শিল্প ও সাহিত্য

অপূর্ণতা.......

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

সাহিত্য ডেস্ক ■ বাংলাদেশ প্রেস

ভার্সিটির গেইট থেকে বের হতে গিয়ে এক যুবকের সাথে ধাক্কা খেয়ে আমার হাতে রাখা সব পেপার্স গুলো ছিটকে পড়ে যায়। অন্ধ নাকি? দেখে চলতে পারেন না, যেই বলতে যাবো ওর দিকে তাকিয়ে আমি অবাক হয়ে যাই। কি সুন্দর! প্রথম দেখাতেই আমি তার প্রেমে পড়ে গেলাম। আমি ভাবলাম সে সরি বলবে। কিন্তু না, আমাকে অবাক করে দিয়ে সে গেইট দিয়ে বের হয়ে গেল। আমি তার পথপানে চেয়ে রইলাম। পরদিন থেকে আমার অভিযান শুরু, আমি শহরের সমস্ত অলিগলি খুজে তাকে বের করলাম।ওর ওই মায়াবী চোখের খুব গভীরে তাকিয়ে "ভালোবাসি"  বলেই পেললাম। যত দিন যেতে লাগল,,তাকে ভালোবাসার কারন ও বাড়তে লাগল। সে খুব শান্ত, ধীর আর প্রকৃতি মনা।

সুযোগ পেলেই আমি তার হাত ছুঁয়ে দিতাম। ওর লুকোচুরি চোখের চাহনিতে তাকিয়ে দেখতাম, সে কাঁপছে,, ভিষন ভাবে কাঁপছে। তাকে ভালোবাসার কারনগুলো এত বেড়ে যেতে লাগল যে,,আমি কেমিস্ট্রি বইয়ের সমস্ত জটিল রিয়াকশন ফিগারে তাকে খুজে পেতাম।আমি পাগল থেকে পাগলতর ভাবে তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।

শেষমেশ পৃথিবীর সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি তাকে বিয়ে করে পেললাম। বেকার মানুষের সংসার।দিনদিন বাড়তে লাগল অভাব অভিযোগ। আমি কঠিন হাতে ছোট্ট চড়ুই সংসারের হাল ধরলাম।

প্রেমের শুরুতে যেমন কোন কারন ছাড়াই ভালোবাসা বাড়ল, সংসার জিবনেও কারন ছাড়াই অভাব অভিযোগ বাড়তে লাগল।

সমস্ত অভাব অভিযোগ কে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে আমি এগুতে থাকলাম, আমার সংসারে যোগ হল আমার নতুন অতিথি,,আমার শ্রেয়ান।আমি সব কিছু ভুলে গেলাম।ওর হাসিতে হাসতাম। ওর কান্নায় আমিও কেঁদে দিতাম।

আজ তিন বছর নয় মাস সতেরো দিন পর.....

নওশাদ আমায় একা করে দিয়ে ওপারে চলে গেল।বড্ড অবেলায় সে আমার হাত চেড়ে দিল। আমি একা হয়ে গেলাম। আমি কাঁদতেও পারিনা। আটাশ বছর ৪ মাস সতেরো দিন বয়সে শরীরে সাদা থান আমায় ভিষন যন্ত্রনা দেয়। প্রতি রাতেই আমি হারিয়ে যাই,,হারাতে থাকি চৈতন্যের ঘুর্নিপাকে।


লেখকঃ মালিহা পারভিন