শিল্প ও সাহিত্য

“মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ” কারো হাতে জিম্মি থাকতে পারেনা

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

মহান মুক্তিযুদ্ধ’সহ দেশমাতৃকার প্রয়োজনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর ছায়াতলে বাস করা কতিপয় খুনির নির্মমপ্রহারে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১১ জন বুদ্ধিজীবী। সেই সঙ্গে তারা বিবৃতিতে-সা¤প্রতিক সময়ে যুবলীগ নামক যুব সংগঠনের সামজিক অনাচার, মাদক ব্যবসা ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে গভীর হতাশা ও ক্ষুব্ধতা ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন- কারো হাতে “মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ” জিম্মি থাকতে পারেনা।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিবৃতিদাতাদের পক্ষে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দেশের স্বনামখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ। এই বিবৃতি প্রদানে যুক্ত আছেন-জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কবি-সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ  হাসান ইমাম, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, সরোয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, লেখক ও গবেষক মফিদুল হক এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

বিবৃতিতে তারা বলেছেন-‘‘এক গভীর উৎকন্ঠা ও অসীম বেদনায় নিমজ্জিত আজ পুরো জাতি। বুয়েট শিক্ষায়তনে সহপাঠি আবরার ফাহাদকে একদল ছাত্রলীগ কর্মী কতৃক নির্মমভাবে হত্যা; সা¤প্রতিক সময়ে যুবলীগ নামক যুব সংগঠনের সামজিক অনাচার, মাদক ব্যবসা ও দূর্নীতির অবিশ্বাস্য নিদর্শন আমাদের দারুনভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান প্রতিষ্ঠিত ছাত্র ও যুব সংগঠনের এ বিপথগামীতা আমাদের হতাশ ও ব্যথিত করে।

সা¤প্রতিক সময়ের ঘটনা সমূহ প্রমাণ করে রাজনৈতিক দলের আদর্শ বিহীন দেউলিয়া চরিত্র। আমাদের রাজনৈতিক দল সমূহ সম্পূণরূপে ব্যর্থ তাদের ছাত্র, যুব ও দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে। শুধু তাই নয়, কোন প্রকার আদর্শের ভিত্তিতে দল ও অঙ্গ সংগঠন পরিচালনা না করে শুধু পেশী শক্তি-নির্ভর দল গঠন ও পরিচালনা কি ভয়াবহ পরিণতি আনয়ন করে তা আজ সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আবরার হত্যার শুধুমাত্র দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির মাঝে আমাদের এ ভয়াবহ সংকট নিরসন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করিনা। আমরা মনে করি মানবিক মূল্যবোধের যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আজ জাতিকে গ্রাস করেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকার, শাসক দল ও সকল রাজনৈতিক দলকে নিজ নিজ দল, অঙ্গ সংগঠন, সরকার ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীল-সংস্কৃতির বীজ উপ্ত করতে হবে। বিশেষকরে সরকার ও সরকারী দলকে এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় জাতি এক ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হবে।

কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল আদর্শহীন যুব ও ছাত্র সংগঠনের হাতে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ জিম্মি থাকতে পারেনা। আমরা অতিদ্রæত এই সংকট থেকে জাতি ও দেশকে রক্ষা করতে সরকারের আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি। একইসাথে জনগনকে সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।”