প্রতিবেশী দেশ

পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরামকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলায় বিধানসভায় বিতর্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ■ বাংলাদেশ প্রেস

ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে ফাঁসিকাঠে জীবন দেওয়া ক্ষুদিরাম বসু ও বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকীকে ভারতের সরকারি পাঠ্যবইতে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে! এই ইস্যুতে বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, এই নিয়ে গাফিলতির কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখাতে নয়া কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু থেমে নেই বিতর্ক।

বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, এই ভুল শুধরানোর জন্য আগেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তারপরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বেশ কয়েক বছর আগে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। তখন অভিযোগ ওঠে, অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একাংশকে ‘বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপরই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশে মেনে কয়েকজন ইতিহাসবিদকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি হয়। যেখানে ছিলেন ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার, সব্যসাচী ভট্টাচার্য, বিনয় ভূষণ চৌধুরী, হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুজাতা মুখোপাধ্যায়। তবে সেই কমিটিও পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুকেই অনুমোদন দেয়।

এমনকি পাঠ্যবইয়ের তথ্য প্রামাণ্য বলে জানান ইতিহাসবিদ সুগত বসু। তাই ওই তথ্যগুলো পাঠ্যবইতে রয়েই যায়।

আবার ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ বলছেন, স্বাধীনতার লড়াইয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস আন্দোলন করেন বিপ্লবীরা। সরকারি নথিতে তাদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবেই আখ্যা দেয় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই নথিই এখনো রয়ে গেছে। যার ফল এই বিতর্ক।

মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে আবারও বিষয়টি উত্থাপন করেন সিপিএম বিধায়ক প্রদীপ সাহা। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই দেখিয়ে অভিযোগের সপক্ষে যুক্তি দেন তিনি। বইটি স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও জমা দেন। এরপরই ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এটা আগেও আমাদের কাছে এসেছিল। বিশেষজ্ঞ কমিটিকে জানিয়েও তা ঠিক হয়নি। বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। দ্রুত এটা ঠিক করা হবে।”