প্রতিবেশী দেশ

  • স্কুলছাত্রসহ ৩ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমার বিজিপি

    স্কুলছাত্রসহ ৩ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমার বিজিপি

  • পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরামকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলায় বিধানসভায় বিতর্ক

    পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরামকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলায় বিধানসভায় বিতর্ক

  • মা যে ঘরে থাকেনঃ সেটি ভাড়া দিয়ে আয়ের ফন্দি সাবেক সরকারি চাকরিজীবী ছেলে ও পুত্রবধূর

    মা যে ঘরে থাকেনঃ সেটি ভাড়া দিয়ে আয়ের ফন্দি সাবেক সরকারি চাকরিজীবী ছেলে ও পুত্রবধূর

  • হাজীরা আগের মতোই বিমানে জমজমের জল আনতে পারবেন: ইয়ারইন্ডিয়া

    হাজীরা আগের মতোই বিমানে জমজমের জল আনতে পারবেন: ইয়ারইন্ডিয়া

  • পশ্চিমবঙ্গ-রাজস্থানের এমপিদেরও কিনে ফেলবে বিজেপি

    পশ্চিমবঙ্গ-রাজস্থানের এমপিদেরও কিনে ফেলবে বিজেপি

কতটুকু বস্তুনিষ্ঠ ভারতের বুথ-ফেরত সমীক্ষা?

প্রকাশ: ২২ মে ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ■ বাংলাদেশ প্রেস

ভারতে সাধারণ নির্বাচনের এক্সিট পোল বা বুথফেরত জরিপের ফল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও চরমে উঠেছে। দেশটির প্রায় প্রতিটি এক্সিট পোল নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বাধীন বিজেপি অনায়াসে জিতবে বলে পূর্বাভাস করার পর সব বিরোধী দলই একে মিথ্যা অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি টুইট করেছেন, এক্সিট পোলের ‘গুজব’ ছড়িয়ে আসলে ভোট গণনায় কারচুপিরই জমি তৈরি করা হচ্ছে।

কিন্তু ভারতের মতো এত বড় ও পুরনো গণতন্ত্রে কেন এক্সিট পোলের ওপর এই অনাস্থা?

আসলে বহু পশ্চিমা দেশেই যেটা জনমত যাচাইয়ের একটা স্বীকৃত পন্থা, সেই এক্সিট পোলের ওপর ভারতে যে নিশ্চিন্তে ভরসা করা যায় না তার অনেকগুলো কারণ আছে। ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ওপিনিয়ন’ ভারতে প্রথম এক্সিট পোল করেছিল ষাট বছরেরও বেশি আগে – ১৯৫৭ সালে দেশের দ্বিতীয় লোকসভা নির্বাচনের সময়। তখন থেকে আজ অবধি এ দেশে এক্সিট পোলের রায় কখনও সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে, কখনও আবার তা সঠিক পূর্বাভাসও করেছে।

তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে এক্সিট পোলে বিরোধীরা যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন তা প্রায় নজিরবিহীন। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ যেমন বলছেন, “এক্সিট পোলে যে পরিসংখ্যান এসেছে তা সম্পূর্ণ ভুল – আমরা কিছুতেই সেটা বিশ্বাস করতে পারছি না। এর আগেও আমরা বহুবার দেখেছি, বিজেপিকে যখনই জরিপে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।”

তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন, “এই এক্সিট পোলটা আসলে গুজব ছাড়া কিছুই নয় – আর এই গুজব ছড়িয়েই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কারচুপির গেমপ্ল্যান বা ষড়যন্ত্র ছকা হচ্ছে।”

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আবার মনে করছেন, এই এক্সিট পোলগুলো তাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশল।

কর্মীদের উদ্দেশে এক অডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, এই সব এক্সিট পোলের পর তাদের আরও বেশি সাবধান হতে হবে, স্ট্রংরুম ও ভোট গণনাকেন্দ্রগুলোতে সারাক্ষণ সতর্ক নজর ও পাহারা রাখতে হবে।

এটা ঠিকই যে ২০০৪-য়ে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে বিজেপি যে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না, কোনও এক্সিট পোলই তার আভাস পায়নি। ২০০৯তে ইউপিএ যে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে, সেটাও বলতে পারেনি কোনও পোল। আবার ২০১৪তে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির জয়ের আন্দাজ মিলেছিল এক্সিট পোল থেকেই, যদিও জেতার বহরটা বেশির ভাগ জরিপই অনুমান করতে পারেনি।

কিন্তু কেন ভারতে এক্সিট পোল আজও পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়?

