্রলীগের ১১ দফা, অতঃপর '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী হতে ছাত্রলীগের অবদান ছিল মাইলফলক। এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ছাত্রলীগের সাড়ে ১৭ হাজার নেতাকর্মী আত্মাহুতি দিয়েছে। এই গৌরব পৃথিবীর আর কোনো  ছাত্র সংগঠনের নেই। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। পিতাহীন বাংলাদেশ বারবার গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই সময়েও ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছে। ১/১১-এর অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শত শত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।দেশব্যাপী বিএনপির আগুন সন্ত্রাস, জামায়াতের জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে সোচ্চার ছিল ছাত্রলীগ। এ ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পাহারা দিয়েছে পূজামণ্ডপ; করেছে রাস্তা মেরামতের কাজ, পরিবেশের জন্য লাগিয়েছে হাজার হাজার গাছ। দাঁড়িয়েছে বন্যার্ত, শীতার্ত মানুষের পাশে। কখনও করেছে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি আবার কখনও ছুটে গেছে কোনো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। আসলে সবসময় ভালো কিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। 


আজ পূর্ণিমার কথা কারো মনে নেই।পূর্ণিমা ও তার মায়ের আজহারি সবাই ভুলে গেছে।

আজ পর্যন্ত বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী-সমর্থককে পূর্নিমার ধর্ষকদের সমালোচনা করতে কেউ দেখেনি। কারণ ধর্ষকদের প্রত্যেকে ছিল বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জরিত।

আজ বাংলামটরে সংঘটিত ঘটনার সত্যমিথ্যা নিয়ে এখনো বিভ্রান্তি আছে, তারপরও আওয়ামী সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে,দোষীদের বিচারের দাবি করছে।আর এখানেই তাদের সাথে আওয়ামীলীগ সমর্থকদের প্রার্থক্য।

ওই কলেজ ছাত্রী আমাদের বোন।তার উপর যারা অন্যায় করেছে তাদের বিচার দেশরত্ন শেখ হাসিন করবেন।যারা তাকে "জয় বাংলা" বলে হেনেস্থা করছেন তারা কান খুলে শুনে রাখুন এই দেশ ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশ।এই দেশের প্রতিটি বালুকনায় শহীদের রক্ত মিশে আছে।

এত সহজে আমাদের কে দাবায়ে রাখতে পারবে না।

জয় বাংলা 

জয় বঙ্গবন্ধু


লেখক: মো সাইফুর রহমান , কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগ 

আরও পড়ুন

ঝিনাইদহে ভুমি দস্যুরা বেপরোয়া জাল পরচা তৈরী করে কোটি টাকার জমি রেজিষ্ট্রি খুনোখুনির আশংকা

ঝিনাইদহে ভুমি দস্যুরা বেপরোয়া জাল পরচা তৈরী করে কোটি টাকার জমি রেজিষ্ট্রি খুনোখুনির আশংকা

অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে উচ্চ মুল্যে জমি রেজিষ্ট্রির ...

যশোরে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায়  যুবলীগ নেতা  আরাফাত রহমান লিটন নিহত

যশোরে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় যুবলীগ নেতা আরাফাত রহমান লিটন নিহত

যশোরে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় ও ছুরিকাঘাতে আরাফাত রহমান লিটন (৩২) ...

কক্সবাজার সৈকতে আরাফাত'র অকাল মৃত্যু : একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না

কক্সবাজার সৈকতে আরাফাত'র অকাল মৃত্যু : একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না

আমেরিকান প্রবাসী মোহাম্মদ আলী আরাফাত সদ্য স্কলারশীপ শেষ করে মা ...

চুক্তি হওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল আমেরিকা

চুক্তি হওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল আমেরিকা

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি সই ...

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক ...

পার্কে শিক্ষার্থী গণধর্ষণের ঘটনায় ৩জনের স্বীকারোক্তি; ৭দিনের রিমান্ড আবেদন

পার্কে শিক্ষার্থী গণধর্ষণের ঘটনায় ৩জনের স্বীকারোক্তি; ৭দিনের রিমান্ড আবেদন

খাগড়াছড়িতে জেলা হর্টিকালচার পার্কে স্কুল শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আটক ৫জনের ...

সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত-আট জেলায়

সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত-আট জেলায়

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন ...

সেলফি তুলতে গিয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের পন্টুন থেকে পড়ে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সেলফি তুলতে গিয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের পন্টুন থেকে পড়ে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বেড়াতে গিয়ে পন্টুনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার সময় মেঘনা নদীতে ...