দেশের নামী সেফোলজিস্ট জয় ম্রুগ পাল্টা প্রশ্ন করছেন, “তার আগে বলুন জীবনে কতবার দেখেছেন আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পূর্ণ নির্ভুল ছিল? তাও তো আবহবিদ্যায় যে পরিমাণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা, গাণিতিক মডেলিং বহু বছর ধরে হয়ে আসছে – তার ভগ্নাংশও কিন্তু ভোটের পূর্বাভাসে হয়নি। তার ওপর ভারতে ভোটারদের চরিত্র এত বৈচিত্র্যময় … এবং সবচেয়ে বড় কথা এদেশে যে ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ সিস্টেম চালু আছে তাতে কাজটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আপনি বিভিন্ন দলের শতকরা ভোটের হার সঠিকভাবে আন্দাজ করতে পারলেও তাতে কতগুলো আসন জুটবে সেটা হিসেবে করা কিন্তু খুব ঝুঁকির। একটা নাম্বার গেম, তার সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতা, পারিপার্শ্বিক জ্ঞান সব মিলিয়েই এটা করতে হয়, আর তাতে কিছু ভুলের সম্ভাবনা থেকেই যায়!”, খোলাখুলি স্বীকার করে নিচ্ছেন তিনি।

কিন্তু এক্সিট পোলগুলো কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতপূর্ণ, এমনটা মনে করার কি কোনও কারণ আছে?

সেফোলজিস্ট থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া যোগেন্দ্র যাদব সে কথা মনে করেন না। তার মতে, “এক্সিট পোল নিয়ে ভারতের এত বছরের অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে সচরাচর তারা ভোটের গতিপ্রকৃতির সঠিক দিশাটা দেখাতে পারে। সব পোল যদি বলে অমুক পার্টিই জিতবে, তাহলে দেখা যায় সেই পার্টিই কিন্তু জেতে – যদিও জয়ের বা পরাজয়ের মার্জিনটা এক্সিট পোল সব সময় ঠিক বলতে পারে না। কিন্তু একতরফা ভোট হলে বেশির ভাগ সময় জয়ী দলের জয়ের ব্যবধান এক্সিট পোলের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হয়ে থাকে।”

ফলে ভারতে বিশেষজ্ঞরা এ কথা মানতে নারাজ যে এ দেশের এক্সিট পোলের কোনও বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা নেই।

যদিও এই মুহুর্তে অন্তত দেশের বিরোধী রাজনীতিবিদরা তাদের মতামতকে কোনও দাম দিচ্ছেন না – তারা অপেক্ষা করছেন ২৩শে মে আসল ভোট গণনার দিন পর্যন্ত।

পরবর্তী খবর পড়ুন : নুহাশের তৈরি বিজ্ঞাপন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক


আরও পড়ুন

মাননীয় প্রশাসন মনে হয় ধর্মান্ধতা মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে

মাননীয় প্রশাসন মনে হয় ধর্মান্ধতা মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে

ভারত তাদের ধর্মান্ধতা সমুন্নত রাখতে মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। মানুষের ...

লর্ড ক্লাইভ থেকে লর্ড কার্লাইল,কালের আয়নায়

লর্ড ক্লাইভ থেকে লর্ড কার্লাইল,কালের আয়নায়

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মাননীয় সদস্য, বিশিষ্ট আইনজীবী লর্ড কার্লাইল ভিসা নিয়ে ...

বর্ষার শুরুতেই যমুনার পূর্বপাড়ে তীব্র ভাঙন, হুমকির মুখে যমুনা রক্ষা বাঁধ

বর্ষার শুরুতেই যমুনার পূর্বপাড়ে তীব্র ভাঙন, হুমকির মুখে যমুনা রক্ষা বাঁধ

বর্ষার শুরুতেই যমুনা নদীর পূর্বপাড়ের টাঙ্গাইল অংশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় ...

শিল্পকলা পদক ২০১৮’ পেলেন দেশের সাত গুণীজন

শিল্পকলা পদক ২০১৮’ পেলেন দেশের সাত গুণীজন

জাতির প্রতিটি সংগ্রাম, আন্দোলন ও অর্জনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন এদেশের ...

চরফ্যাসনে ভিক্ষুক পুর্ণবাসন প্রকল্পের ২৭ লক্ষ টাকা ফাইলবন্দী

চরফ্যাসনে ভিক্ষুক পুর্ণবাসন প্রকল্পের ২৭ লক্ষ টাকা ফাইলবন্দী

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় ভিক্ষুক পুর্ণবাসন প্রকল্পের ২৭ লাখ ১ হাজার ...

সোনারগাঁয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার, রামদা ও চাপাতি উদ্ধার

সোনারগাঁয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার, রামদা ও চাপাতি উদ্ধার

নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে ...

এরশাদকে রংপুরের পল্লী নিবাসেই দাফন করা হয়েছে

এরশাদকে রংপুরের পল্লী নিবাসেই দাফন করা হয়েছে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরের পল্লী নিবাসেই দাফন ...

মির্জাপুর পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত

মির্জাপুর পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। ...